বিভিন্ন ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়ে খেলাপি হওয়া প্রভাবশালী ব্যক্তিরা আইনের ঊর্ধ্বে কি না, দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) শুধু চুনোপুঁটি ধরছে কি না এ প্রশ্ন রেখেছে উচ্চ আদালত। শাহজালাল ইসলামী ব্যাংক থেকে বিসমিল্লাহ গ্রুপের ঋণ জালিয়াতির মামলায় দুই আসামিকে বিচারিক আদালতের দেওয়া জামিন বাতিল প্রশ্নে রুল শুনানিতে দুদকের প্রতি উষ্মা প্রকাশ করে এমন প্রশ্ন রাখে হাইকোর্ট।
বিচারপতি মো. নজরুল ইসলাম তালুকদার ও বিচারপতি খিজির হায়াতের হাইকোর্ট বেঞ্চ এ বিষয়ে পরবর্তী শুনানির জন্য আগামী ৪ ডিসেম্বর দিন ধার্য করেছে। শাহজালাল ইসলামী ব্যাংক থেকে ১১০ কোটি টাকা ঋণ নিয়ে আত্মসাতের অভিযোগে ২০১৩ সালের ২৯ মার্চ বিসমিল্লাহ গ্রুপের এমডি (ব্যবস্থাপনা পরিচালক) খাজা সোলায়মান আনোয়ার চৌধুরীসহ ১২ জনের বিরুদ্ধে রাজধানীর রমনা থানায় মামলা হয়। এ মামলায় ২০১৫ সালের ২৯ অক্টোবর খাজা সোলায়মান, ব্যাংকের সাবেক ডেপুটি ম্যানেজার এএসএম হাসানুল কবীর ও জুনিয়র অ্যাসিস্ট্যান্ট ভাইস প্রেসিডেন্ট মান্নাতুল মাওয়াসহ ১৪ জনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দেয় দুদক। ২০১৭ সালের ১৭ অক্টোবর বিচারিক আদালত থেকে দুজন জামিন পান। জামিনের এ আদেশ বাতিল চেয়ে হাইকোর্টে রিভিশন আবেদন করে দুদক। শুনানি শেষে ২০১৮ সালের ৮ জানুয়ারি জামিন বাতিল প্রশ্নে রুল দেয় হাইকোর্ট। গতকাল সেই রুলের ওপর শুনানি শুরু হয়।
আদালতে দুদকের পক্ষে শুনানিতে ছিলেন আইনজীবী এম এ আজিজ খান ও মো. খুরশীদ আলম খান। আসামিপক্ষে ছিলেন আইনজীবী মো. জিয়াউল হক। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল একেএম আমিন উদ্দিন মানিক।
শুনানিকালে দুদকের আইনজীবীদের উদ্দেশে হাইকোর্ট বলে, ‘২০১৩ সালের মামলায় চার্জশিট হয়েছে ২০১৫ সালে। আবারও তদন্তের নির্দেশ দিয়েছিল হাইকোর্ট। কেন এখনো তদন্ত শেষ হচ্ছে না?’ আদালত আরও বলে, ‘যারা অর্থশালী পাওয়ারফুল তারা কি বিচারের ঊর্ধ্বে? ধরা-ছোঁয়ার বাইরে? আপনারা কি চুনোপুঁটি ধরবেন? আপনারা বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে নিতে দুদক চেয়ারম্যানকে বলবেন। কেন এ মামলাগুলো শেষ হচ্ছে না? কেন তদন্ত প্রতিবেদন দেওয়া হচ্ছে না?’
দুদকের আইনজীবী খুরশীদ আলম খান আদালতকে বলেন, বিসমিল্লাহ গ্রুপের এমডির অন্য একটি মামলায় সাজা হয়েছে। তিনি পলাতক। তার বিষয়ে ইন্টারপোলের রেড নোটিস রয়েছে। এ মামলার সর্বশেষ হালনাগাদ তথ্য আদালতে উপস্থাপনের প্রতিশ্রুতি দেন তিনি।