দৃপ্ত পায়ে ষোলোয় পা

পুরনো হয়ে যাওয়া ৯৭৪টি কনটেইনারকে ব্যবহারযোগ্য করে গড়ে তোলা হয়েছে দোহার স্টেডিয়াম ৯৭৪। নানা রঙের কনটেইনারে সাজানো এ স্টেডিয়ামে হলুদ উৎসবের সব প্রস্তুতিই সেরে রেখেছিল প্রায় ৩০ হাজার ব্রাজিল সমর্থক। লুসাইলের পর এই মাঠে প্রিয় দলকে জেতাতে পুরোটা সময় গলা ফাটিয়েছেন তারা। তবে কেন যেন হচ্ছিলই না। তবে কি নেইমারবিহীন ব্রাজিল থমকে যাবে? না, সেটা হতে দেননি অভিজ্ঞ কাসেমিরো। ৮৪ মিনিটে ত্রাতার ভূমিকায় অবতীর্ণ হন এ তারকা। বক্সের ওপর থেকে তার ডান পায়ের জোরালো হাফ ভলিতে ঠিকই খুঁজে নেয় গোলের ঠিকানা। তাতে যেমন নিশ্চিত হয়েছে শেষ ষোলো, তেমনই বিশ্বকাপ মঞ্চে সুইজারল্যান্ড আর ব্রাজিলের গলার কাঁটা হয়ে থাকল না। তৃতীয়বারের চেষ্টায় ঠিকই জয় নিয়ে মাঠ ছেড়েছে সেলেসাওরা।

১৯৫০ সালে পারেনি। ২০১৮ সালেও না। সেই ধারাবাহিকতা কি দোহাতেও বজায় থাকবে? ম্যাচের গতিপ্রকৃতি দেখে তাই মনে হচ্ছিল। তবে তারায় ভরা তিতের আক্রমণভাগকে রোখা অত সহজ নয়। প্রথমার্ধে রোখা গেছে। দ্বিতীয়ার্ধেরও অনেক সময় সুইজারল্যান্ডের রক্ষণে ফাটল ধরাতে পারেনি। তবে কাসেমিরো ঠিকই দেখালেন বুড়ো হারের ভেলকি। ভিনিসিয়ুস, রিচার্লিসন, রাফিনহা, রদ্রিগোদের একের পর এক আক্রমণ যখন ব্যর্থ হচ্ছে, তখনই গোলের দায়িত্ব নিলেন এ মৌসুমে রিয়াল ছেড়ে ম্যানইউতে আসা কাসেমিরো।

ব্রাজিল কোচ তিতে একাদশে দুটি পরিবর্তন আনেন। সামনে ভিনিসিয়ুস জুনিয়র, রিচার্লিসন ও রাফিনহাকে রেখে, মাঝখানে খেলান লুকাস পাকেতা, কাসেমিরো ও নেইমারের জায়গায় ফ্রেদকে। গোলকিপার আলিসনের সামনে স্টপারব্যাক পজিশনে থিয়াগো সিলভা ও মার্কুইনোসের সঙ্গে লেফটব্যাকে অ্যালেক্স সান্দ্রো ও দানিলোর জায়গায় খেলান মিলিতাওকে। সুইজারল্যান্ড কোচ মুরাত ইয়াকিন ব্রাজিলের বিপক্ষে ৪-২-৩-১ ফরমেশন সাজান। তাতেই বোঝা যায় ঘর সামলে প্রতিআক্রমণ যাওয়াই এ কোচের লক্ষ্য। সেই পরিকল্পনাটা ফলেই যাচ্ছিল প্রায়। সার্বিয়ার বিপক্ষে জোড়া গোল করা রিচার্লিসনকে সেভাবে খুঁজে পাওয়া যায়নি। তবে ভিনিসিয়ুস ছিলেন আগের মতোই আগ্রাসী। ২৭ মিনিটে গোলের প্রথম সুযোগ নষ্ট করেন এ তারকা। ডানদিক থেকে রাফিনহার ক্রস ছোট ডি-বক্সে পেয়েও প্লেসিংটা ঠিকঠাক করতে পারেননি। সুইজারল্যান্ড কিপার ইয়ান সোমার সহজেই রুখে দেন তার দুর্বল প্রচেষ্টা। ৩১ মিনিটে মিলিতাওয়ের সঙ্গে বল দেওয়া-নেওয়া করে বক্সে ঢুকে জোরালো শট নিয়েছিলেন রাফিনহা। তবে কিপার সোমার সহজেই বল আয়ত্তে নেন।

বিরতি থেকে ফেরা ব্রাজিল মাঠে আসে পাকেতাকে রেখে রিয়াল মাদ্রিদ তারকা রদ্রিগোকে নিয়ে। তার আগমনে আক্রমণের ধার বাড়ে সেলেসাওদের। ৫৬ মিনিটে ভিনিসিয়ুসের আড়াআড়ি ক্রসে পা ছোঁয়াতে ব্যর্থ হন রিচার্লিসন। তবে ৬৪ মিনিটে ভিনিসিয়ুসের লক্ষ্যভেদে ব্রাজিল ভেবেছিল অবশেষে কাক্সিক্ষত লিডটা তারা পেয়ে গেছে। তবে প্রযুক্তি তাদের এগিয়ে যেতে দেয়নি। কাসেমিরোর বাড়ানো বল ধরে দ্রুত বক্সের বাঁদিক দিয়ে আক্রমণে উঠে বল জালে জড়ান রিয়াল মাদ্রিদ তারকা। তবে রিচার্লিসন অফসাইড থেকে ফিরে সেই মুভে যোগ দেওয়ায় হয়েছে সর্বনাশ। বেহায়া ভিএআর ঠিকই ধরে ফেলে তা। তবে ৮৩ মিনিটে কাসেমিরোর হাফ ভলি ঠিকই পোস্টের ডান দিকটা খুঁজে নিলে বিশ্বকাপের গ্রুপে প্রথমবারের মতো পরপর দুই ম্যাচে ইউরোপিয়ান দুই দলকে হারানোর রেকর্ড হয়ে যায় এই ব্রাজিলের।