চট্টগ্রামে হত্যার পর কেটে ছয় টুকরো করে নালা ও সাগরে ভাসিয়ে দেওয়া শিশু আলীনা ইসলাম আয়াতের মরদেহের দুই পায়ের পর এবার বিচ্ছিন্ন মাথা উদ্ধার করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। হত্যার ১৭ দিনের মাথায় গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে চট্টগ্রাম নগরীর আকমল আলী ঘাটের সøুইচগেট এলাকায় সাগরের কাছাকাছি জায়গা থেকে আয়াতের বিচ্ছিন্ন মাথা উদ্ধার করা হয়। মাথার চুল ও তাতে থাকা রঙিন ক্লিপ দেখে দেহাংশ শনাক্ত করেন স্বজনরা। আয়াতের মরদেহের উদ্ধার হওয়া খণ্ডিত অংশগুলোর ডিএনএ টেস্ট করা হবে এবং বাকি অংশগুলোর সন্ধানে অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছেন পিবিআই কর্মকর্তারা।
পিবিআই চট্টগ্রাম মেট্রোর পরিদর্শক মোস্তাফিজুর রহমান দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘গত কয়েক দিনের ধারাবাহিকতায় আজও (গতকাল) শিশু আয়াতের মরদেহের খণ্ডাংশের খোঁজে তল্লাশি চালানো হয়। গতকাল (বুধবার) আয়াতের খণ্ডিত দুই পা পাওয়ার পর আজ সøুইচগেটে আটকে থাকা পানির মধ্যে জমা পলিথিনের স্তূপ তল্লাশি করে বিচ্ছিন্ন মাথাটি পাওয়া গেছে। গ্রেপ্তার আবির আলী যেভাবে বর্ণনা দিয়েছিল সেভাবেই স্কচটেপ মোড়ানো পলিথিনের ভেতরে মাথাটি পাওয়া যায়। পরে আয়াতের পরিবারের সদস্যরা এসে তা আয়াতের বেলে শনাক্ত করে।’
গত ১৫ নভেম্বর বিকেলে বাসা থেকে বের হয়ে মক্তবে পড়তে যাওয়ার সময় নগরীর ইপিজেড এলাকার নয়ারহাট বিদ্যুৎ অফিসের সামনে থেকে নিখোঁজ হয় ৫ বছরের শিশু আলিনা ইসলাম আয়াত। এ ঘটনায় তার বাবা সোহেল রানা ইপিজেড থানায় নিখোঁজ ডায়েরি করেন। ঘটনা তদন্তে নেমে আয়াতদের বাসার সাবেক ভাড়াটিয়া আবিরের সম্পৃক্ততা পায় পুলিশ। সিসিটিভি ফুটেজ দেখে গত ২৪ নভেম্বর আবিরকে গ্রেপ্তার করা হয়।
পিবিআই জানায়, আয়াতকে অপহরণ করে মুক্তিপণ আদায় করাই ছিল আবিরের লক্ষ্য। কিন্তু ঘটনার দিন নিজের মোবাইলের সিম কাজ না করায় সে আয়াতের পরিবারকে টাকার জন্য ফোন করতে পারছিল না। একপর্যায়ে শিশুটি কান্নাকাটি শুরু করলে আবির তাকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে। লাশ পরদিন সকালে ৬ টুকরো করে সাগর ও খালে ভাসিয়ে দেয়। আয়াতকে অপহরণ ও হত্যায় সম্পৃক্ততার অভিযোগে গ্রেপ্তার আবির আলীকে দ্বিতীয় দফায় রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করছে পুলিশ। তার স্বীকারোক্তি অনুযায়ী আয়াতের খণ্ডিত লাশের সন্ধানে গত কয়েক দিন নগরীর আউটার রিং রোডের বে-টার্মিনাল এলাকা এবং আকমল আলী খালের মোহনায় তল্লাশি অভিযান চালায় পিবিআই।