কেন্দুয়ার বিদ্যাবল্লভে রওশন ইজদানী একাডেমীতে (উচ্চ বিদ্যালয়) পাঁচ পদে ৬০ লক্ষ টাকার নিয়োগ বাণিজ্যেসহ পরীক্ষার আগের দিন প্রশ্ন ফাঁসের অভিযোগ উঠেছে স্কুলটি ম্যানিজিং কমিটির সভাপতি ও জেলা পরিষদের সাবেক সদস্য আল আমিন ভূঁইয়া এবং প্রধান শিক্ষক জাহাঙ্গীর কবীরের বিরুদ্ধে। গতকাল শনিবার বেলা ১১টায় নেত্রকোনা আদর্শ বালিকা বিদ্যালয়ে নিয়োগ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু এদিন সকালে তা স্থগিত করেন নেত্রকোনার জেলা প্রশাসক।
নিয়োগ বাণিজ্য ও প্রশ্ন ফাঁসের বিষয়ে জানতে পেরে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের নিয়োগ কমিটির সদস্য আশরাফুল আলম ও মাসুদ তালুকদার এবং ম্যানেজিং কমিটির সদস্য আহসানুল কবীর ওরফে তাহের মাস্টার পরীক্ষা বন্ধের জন্য গত বৃহস্পতিবার জেলা প্রশাসক বরাবর লিখিত অভিযোগ করলে এ পরীক্ষা স্থগিত করা হয়।
অভিযোগকারীদের একজন ম্যানেজিং কমিটির সদস্য তাহের মাস্টার বলেন, কম্পিউটার অপারেটর পদে তৌহিদ, আয়া পদে নার্গিস, অফিস সহকারি পদে মিজান, পরিছন্নতা কর্মী পদে তরুন, গেইট কিপার পদে সুমনের কাছ থেকে অন্তত ৬০ লাখ টাকা উৎকোচ নেন স্কুলের সভাপতি ও প্রধান শিক্ষক। এই পাঁচজনকে নিয়োগসহ পরীক্ষার আগেই প্রশ্নপত্র দিয়ে দেওয়া হবে এলাকায় প্রচার করেন সভাপতি।
তিনি আরও বলেন, পদভেদে ১০-১৫ লাখ করে টাকা গ্রহণ করেন অভিযুক্তরা। এতে নিয়োগ প্রক্রিয়াটি বন্ধে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করি আমরা।
এ ব্যাপারে ম্যানিজিং কমিটির সভাপতি আল আমিন ভূঁইয়া বলেন, আয়া পদে একটা মেয়ে আছে, সে আট বছর যাবত মাস্টাররোলে কাজ করছে। এছাড়াও আরও দুজন মাস্টাররোলে কর্মরত। আরেকজন স্কুলের প্রতিষ্ঠাতার নাতি। এজন্য এলাকার সবারই ধারণা তাদেরকে নিয়োগ দেয়া হবে।
অভিযোগকারী তাহের মাস্টারের ছেলেও একজন চাকরি প্রার্থী। আমরা কাউকে নিয়োগ দিচ্ছি বা দেব এ কথা কাউকে বলিনি।
নেত্রকোনার জেলা প্রশাসক অঞ্জনা খান মজলিশ নিয়োগ পরীক্ষা স্থগিতের সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হবে।