স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান বলেছেন, দীর্ঘদিন ধরে পরিকল্পনা করে পালিয়েছে দুই জঙ্গি, যেখানে আমাদের দুর্বলতা ছিল। সেই দুর্বলতার ফাঁকফোকর দিয়ে এরা বেরিয়ে গেছে। এই দুর্বলতা কে তৈরি করে দিল, কারা এজন্য দায়ী, কাদের গাফিলতি আছে; সেসব তদন্তে দুটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটির সুপারিশের আলোকে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
গতকাল মঙ্গলবার সকালে কাশিমপুর কারা কমপ্লেক্স প্রাঙ্গণে ৬০তম ব্যাচ কারারক্ষী বুনিয়াদি প্রশিক্ষণ কোর্সের সমাপনী কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন তিনি।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় মন্ত্রী বলেন, কারাবন্দিদের সংশোধনের বিষয় অন্তর্ভুক্ত করে কারা আইনকে যুগোপযোগী করার লক্ষ্যে বাংলাদেশ কারাগার ও সংশোধনমূলক পরিষেবা আইন-২০২১ প্রণয়নের কার্যক্রম চলমান রয়েছে। কারাগারের বন্দি ধারণ ক্ষমতা বৃদ্ধি, জীবনমান উন্নয়ন ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করণার্থে বিভিন্ন মেয়াদি ৮টি প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হচ্ছে এবং আরও কয়েকটি নতুন প্রকল্প গ্রহণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। কারাগারে নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থা আধুনিকীকরণের লক্ষ্যে ঢাকা, ময়মনসিংহ ও চট্টগ্রাম বিভাগের ৩২টি কারাগারে বিভিন্ন নিরাপত্তাসামগ্রী সরবরাহ ও স্থাপন করা হয়েছে। পর্যায়ক্রমে দেশের সকল কারাগারে নিরাপত্তাসামগ্রী সরবরাহ করা হবে।
মন্ত্রী বলেন, বঙ্গবন্ধুর আদর্শে উজ্জীবিত বর্তমান সরকার প্রধানমন্ত্রীর দিকনির্দেশনায় কারাগারকে সংশোধনাগারে রূপান্তর করতে ব্যাপক কর্মসূচি গ্রহণ ও বাস্তবায়ন করে চলেছে।
এর আগে তিনি খোলা জিপে চড়ে প্যারেডস্থল পরিদর্শন এবং মার্চপাস্ট উপভোগ করেন। এসময় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সুরক্ষা সেবা বিভাগের সচিব মো. আব্দুল্লাহ আল মাসুদ চৌধুরী, কারা মহাপরিদর্শক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এএসএম আনিসুল হক, গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার মোল্যা নজরুল ইসলাম, ঢাকা বিভাগীয় কারা উপ-মহাপরিদর্শক একেএম ফজলুল হক, কাশিমপুর হাই সিকিউরিটি কেন্দ্রীয় কারাগারের সিনিয়র জেল সুপার সুব্রত কুমার বালা, কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগার-২ এর জেল সুপার মো. আমিরুল ইসলাম প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। ছয় মাস মেয়াদি ৬০তম ব্যাচ কারারক্ষীদের এ প্রশিক্ষণ কোর্সে ৩০১ কারারক্ষী অংশগ্রহণ করেন।