জাতীয় সংসদের স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সংগ্রামী জীবন থেকে সবাইকে শিক্ষা নেওয়া উচিত। শুরু থেকে এখন পর্যন্ত তিনি মানুষের জন্য সংগ্রাম করে যাচ্ছেন। তাকে নিয়ে লেখা ‘শেখ হাসিনা : সংগ্রামী জীবন’ বইটি থেকে অজানা তথ্য জানা যাবে। কেননা একেকজন একেকভাবে ওনাকে দেখেছেন এবং লিখেছেন। ফলে লেখাগুলোর মধ্যে ভিন্নতা আছে।
গতকাল মঙ্গলবার পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী ড. শামসুল আলম সম্পাদিত ‘শেখ হাসিনা : সংগ্রামী জীবন’ বইটির মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। রাজধানীর জাতীয় সংসদের এলডি হলে আয়োজিত অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ড. শামসুল আলম।
ড. শিরীন শারমিন বলেন, বইটির নামকরণ সবচেয়ে বেশি সার্থক হয়েছে। সংগ্রামের সঙ্গেই শেখ হাসিনা মিশে আছেন; যা অন্য কোনো নেতার মধ্যে কতটুকু মিলবে, সেটি বলা যায় না। টুঙ্গিপাড়ার সেই ছোট্ট বালিকা থেকে এখনো তিনি সংগ্রাম করে যাচ্ছেন।
তিনি বলেন, বঙ্গমাতা ও বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের মতো আদর্শবান মানুষের ঘরে জন্ম নিয়েছেন তিনি। তাদের ঘরের দরজা সব সময় খোলা থাকত সাধারণ মানুষের জন্য। সবাই আসতেন অনেক সময় না খেয়ে যেতেন না। সেখান থেকেই মানুষের প্রতি অকৃত্রিম ভালোবাসার শিক্ষা পেয়েছিলেন তিনি। সবাইকে আপন করে নেওয়ার মতো বৃহৎ হৃদয় আছে তার। একটি আদর্শ পরিবার থেকে উঠে আসায় পরে তার ব্যক্তি ও রাজনৈতিক জীবনে সেই প্রভাব দেখা যায়।
স্পিকার বলেন, বঙ্গবন্ধু অনেকটা সময় জেলে থেকেছেন। সংগ্রাম করে তাকে বের করে আনা হতো। আবার জেলে যেতেন। ফলে তাকে অনেক সময় কাছে পাননি পরিবারের সদস্যরা। এভাবে ব্যক্তিজীবনেও নানা সংগ্রাম করতে হয়েছে শেখ হাসিনাকে। শেষ পর্যন্ত সংগ্রামী জীবনের মূল ব্যক্তি হিসেবে দাঁড়িয়ে আছেন তিনি।
স্পিকার আরও বলেন, রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব নিয়ে তিনি যুদ্ধাপরাধীদের বিচার করে দেশে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করেছেন। সেখানেও অনেক সংগ্রাম করতে হয়েছে ওনাকে। দেশকে ’৭২ সালের সংবিধানে ফিরিয়ে নিয়ে যেতেও সংগ্রাম করতে হয়। ক্ষুধা, দারিদ্র্য থেকে দেশের মানুষকে মুক্তি দিতেও সংগ্রাম করে যাচ্ছেন তিনি। তাই বলা যায় তার জীবনটাই সংগ্রামের মধ্য দিয়ে চলমান।
অনুষ্ঠানে প্রধান আলোচক ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক। পুস্তক পর্যালোচনা করেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের চেয়ারম্যান ড. মিল্টন বিশ্বাস।
ড. শামসুল আলম জানান, এ বইটি হচ্ছে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সংগ্রামী জীবনের নানা দিক নিয়ে লেখা। এবার আরেকটি নতুন বই সম্পাদনা করা হচ্ছে। সেটি হবে শেখ হাসিনার মাধ্যমে দেশের অর্থনৈতিক রূপান্তর; অর্থাৎ গত ১৪ বছরে দেশের আর্থসামাজিক ক্ষেত্রে তিনি কী কী পরিবর্তন ও উন্নয়ন ঘটিয়েছেন, সেসব বিষয় তুলে ধরা হবে। এ ছাড়া ‘শেখ হাসিনা : সংগ্রামী জীবন’ বইটি তিনি স্কুল ও কলেজ পর্যায়ে শিক্ষার্থীদের জন্য ছড়িয়ে দেওয়ার প্রয়োজন বলে তাগিদ দিয়েছেন।