এবারের এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় শতভাগ পাস করা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী ও শিক্ষকরা আনন্দ উল্লাস করেছেন। গতকাল সোমবার ফল ঘোষণার পর কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের খবর পাঠিয়েছেন প্রতিনিধি ও সংবাদদাতারা
মির্জাপুর ক্যাডেট কলেজ : টাঙ্গাইলে মির্জাপুর ক্যাডেট কলেজ সাফল্যের ধারাবাহিকতা অব্যাহত রেখে এবারের এসএসসি পরীক্ষায় শতভাগ জিপিএ-৫ পেয়েছে। চলতি বছর এই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞান বিভাগ থেকে ৫০ জন শিক্ষার্থী এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নেয়। এর মধ্যে সবাই জিপিএ-৫ পেয়েছে।
কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মো. কামরুজ্জামান বলেন, শিক্ষার্থীদের পড়ায় মনোনিবেশ ও ঐকান্তিক প্রচেষ্টা এবং শিক্ষক-অভিভাবকদের সহায়তায় এই ভালো ফল এসেছে।
শমসেরনগর বিএএফ শাহীন কলেজ : সিলেট শিক্ষা বোর্ডের অধীনে মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার শমসেরনগর বিএএফ শাহীন কলেজে শতভাগ পাসসহ ৯৫ জন জিপিএ-৫ লাভ করেছে। উপজেলায় জিপিএ-৫ অর্জন হয়েছে ২৬২টি। এ উপজেলায় ৩ হাজার ৮০০ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ২ হাজার ২৭২ জন পরীক্ষার্থী পাস করেছে। এছাড়া উপজেলার ৬টি মাদ্রাসা থেকে ৩০৮ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ২৫০ জন উত্তীর্ণ হয়েছে।
কমলগঞ্জ উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা শামছুন নাহার পারভীন দেশ রূপান্তরকে বলেন, শমসেরনগর বিএএফ শাহীন কলেজ তাদের ধারাবাহিক সফলতা ধরে রেখেছে।
কাদিরাবাদ ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল : নাটোরের বাগাতিপাড়া উপজেলার কাদিরাবাদ ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল এবারও জেলায় শীর্ষস্থান অর্জন করেছে। ওই স্কুল থেকে ১৪১ জন পরীক্ষা দিয়ে শতভাগ পাস এবং ১২৯ জন জিপিএ-৫ পেয়েছে। জেলা শহরের নাটোর সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ২৪৪ জন পরীক্ষা দিয়ে ১৮১ জন এবং নাটোর সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ২৪৩ জনের মধ্যে ১৬৯ জন জিপিএ-৫ পেয়েছে।
এনকেএম হাইস্কুল অ্যান্ড হোমস : নরসিংদীতে শতভাগ জিপিএ-৫ পেয়েছে নাসিমা কাদির মোল্লা হাইস্কুল অ্যান্ড হোমস (এনকেএম)। বিদ্যালয়ের প্রশাসনিক বিভাগ সূত্রে জানা যায়, চলতি বছর বিজ্ঞান ও ব্যবসায় শাখা মিলিয়ে মোট ২৬৬ জন শিক্ষার্থী এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নেয়। যাদের সবাই জিপিএ-৫ অর্জন করে।
এদিকে রেজাল্টের অপেক্ষায় দুপুরের আগেই স্কুল প্রাঙ্গণে জড়ো হয় শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা। ফলাফল ঘোষণার পর বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে শিক্ষার্থীরা। এ সময় থার্মেক্স গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও বিদ্যালয়টির পরিচালনা কমিটির সভাপতি আবদুল কাদির মোল্লা উপস্থিত ছিলেন।
নাসিমা কাদির মোল্লা হাইস্কুল অ্যান্ড হোমসের অধ্যক্ষ অসীম বাড়ৈ দাবি করেনÑ পাস এবং জিপিএ-৫ বিবেচনায় আমরা ঢাকা বোর্ডে প্রথম হয়েছি।
এনএস কামিল মাদ্রাসা : দাখিল পরীক্ষার ফলাফলে মাদ্রাসা বোর্ডে ঝালকাঠির এনএস কামিল মাদ্রাসা এ বছরও দেশের মধ্যে শীর্ষস্থানে রয়েছে। বিজ্ঞান ও সাধারণ বিভাগে ৩৪২ জন শিক্ষার্থী অংশ নিয়ে এ মাদ্রাসা থেকে সবাই উত্তীর্ণ হয়েছে। এর মধ্যে ১৮৮ জন জিপিএ-৫ এবং ১৪১ জন এ গ্রেড পেয়ে শতভাগ উত্তীর্ণ হয়েছে।
মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মুফতি গাজী মো. শহিদুল ইসলাম জানান, ১৯৫৬ সালে প্রতিষ্ঠিত এ মাদ্রাসাটি ইতিমধ্যে দেশের শীর্ষস্থানীয় একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়েছে।
ড্যাফোডিলস উচ্চ বিদ্যালয় : ঢাকার দোহার উপজেলার ড্যাফোডিলস উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা শতভাগ পাসসহ সর্বোচ্চ জিপিএ-৫ পেয়ে উপজেলায় শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন করেছে। ১১৬ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে শতভাগ পাসসহ ৯৩ জন জিপিএ-৫ পেয়েছে। ২০১৬ থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত টানা পাঁচবার এসএসসিতে পাস ও জিপিএ-৫-এ সেরা হয় বিদ্যালয়টি। প্রতিষ্ঠানটির প্রধান শিক্ষক এরশাদ হোসেন বলেন, আশা করি ভবিষ্যতেও এটা অব্যাহত থাকবে।
বিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটি ২০০৩ সালে ঢাকার দোহার উপজেলার মইতপাড়ায় প্রতিষ্ঠিত হয়। শুরু থেকেই বিদ্যালয়টি সুনামের সঙ্গে পরিচালিত হয়ে আসছে।
এ ছাড়াও, বিদ্যালয়টি ২০০৮ সাল থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত পিইসি পরীক্ষার ফলাফলে উপজেলার মধ্যে সেরা হয়। ২০১৩ সাল থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত অষ্টম শ্রেণিতে উপজেলার মধ্যে শ্রেষ্ঠ এবং ২০১৬ সাল থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত টানা পাঁচবার এসএসসিতে পাস ও জিপিএ-৫ এতে সেরা হয় বিদ্যালয়টি। গ্রামের একটি বিদ্যালয়ের এমন ধারাবাহিক সাফল্যে উপজেলাবাসী গর্বিত ও আনন্দিত।