‘গায়েবি’ মামলায় আইজিপির হস্তক্ষেপ চেয়েছে বিএনপি

গায়েবি ও মিথ্যা মামলার বিষয়ে পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) চৌধুরী আব্দুল্লাহ আল মামুনের হস্তক্ষেপ চেয়েছে বিএনপি। বিএনপির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ‘আওয়ামী লীগ সরকার আমাদের পুলিশের প্রতিপক্ষ বানানোর চেষ্টা করছে। আমরা আসলে পুলিশের প্রতিপক্ষ নই।’ গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান বরকতুল্লাহ বুলুর নেতৃত্বে বিএনপির একটি প্রতিনিধিদল পুলিশ সদর দপ্তরে গিয়ে আইজিপির সঙ্গে বৈঠক করে। বৈঠক শেষে বিএনপি নেতারা এ কথা বলেন। বিএনপির ভাইস-চেয়ারম্যান বরকত উল্লাহ বুলু জানান, ‘আইজিপি, পুলিশ কমিশনারসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে আমরা দীর্ঘ এক ঘণ্টা বৈঠক করেছি। দেশের সার্বিক পরিস্থিতি, গায়েবি মামলা, হামলার ঘটনা, আওয়ামী লীগের বাধাসহ নানা বিষয় তুলে ধরেছি। হাইকোর্টের গেট থেকে বিএনপি নেতাকর্মীদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গায়েবি মামলা হয়েছে। আমরা এ মামলার ব্যাপারে কথা বলেছি। আইজিপি বিষয়গুলো দেখবেন বলে আমাদের জানিয়েছেন।’

সমাবেশস্থলের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমরা বলেছি, সমাবেশ পল্টনে করতে চাই। তারা (পুলিশ) বলেছেন, আপনারা সোহরাওয়ার্দীতে করেন। আমরা স্থান নির্ধারণ নিয়ে আমাদের স্ট্যান্ড জানিয়েছি।’

বুলু বলেন, ‘আমরা গায়েবি মামলার কপি পুলিশপ্রধানকে দিয়েছি। আইজিপি বলেছেন, মামলাগুলো খতিয়ে দেখবেন। তিনি বলেন, ‘একই মামলায় যুবলীগের নেতা বাদী, পুলিশও বাদী। এটা তো হয় না।’

বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল বলেন, ‘সরকারি দল আওয়ামী লীগ আমাদের পুলিশের প্রতিপক্ষ বানানোর চেষ্টা করছে। আমরা আসলে পুলিশের প্রতিপক্ষ নই। অবৈধ সরকারের অনৈতিক নির্দেশ পালন না করে সংবিধান মোতাবেক দায়িত্ব পালন করবেন বলে আমরা আশা রাখি।’

বিএনপির প্রতিনিধিদলে আরও ছিলেন প্রচার সম্পাদক শহীদউদ্দিন চৌধুরী এ্যানি ও আইন বিষয়ক সম্পাদক কায়সার কামাল।

নয়াপল্টনেই সমাবেশের প্রস্তুতি নিচ্ছি আমরা মির্জা আব্বাস : গতকাল দুপুরে নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে ঢাকা বিভাগের গণসমাবেশ সফলের লক্ষ্যে গঠিত ব্যবস্থাপনা উপকমিটির এক সভা শেষে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস বলেন, ‘সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে নয়, নয়া পল্টনেই বিএনপির গণসমাবেশ হবে। এ বিষয়ে সর্বাত্মক প্রস্তুতি নিচ্ছি।  ঢাকা বিভাগব্যাপী নেতাকর্মীরা সভা করছেন। ঢাকার নয়াপল্টনে এবং গুলশানে প্রস্তুতিসভা হচ্ছে। বাইরে থেকে লোকজন আসবে। এজন্য যা করা দরকার আমরা সব করব।’

তিনি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছিলেন গণতান্ত্রিক আন্দোলনে বাধা দেওয়া হবে না। কিন্তু আমরা বিপরীত চিত্র দেখছি। বিরোধী দল দমনের উৎসব চলছে। রাজশাহীতে বাধা দিয়েছে। ব্যানার ও প্যান্ডেল ছিঁড়ে ফেলেছে। ঢাকা শহরে গ্রেপ্তার করা হচ্ছে।’

বিএনপি নেতাদের মধ্যে সভায় উপস্থিত ছিলেন মো. শাহজাহান, আমান উল্লাহ আমান,  মো. আবদুস সালাম, খায়রুল কবির খোকন, ব্যারিস্টার নাসির উদ্দিন আহমেদ অসীম, মীর সরফত আলী সপু, অ্যাডভোকেট আবদুস সালাম আজাদ, বেনজীর আহমেদ টিটো, মীর নেওয়াজ আলী নেওয়াজ, বজলুল বাসিত আঞ্জু, ওমর ফারুক সাফিন, হাবিবুর রশিদ হাবিব এবং ওলামা দলের শাহ মোহাম্মদ নেছারুল হকসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা।