প্রধানমন্ত্রীর জাপান সফর পিছিয়েছে

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার জাপান সফর পিছিয়েছে। আগামী ২৯ নভেম্বর তিন দিনের রাষ্ট্রীয় সফরের সবকিছু ঠিকঠাক থাকলেও দেশটিতে কভিড পরিস্থিতির অবনতি ও রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে এই সফর আপাতত হচ্ছে না। গতকাল বৃহস্পতিবার ভারত মহাসাগরীয় দেশগুলোর সহযোগিতা জোটের (আইওআরএ) মন্ত্রী পর্যায়ের সম্মেলনের ফাঁকে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম এ তথ্য নিশ্চিত করেন। সম্মেলন শেষে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. মোমেনও বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, বাংলাদেশ পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে।

ড. মোমেন বলেন, ‘জাপানের তিন তিনজন মন্ত্রী পদত্যাগ করেছেন। জাপানের প্রধানমন্ত্রী আরও কিছু প্রশ্নের সম্মুখীন হবেন। আমরা পর্যবেক্ষণ করছি। তারা আমাদের দাওয়াত দিয়েছেন। এ সময়ে তাদের নিজেদের ঘরে যদি সমস্যা থাকে... এ জন্য আমরা পর্যবেক্ষণ করছি। এ অবস্থায় থাকলে আমাদের যে লক্ষ্য সেগুলো কীভাবে অর্জিত হবে? সেসব বিবেচনায় আমরাই চিন্তা-ভাবনা করছি সফরের বিষয়ে।’

পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, জাপানে এখনো কভিড। সবাইকে কোয়ারেন্টাইন করতে হয়। শুধু কোয়ারেন্টাইনই করতে হয় না, অনেক বিধিনিষেধ আছে। প্রধানমন্ত্রী গেলে বিরাট সমাগম হয়। ব্যবসায়ী মহল, এই মহল-ওই মহল। একাধিক বিবেচনায় এ ধরনের সিদ্ধান্ত।

 এর আগে গতকাল বিকালে আইওআরএ মন্ত্রী পর্যায়ের সম্মেলনের ফাঁকে জাপানের পররাষ্ট্র বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী তাকেই শুনসোক শাহরিয়ার আলমের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন। সাক্ষাৎ শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে প্রধানমন্ত্রীর সফর নিয়ে কথা বলেন প্রতিমন্ত্রী। শাহরিয়ার আলম বলেন, ‘আমরা এখনো প্রধানমন্ত্রীর জাপান সফরে আনুষ্ঠানিক দিনক্ষণ ঘোষণা করিনি, তবে অন্য যেখান থেকে তারিখটা শুনেছিলেন, সেই তারিখে সফরটা হচ্ছে না। সুবিধা-অসুবিধা সবারই থাকে। দুই দেশই নতুন তারিখ খুঁজে নেবে।’

জাপানের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শোনসুকে তাকেই বলেন, ‘একটি নতুন তারিখে সফরটি হবে। দুই দেশ এটা নিয়ে কাজ করছে। কেননা এ ধরনের উচ্চ পর্যায়ের সফর দুটি দেশের পারস্পরিক সম্পর্ককে অনেক দূরে এগিয়ে নেয়।’

এর আগে প্রধানমন্ত্রীর জাপান সফরের প্রস্তুতি নিয়ে আলোচনা করতে জাপানের সহকারী মন্ত্রী দুদিনের সফরে অক্টোবরে বাংলাদেশে আসেন। তিনি ২৭ অক্টোবর সকালে পররাষ্ট্র সচিব রাষ্ট্রদূত মাসুদ বিন মোমেনের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। ওইদিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন বলেছিলেন, নভেম্বরের শেষে জাপানে যাবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। আর পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, জাপানের প্রধানমন্ত্রী ফুমিও কিশিদার আমন্ত্রণে ২৯ নভেম্বর থেকে আগামী ১ ডিসেম্বর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জাপান সফর করবেন। এ সফরে বাংলাদেশ ও জাপান দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ককে ‘কৌশলগত অংশীদারত্ব’ পর্যায়ে উন্নীত করবে বলে আশা করা হচ্ছে।

পররাষ্ট্র সচিবের সঙ্গে অনুষ্ঠিত ওই বৈঠকে ও উভয়পক্ষ দুই বন্ধুপ্রতিম দেশের মধ্যে সম্পর্ক অব্যাহতভাবে বৃদ্ধি পাওয়ায় সন্তোষ প্রকাশ করা হয়। এতে ২০১৪ সালের মে মাসে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার জাপান সফরের বিষয়ে আলোকপাত করা হয়। ওই সফরকালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও জাপানের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শিনজো আবে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ককে ‘কমপ্রিহেনসিভ পার্টনারশিপ’ পর্যায়ে উন্নীত করেছিলেন। ২০১৪ সালের সেপ্টেম্বরে জাপানের প্রধানমন্ত্রী শিনজো আবে বাংলাদেশ সফর করেছিলেন। ওই সময়ে দুই দেশ ‘বিগ-বি’-এর অধীনে অর্থনৈতিক অংশীদারত্বকে আরও গভীর করার সংকল্প ব্যক্ত করা হয়েছিল। জাপানের সহকারী মন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন যে, দুদেশের সম্পর্কের ৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার জাপান সফর দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের ইতিহাসে মাইলফলক হয়ে থাকবে। উভয়পক্ষ আশা করে যে, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আসন্ন জাপান সফরকালে উন্নয়ন সহযোগিতা, বাণিজ্য ও বিনিয়োগ, মানবসম্পদ উন্নয়ন, কৃষি, তথ্যপ্রযুক্তি, শিক্ষা, প্রতিরক্ষা সংলাপ ও বিনিময়, জনগণের পর্যায়ে যোগাযোগ, রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে অংশীদারত্ব আরও জোরদার করবে।

জলবায়ু পরিবর্তন, জাতিসংঘ সংস্কার, নিরস্ত্রীকরণ ও পরমাণু অস্ত্রের বিস্তার রোধসহ আন্তর্জাতিক ফোরামেও উভয় দেশ একসঙ্গে কাজ করবে।