স্বামীর হাত-পা বেঁধে স্ত্রীকে কুপিয়ে হত্যা

বরিশালের বাবুগঞ্জে এক গৃহবধূকে গলা কেটে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। গত সোমবার রাত দেড়টার দিকে দেহেরগতি ইউনিয়নের রাকুদিয়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। পরিবারের লোকজন ঘটনাটিকে ডাকাতি বলে উল্লেখ করলেও পুলিশের ধারণা, এটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড।

নিহত মারুফা বেগম (৩০) রাকুদিয়া গ্রামের বাসিন্দা রড-সিমেন্টের ব্যবসায়ী ও উপজেলা যুবদলের সাংগঠনিক সম্পাদক মিলন খানের স্ত্রী। এ দম্পতির আট ও চার বছর বয়সী দুই ছেলে রয়েছে।

ঘটনার পর থেকে মিলন খান (৪১) বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন।

তার বড় ভাই সবুজ খান সাংবাদিকদের জানান, রাত দেড়টার দিকে বাসার কলাপসিবল গেট ভেঙে ডাকাত দল ভেতরে ঢোকে। বাসায় থাকা আড়াই লাখ টাকা ও তিন ভরি ওজনের স্বর্ণালংকার লুট করার সময় মারুফা ডাকাতদের বাধা দেয়। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে ডাকাতরা গলা কেটে তাকে হত্যা করে। স্ত্রীকে রক্ষা করতে মিলন এগিয়ে গেলে তাকেও কুপিয়ে জখম করা হয়। বিষয়টি টের পেয়ে গিয়ে দেখতে পান, মারুফা মেঝেতে রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে রয়েছে। আর তার ভাইয়ের মুখ কাপড় দিয়ে এবং হাত ও পা রশি দিয়ে খাটের সঙ্গে বাঁধা রয়েছে।

এটা ডাকাতি না পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড তা জানতে চাইলে সবুজ বলেন, ‘এটা তো ডাকাতিই মনে হচ্ছে। সবকিছু ভাইঙা, চুইরা নিয়া গেছে তারা।’

তবে গৃহবধূ মারুফাকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে বলে ধারণা বাবুগঞ্জ থানার ওসি মাহাবুবুর রহমানের। তিনি বলেন, ‘ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের চিহ্নিত করে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। পাশাপাশি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন মিলনও পুলিশের নজরদারিতে রয়েছেন।’

দেহেরগতি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মশিউর রহমান বলেন, ‘কী কারণে এমন ঘটনা ঘটেছে তা এখনই নিশ্চিতভাবে বলা যাচ্ছে না। ঘটনার পরপরই ওই বাড়ির কলাপসিবল গেট ও যে কক্ষে ঘটনা ঘটেছে তার দরজা খোলা পাওয়া গেছে।’

পারিবারিক বিরোধের জেরেও মারুফাকে হত্যা করা হয়ে থাকতে বলে ধারণা পুলিশের। এ প্রসঙ্গে বরিশাল জেলার পুলিশ সুপার ওয়াহিদুল ইসলাম বলেন, ‘পারিবারিক বিরোধ ছিল। সেই জেরেও এ ঘটনা ঘটতে পারে। আমাদের তদন্ত চলছে, তদন্ত শেষ হলে নিশ্চিতভাবে সবকিছু বলা যাবে।’