নির্বিঘ্ন সামুদ্র অর্থনীতি, থমকে থাকা রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন-প্রক্রিয়া, ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধ এমন সব গুরুত্বপূর্ণ আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক ইস্যু সামনে রেখে আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা সংহত করতে ঢাকায় শুরু হয়েছে তিন দিনব্যাপী ইন্ডিয়ান ওশান রিম অ্যাসোসিয়েশনের (আইওরা) সম্মেলন।
গতকাল মঙ্গলবার শুরু হওয়া সম্মেলনে কর্মকর্তা পর্যায়ের আলোচনা চলবে আজও। আগামীকাল শুরু হবে মন্ত্রীদের সম্মেলন। ২৩টি সদস্য দেশ থেকে
১৬টি দেশের মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীসহ ১৩৪ জন প্রতিনিধি সম্মেলনে অংশ নিচ্ছেন। ডায়ালগ পার্টনার হিসেবে জাপান, যুক্তরাষ্ট্র, চীন, যুক্তরাজ্য, রাশিয়াসহ গুরুত্বপূর্ণ আরও ১০ দেশের প্রতিনিধিরা রয়েছেন।
ভারত মহাসাগরপাড়ের ২৩টি সদস্য রাষ্ট্র নিয়ে গঠিত এ অঞ্চলের সবচেয়ে বড় প্ল্যাটফর্ম ‘ইন্ডিয়ান ওশান রিম অ্যাসোসিয়েশন-আইওআরএ’র বর্তমান সভাপতি বাংলাদেশ। ১৯৯৭ সালে আইওআরএ প্রতিষ্ঠিত হলেও ২৫ বছরের ইতিহাসে এই প্রথম সভাপতির দায়িত্ব পালন করছে বাংলাদেশ।
২০২১ সালের ১৭ নভেম্বর বাংলাদেশকে ২০২১-২৩ মেয়াদে দুই বছরের জন্য এই ‘সামুদ্র জোট’-এর সভাপতি নির্বাচন করা হয়।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মেরিটাইম অ্যাফেয়ার্স ইউনিটের সচিব রিয়ার অ্যাডমিরাল (অব.) মো. খুরশেদ আলম বলেছেন, ‘সম্মেলনে, প্যানেল আলোচনায়, বিভিন্ন অধিবেশনে ও পাশর্^-বৈঠকেও বারডেন ইস্যু হিসেবে রোহিঙ্গা সংকটের বিষয়টি তুলে ধরার পাশাপাশি প্রত্যাবাসন-প্রক্রিয়া শুরু করতে মিয়ানমারের স্থিতিশীলতার প্রতি জোর দিচ্ছে ঢাকা।’
ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধ পরিস্থিতিতে বৈশ্বিকভাবে যে জ্বালানি ও খাদ্যসংকট তৈরি হয়েছে, সেই বিষয়টিও আলোচনায় থাকছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘সাপ্লাই চেইনে বাধা, ট্রেড লজিস্টিকসের ক্রমবর্ধমান ব্যয়, বেসরকারি খাতে বিনিয়োগ হ্রাস, অর্থনৈতিক স্থবিরতা ও মুদ্রাস্ফীতির চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার সম্ভাব্য উপায় নিয়ে আলোচনা হচ্ছে।’
আইওআরএ মূলত দুর্যোগঝুঁকি ব্যবস্থাপনা, পর্যটন ও সংস্কৃতি, সামুদ্র নিরাপত্তা, মৎস্য ব্যবস্থাপনা, বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সুবিধা, অ্যাকাডেমিক এবং বৈজ্ঞানিক ও প্রযুক্তিগত সহযোগিতা, ব্লু-ইকোনমি ও উইমেনস ইকোনমিক এমপাওয়ারমেন্ট নিয়ে কাজ করে থাকে।
সরকারের দায়িত্বশীল সূত্র বলেছে, করোনা পরিস্থিতিতে সৃষ্ট অর্থনৈতিক ক্ষতি কাটিয়ে ওঠা প্রসঙ্গ ও আঞ্চলিক নিরাপত্তার বিষয়গুলো এবারের আলোচনায় স্থান পাচ্ছে। অবাধ, উন্মুক্ত, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও ঝুঁকিসহিষ্ণু ভারত মহাসাগরীয় অঞ্চল বিনির্মাণবিষয়ক উদ্যোগও গুরুত্বের সঙ্গে আলোচিত হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের কৌশলগত সহযোগিতার উদ্যোগ ইন্দো-প্যাসিফিক স্ট্র্যাটেজি (আইপিএস) বা ইন্দো-প্যাসিফিক ভিশন (আইপিভি), ভারত ও প্রশান্ত মহাসাগরে নৌ চলাচলে যুক্তরাষ্ট্র, জাপান, অস্ট্রেলিয়া ও ভারতের সমন্বয়ে গঠিত ‘কোয়াড’-এর আলোচনাও বাদ পড়বে না।