১০ লাখ লোকের জনসভা করতে জমজমাট চট্টগ্রাম

বন্দরনগরী চট্টগ্রাম জুড়ে এখন উৎসবের আমেজ। উপলক্ষ জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের কন্যা প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার আগমন। দীর্ঘ বিরতির পর আজ রবিবার এই শহরে আসছেন প্রধানমন্ত্রী, প্রায় এক যুগ পর পলোগ্রাউন্ডের জনসভায় ভাষণ দেবেন তিনি। এর আগে সর্বশেষ ২০১৭ সালে চট্টগ্রামের পটিয়া এসেছিলেন, তবে নগরীতে আসেননি। নাওয়া-খাওয়া ভুলে দলীয় সভাপতি শেখ হাসিনাকে বরণের পাশাপাশি জনসভা সফল করার প্রস্তুতি নিয়েই এখন মহাব্যস্ত ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা। অবশ্য এই ব্যস্ততার মূল চ্যালেঞ্জ হলো বিএনপির গণসমাবেশের চেয়ে বেশি মানুষের উপস্থিতি ঘটানো। মাত্র দেড় মাস আগে এই চট্টগ্রামে বিপুল মানুষ জমায়েতের মাধ্যমে সমাবেশ করে বিএনপি। তার চেয়ে বেশি জমায়েতের চ্যালেঞ্জ আওয়ামী লীগকে নিতে হচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে চট্টগ্রামে আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে দ্বিধা-বিভক্তি থাকলেও আজকের জনসভা সফল করতে সবাই ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করছেন।

নিজেদের দলীয় এই জনসভায় লাখো মানুষের সমাগম ঘটাতে চান নগর আওয়ামী লীগের নেতারা। জনসমুদ্রে আওয়ামী লীগ সভাপতি ভাষণ দেবেন সেই প্রত্যাশা চট্টগ্রামের নেতাদের। তাই ছোটখাটো কোনো জনসভা নয়, স্মরণকালের বড় জনসভা করার লক্ষ্য বাস্তবায়নে নগর আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গসংগঠনের সর্বস্তরের নেতাকর্মীরা এখন ব্যস্ত। সবার ভেতরে কাজ করছে জনসভা সফল করার ব্যাকুলতা। সার্বিক প্রস্তুতি গ্রহণ করতে করতেই আয়োজকরা রাতদিন এক করে ফেলছেন গত এক সপ্তাহ ধরে।

চট্টগ্রামে ক্ষমতাসীন দলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতা ও সাধারণ মানুষের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, লাখ লাখ লোকের জমায়েত ঘটবে প্রধানমন্ত্রীর জনসভায়। আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতারা ও একাধিক মন্ত্রী বিশাল এই আয়োজনের তদারকি করতে চট্টগ্রামে অবস্থান করছেন। তারা কর্মসূচি সফল করতে নগরীর নেতাকর্মীদের বিভিন্ন দিকনির্দেশনা দিয়ে যাচ্ছেন।

আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য জাহাঙ্গীর কবির নানক, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহাবুবউল আলম হানিফ, হাছান মাহমুদ, আ ফ ম বাহাউদ্দীন নাছিম, সাংগঠনিক সম্পাদক আবু সাঈদ আল মাহমুদ স্বপন, অর্থ ও পরিকল্পনা সম্পাদক ওয়াসিকা আয়শা খান, দপ্তর সম্পাদক বিপ্লব বড়ুয়া, বন ও পরিবেশবিষয়ক সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন এবং উপপ্রচার সম্পাদক আমিনুল ইসলাম আমিনসহ দলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা চট্টগ্রামে অবস্থান করছেন।

দলীয় সূত্র জানায়, চট্টগ্রামের মোট ১৬টি সংসদীয় আসনের মধ্যে ১৪টিতেই রয়েছেন আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য। বাকি দুটিতে আছেন মহাজোটের দুই শরিক দল জাতীয় পার্টি ও বাংলাদেশ তরিকত ফেডারেশন থেকে নির্বাচিত সংসদ সদস্য। আজকের জনসভা সফল করতে প্রত্যেক সংসদ সদস্যকেই নিজ নিজ এলাকা থেকে লোকজন আনার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করে দেওয়া হয়েছে। যার ধারাবাহিকতায় ইতিমধ্যে সংসদ সদস্য ও জেলার নেতারা সর্বোচ্চ উপস্থিতি নিশ্চিত করতে ব্যাপক প্রস্তুতি নিয়েছেন। নেতাকর্মীদের আপ্যায়ন ও বিশ্রামের জন্য নগরীর অধিকাংশ কমিউনিটি সেন্টার ভাড়া নেওয়া হয়েছে। কোন এলাকার লোকজন কোন কমিউনিটি সেন্টারে উঠবেন তাও নির্ধারণ করে দেওয়া হয়েছে। জনসভাকে বর্ণিল করতে বিভিন্ন উপজেলার নেতাকর্মীদের জন্য ভিন্ন ভিন্ন রঙের টি-শার্ট ও টুপি তৈরি করা হয়েছে।

