সন্ধ্যার পর একটু নিরিবিলি স্থান খুঁজে নিয়ে কয়েক তরুণ গোল হয়ে বসে যান। তারপর নিজেদের মোবাইলে শুরু করেন অনলাইনে জুয়া খেলা। ফুটবল বিশ^কাপের শুরু থেকে ফেনীতে এখন প্রতিদিনকার চিত্র এটি।
তাসসহ বিভিন্ন খেলার মাধ্যমে এবং অনেকে আবার অ্যাপসের মাধ্যমে খেলা নিয়ে ধরছেন বাজি। যদি তার দল জিতে যায়, তবে তিনি পাবেন তিনগুণ টাকা। মোবাইলে নিজের নিবন্ধনকৃত অ্যাপসে নির্দিষ্ট পরিমাণ টাকা হলে তা বিকাশ বা নগদে উত্তোলন করা যায়। শুরুতে কিছু টাকা জিতিয়ে দিয়ে আসক্ত করা হয় তাদের। টাকার অঙ্ক বাড়লে অ্যাপস আর কাজ করে না। এভাবেই নিঃস্ব হচ্ছে ফেনীর স্কুল-কলেজ পড়–য়া তরুণ-তরুণীরা।
বর্তমানে জেলার তরুণ-তরুণীরা আকৃষ্ট হচ্ছে জুয়ার এসব সাইটে। পাঁচ-দশ হাজার টাকা বিনিয়োগে শুরু করে লোভে পড়ে একপর্যায়ে খোয়াচ্ছে লাখ লাখ টাকা। জুয়ার এসব সাইটের অধিকাংশ পরিচালনা করা হচ্ছে ভারত, মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া প্রভৃতি দেশ থেকে। বিদেশ থেকে পরিচালিত এসব সাইট পরিচালনা করছে বাংলাদেশের এজেন্টরা। জুয়ায় বিনিয়োগ থেকে কোটি কোটি টাকা পাচার হয়ে চলে যাচ্ছে বিদেশে। জানা যায়, এতদিন বিদেশি আয়োজনে এসব জুয়ার সাইট চললেও এখন দেশীয় অনেক প্রতিষ্ঠান এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে। গ্রামগঞ্জের সাধারণ মানুষও বিশেষ করে তরুণ-তরুণীরা এসব জুয়ায় আসক্ত হয়ে পড়ছে। খোয়াচ্ছে বিপুল পরিমাণ টাকা। অনেকে ধারদেনায় জর্জরিত হয়ে পড়ছেন।
আবদুল্লাহ মামুন নামে একজন জানান, একটি ফিফা ২০২২ নামের অ্যাপ মোবাইলে ডাউনলোড করে রেজিস্টার করার পর ৫ হাজার টাকা একটি বিকাশ নাম্বারে পাঠিয়ে ব্যালেন্স নিতে হয়। আর সে ব্যালেন্স দিয়ে বিভিন্ন খেলায় বাজি ধরা হয়। জিতলে বাজিকৃত টাকার তিনগুণ পাওয়া যায়। এভাবে এক মাস যাওয়ার পর হঠাৎ একদিন ওই অ্যাপস আর কাজ করে না। প্রথমে কিছু টাকা বিকাশে পাওয়া গেলেও পরে টাকার অঙ্ক বেশি হলে তা বন্ধ হয়ে যায়।
এ ব্যাপারে ফেনীর পুলিশ সুপার জাকির হাসান বলেন, মোবাইল অ্যাপসের মাধ্যমে খেলা বা জুয়াগুলোর বিষয়ে সবাইকে সচেতন হতে হবে। তবে এ ব্যাপারে আমরা কোনো অভিযোগ পাইনি।