ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলের সম্পদ রক্ষায় ঐক্যবদ্ধ আইওআরএ

ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলের সম্পদ রক্ষায় ঐক্যবদ্ধ থাকতে একমত হয়েছে ইন্ডিয়ান ওশান রিম অ্যাসোসিয়েশনের (আইওআরএ) জোটভুক্ত দেশগুলো। এছাড়া জলবায়ু পরিবর্তনের নতুন চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায়ও এ জোট শক্তিশালী ভূমিকা রাখতে চায়।

গতকাল বৃহস্পতিবার ঢাকায় অনুষ্ঠিত আইওআরএ সম্মেলন শেষে এক সংবাদ সম্মেলনে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আবদুল মোমেন এ কথা বলেন।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলের সম্পদ লুট করতে তৎপর বিভিন্ন গোষ্ঠী। এই অঞ্চলের সম্পদ যাতে বেহাত না হয় এবং এই সম্পদ আহরণ যাতে টেকসই হয় সেজন্য যথাযথ পদক্ষেপ নিতে ঐকমত্যে পৌঁছেছে আইওআরএ জোটভুক্ত দেশগুলো। পাশাপাশি এখন থেকে এই জোটে জলবায়ু পরিবর্তনজনিত বিষয় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, ‘এই অঞ্চলের যোগাযোগ ব্যবস্থা এক দলের হাত থেকে আরেক দলের নেওয়ার অনেক প্রচেষ্টা চলছে। তাই আমরা আজকের বৈঠকে নিরাপদ উন্মুক্ত ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠা ইস্যুতে একমত হয়েছি। যাতে অবৈধ মাছ আহরণ, সমুদ্রে দস্যুগিরিসহ বেআইনি কাজকর্ম বন্ধ করা যায়।’

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মেরিটাইম অ্যাফেয়ার্সের সচিব রিয়ার অ্যাডমিরাল (অব.) মো. খুরশেদ আলম জানান, সম্মেলনে আটটি বিষয়ে ফোকাস করা হয়েছে। এগুলো হলোথ সমুদ্র নিরাপত্তা, সমুদ্র বাণিজ্য, দুর্যোগ প্রতিরোধ, মৎস্য ব্যবস্থাপনা, ট্যুরিজম, ব্লু-ইকোনমি ইত্যাদি। এছাড়া ক্লাইমেট চেঞ্জ বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত করতে নতুন প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। আইওআরএর পর্যবেক্ষক দেশ হিসেবে সৌদি আরবের নাম প্রস্তাব করা হয়েছে।

সমুদ্র নিরাপত্তা, সমুদ্র বাণিজ্য, দুর্যোগ প্রতিরোধ, মৎস্য ব্যবস্থাপনা, পর্যটন, নীল অর্থনীতি ইত্যাদি ইস্যুতে পারস্পরিক সম্পর্ক বাড়াতে গত ২২ নভেম্বর থেকে গতকাল বৃহস্পতিবার পর্যন্ত ঢাকায় অনুষ্ঠিত হয় ভারত মহাসাগরের উপকূলীয় দেশগুলোর সহযোগিতা সংস্থা ইন্ডিয়ান ওশান রিম অ্যাসোসিয়েশনের (আইওআরএ) মন্ত্রিপর্যায়ের সম্মেলন। এ সম্মেলনে ১৬ দেশের মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীসহ ১৪১ জন বিদেশি প্রতিনিধি অংশ নেন। যার মধ্যে ইন্দোনেশিয়া, অস্ট্রেলিয়া, ভারত, মাদাগাস্কার, দক্ষিণ আফ্রিকা, সোমালিয়া, ইয়েমেন, মালদ্বীপ, জাপান, মরিশাস ও তানজানিয়া প্রভৃতি দেশ রয়েছে।