সার্বিক প্রস্তুতির বিষয়ে জানতে চাইলে মাহাবুবউল আলম হানিফ দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘চট্টগ্রাম শহরজুড়েই জনসভা হবে। বিশাল এই আয়োজন সফল করতে চট্টগ্রামের সব নেতাই যার যার অবস্থান থেকে কাজ করছেন।’

এ প্রসঙ্গে চট্টগ্রাম নগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আ জ ম নাছির বলেন, ‘জনসভার জন্য পলোগ্রাউন্ড নির্ধারণ করা হলেও মূলত পুরো শহরেই জনসভা হবে। শহর জুড়েই মানুষ আর মানুষ থাকবে। আমাদের প্রস্তুতি সে অনুযায়ী নেওয়া হয়েছে।’

নাচ-গান, বাদ্যযন্ত্রের সুরে চট্টলার মানুষকে শেখ হাসিনার আগমনের বার্তা দিয়ে যাচ্ছেন নগর আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা। অলিগলিতে বাজছে মাইক, বিতরণ করা হচ্ছে লিফলেট। যাতে তুলে ধরা হয়েছে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন সরকারের সারা দেশের উন্নয়ন কর্মকান্ডের তথ্য।

প্রধানমন্ত্রীর সমাবেশ আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের মধ্যেও আলোড়ন তৈরি করেছে। নগরীর স্টেশন রোডে উজালা স্টোরের মালিক সঞ্জয় দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘প্রস্তুতি দেখে মনে হচ্ছে অনেক মানুষ হবে। বিএনপি সমাবেশ করেছে এই মাঠেই। সেদিনও অনেক মানুষ হয়েছে।’

এদিকে নগরবাসী অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছে কখন প্রধানমন্ত্রী আসবেন এবং চট্টগ্রামের উন্নয়নে উপহার দিয়ে যাবেন আরও কিছু উন্নয়ন প্রকল্প।

অন্যদিকে প্রধানমন্ত্রীর আগমন উপলক্ষে পুরো শহরে চেনা-অচেনা ও উঠতি অনেক নেতা আত্মপরিচয় ফুটিয়ে তোলার চেষ্টা করে চলেছেন। ব্যানার-পোস্টার-তোরণ বানিয়ে বঙ্গবন্ধু, শেখ হাসিনা এবং কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতাদের ছবির পাশাপাশি নিজের বড় ছবি দিয়ে পরিচিতমুখ হতে চেষ্টা চালাচ্ছেন। আছে অভিনন্দন ও শুভেচ্ছাবার্তা। এসব ব্যানার-পোস্টার বা তোরণের কোথাও সরকারের উন্নয়ন কর্মকান্ডের কথা লেখা নেই। আছে আগামী দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনে মনোনয়নপ্রত্যাশীদের ব্যানার-পোস্টার।

অবশ্য নগরীর বিভিন্ন অলিগলিতে ছেয়ে থাকা এই ব্যানার-পোস্টার নিয়ে বিভিন্ন শ্রেণি পেশার মানুষ বিরূপ মন্তব্যও করছে। রিয়াজউদ্দীন বাজারে ব্যবসায়ী দেলোয়ার হোসেন এ প্রসঙ্গে বলেন, ‘দেশের অর্থনৈতিক পরিস্থিতির কথা বিবেচনায় নিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কৃচ্ছ্রসাধনের কথা বলছেন বারবার। অথচ দলের নেতাকর্মীরা সেসব কথা মানছেন না। এই ব্যানার-পোস্টারে লাখ লাখ টাকা খরচ করা হচ্ছে, কিন্তু একদিন বাদে এগুলোর কোনো মূল্য নেই। ছিঁড়ে ফেলা হবে। এই অস্বাভাবিক সময়ে ব্যানার-পোস্টারের পেছনে ব্যয় না করলেই ভালো হতো।’

জিওসির মোড়ে কথা হয় সিএনজিচালিত অটোরিকশার চালক আবুল কালামের সঙ্গে। তিনি বলেন, ‘এত টাকা খরচ করে বড় বড় ছবি দিয়ে এক দিনের জন্য ব্যানার বানিয়ে কী লাভ?’

শেখ হাসিনার চট্টগ্রাম আগমন উপলক্ষে নগরীর শ্রমজীবী মানুষদের ভেতরেও একধরনের আনন্দ কাজ করছে। রেস্তোরাঁ, ফুটপাত, বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান সবখানেই প্রধানমন্ত্রীর সফর ঘিরে কোনো না কোনো আলোচনা চলতে দেখা গেছে। রাজনৈতিক আলোচনায় এমনিতেই মানুষের আকর্ষণ বেশি, তার ওপর আসছেন প্রধানমন্ত্রী।

এমনই এক আলোচনায় অংশ নিয়ে চট্টগ্রাম রেলস্টেশনের পাশে দাঁড়ানো রিকশাচালক ইব্রাহীম বলছিলেন, ‘মানুষ বলে জিনিসপত্রের দাম বেড়েছে। তবে এটা যেমন বেড়েছে, আয়ও তো বেড়েছে।’

ওই আলোচনায় যোগ দিয়ে ইব্রাহীমের কাছে এই প্রতিবেদক এখন তার কত আয় হয় জানতে চান। তিনি বলেন, ‘গত এক মাসে রিকশা চালিয়ে ২২ হাজার টাকা আয় করেছি। ২০০৩-০৪ সালে ঢাকায় চকবাজারে একটি কসমেটিকসের দোকানে ছয়শ টাকা বেতনে চাকরি করতাম। এখন দিনেই কামাই এক হাজার টাকা।’

ইব্রাহীম আরও বলেন, ‘একসময় দুইশ টাকা পকেটে নিয়ে ঘুরতে ভয় হতো, ছিনতাইকারী কখন ধরে। এখন দুই লাখ টাকা পকেটে নিয়ে মাঝরাতে ঘুরাফিরা করলেও ছিনতাইয়ের ভয় নাই। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকারের অনেক ভালো কাজ আছে তা কেউ বলে না, শুধু সমালোচনাই করে। আমার এত ভাবনা নাই, কামাই করি বেশি কিনিও বেশি দামে।’

রেলস্টশনের ফুটপাতে চায়ের দোকান চালিয়ে সংসার চলে আরিফের। তার ভয় প্রধানমন্ত্রীর আগমন উপলক্ষে দোকান এক দিন বন্ধ রাখতে হবে। তিনি বলেন, ‘এক দিন দোকান বন্ধ থাকলে অনেক টাকা লোকসান হবে।’

গতকাল শনিবার দুপুরে পলোগ্রাউন্ড ময়দান ঘুরে আজকের জনসভাকে কেন্দ্র করে ব্যাপক প্রস্তুতি দেখা গেছে। ১৬০ ফুট দৈর্ঘ্যরে নৌকা প্রতিকৃতির ওপর নির্মাণ করা হয়েছে জনসভার বিরাট মঞ্চ। বাঁশের ব্যারিকেড দিয়ে কয়েক স্তরে ভাগ করা হয়েছে জনসভা মাঠকে। মঞ্চ এবং মঞ্চের আশপাশের ব্লকগুলোতে নেওয়া হয়েছে বাড়তি নিরাপত্তা ব্যবস্থা।

এই জনসভায় ১০ লাখের বেশি মানুষ জমায়েতের প্রস্তুতি নিয়েছে ক্ষমতাসীন দল। গত সপ্তাহে যশোর জেলা আওয়ামী লীগের জনসভা থেকে আগামী দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রচারণা শুরু করেন শেখ হাসিনা। তারই ধারাবাহিকতায় আজ বিকেলে পলোগ্রাউন্ড মাঠে চট্টগ্রাম মহানগর এবং উত্তর-দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগ আয়োজিত জনসভায় যোগ দেবেন তিনি। এরপর আগামী ৭ ডিসেম্বর কক্সবাজার এবং পরবর্তী মাসগুলোতে বিভিন্ন জেলায় নির্বাচনী জনসভায় অংশ নেবেন শেখ হাসিনা।

গত শুক্রবার ও গতকাল নগরীর জামাল খান, কাজির দেউড়ি, হালিশহর, লালখান বাজার, টাইগারপাস, দেওয়ান হাট, কদমতলী, নিউ মার্কেট ও আন্দরকিল্লাসহ বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, পলোগ্রাউন্ড ময়দানে বিপুল জনসমাগম নিশ্চিত করতে চলছে শেষ মুহূর্তের প্রচারণা। জনসভায় যোগদানের আমন্ত্রণ জানানো হচ্ছে নগরবাসীকে।

গতকাল দুপুরে আওয়ামী লীগের বেশ কয়েকজন কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতা জনসভাস্থল পলোগ্রাউন্ড ময়দান পরিদর্শন করেন। পরিদর্শন শেষে দলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহাবুবউল আলম হানিফ বলেন, ‘এই জনসভাকে ঘিরে চট্টগ্রাম উত্তর-দক্ষিণ ও মহানগরের সবখানে সর্বস্তরে মানুষের মধ্যে আবেগ উচ্ছ্বাস তৈরি হয়েছে। জননেত্রী শেখ হাসিনা দীর্ঘ ১০ বছর পর চট্টগ্রামে জনসভায় বক্তব্য রাখবেন। সেটা দেখার জন্য, জানার জন্য, দিকনির্দেশনা পাওয়ার জন্য চট্টগ্রামবাসী অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছেন।’

প্রধানমন্ত্রীর জনসভাকে কেন্দ্র করে নগরজুড়ে নিñিদ্র ও কঠোর নিরাপত্তা বলয় গড়ে তোলার কথা জানিয়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও প্রশাসন। এরই মধ্যে নগরীতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন, গোয়েন্দা নজরদারি বৃদ্ধি এবং জনসভা মঞ্চ ঘিরে নিরাপত্তা বলয় গড়ে তোলা হয়েছে। এ ছাড়াও পলোগ্রাউন্ড মাঠের চারপাশে ও ভেতরে টহল দিচ্ছেন পুলিশ ও বিভিন্ন বাহিনীর সদস্যরা। সক্রিয় রয়েছেন গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরাও। গোটা শহরের গুরুত্বপূর্ণ জায়গাগুলোতে সাদা পোশাকে নজরদারি করছেন বিভিন্ন সংস্থার গোয়েন্দারা।

আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীরা বলছেন, উন্নয়ন ও দিনবদলের নেতৃত্ব দেওয়া প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে বরণ করতে এবং তার মুখে আগামীর বার্তা শুনতে অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছেন তারা। স্থানীয় আওয়ামী লীগ কর্মী ইয়াসির আহমেদ বলেন, ‘আওয়ামী লীগ সরকার চট্টগ্রামের অনেক উন্নয়ন করেছে। প্রধানমন্ত্রীর উপহার হিসেবে মেগা প্রজেক্ট থেকে শুরু করে বহু উন্নয়ন দেখেছি। টানা বিগত তিন মেয়াদে চট্টগ্রামে বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন করে শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগ সরকার।’

২০০৮ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ তার নির্বাচনী ইশতেহারে চট্টগ্রামকে প্রকৃত অর্থে বাণিজ্যিক রাজধানী হিসেবে গড়ে তোলার প্রতিশ্রুতি দেয়। সে লক্ষ্যে সরকারের বিভিন্ন মেগা প্রকল্প গ্রহণ ও বাস্তবায়নের মাধ্যমে চট্টগ্রাম দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম অর্থনৈতিক হাব হিসেবে গড়ে উঠেছে। টানা তিন মেয়াদে আওয়ামী লীগ সরকারের নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ উন্নয়ন প্রকল্পগুলোর মধ্যে বঙ্গবন্ধু শিল্পনগর, কর্ণফুলী নদীর তলদেশে বঙ্গবন্ধু ট্যানেল, কোরিয়ান ইপিজেড, চায়না ইকোনমিক জোন, মহেশখালী ইকোনমিক জোন, মহেশখালীতে এলএনজি টার্মিনাল, মহেশখালীতে গভীর সমুদ্রবন্দর, মহেশখালী কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ প্রকল্প, চট্টগ্রাম থেকে কক্সবাজার পর্যন্ত রেললাইন প্রকল্প, কক্সবাজার বিমানবন্দরের আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে উন্নীতকরণ প্রকল্প, চট্টগ্রাম-কক্সবাজার সড়কপথ চার লেনে উন্নীতকরণ প্রকল্প, চট্টগ্রাম শহরের লালখান বাজার থেকে বিমানবন্দর পর্যন্ত দীর্ঘ ফ্লাইওভার এবং চট্টগ্রাম বন্দর বে-টার্মিনাল প্রকল্প অন্যতম।