পরামর্শক কমিটির সভায় বাণিজ্যমন্ত্রী

এলসি খুলতে কেন্দ্রীয় ব্যাংকে বিশেষ ব্যবস্থা

রমজান সামনে রেখে খাদ্যদ্রব্য আমদানিতে ব্যবসায়ীরা কোনো ধরনের সমস্যায় পড়বেন না। এলসি খোলার ক্ষেত্রে বাংলাদেশ ব্যাংক বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। গতকাল সচিবালয়ে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে অনুষ্ঠিত বাণিজ্য সহায়ক পরামর্শক কমিটির সভায় ব্যবসায়ীদের এ আশ্বাস দেন বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি।

শুধু রমজান নয়, সারা বছরই প্রয়োজনীয় সব পণ্যের সরবরাহ ও মজুদ নিশ্চিত করা হবে জানিয়ে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেছেন, পণ্যের মূল্য যুক্তিসংগত পর্যায়ে রাখার জন্য সরকার বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। সয়াবিনের পাশাপাশি ভোজ্য তেল সানফ্লাওয়ার ও ক্যানোলা শুল্ক কমিয়ে আমদানি বৃদ্ধির প্রস্তাব করা হয়েছে বলে জানান মন্ত্রী।

তিনি বলেন, প্রয়োজনীয় পণ্য আমদানি, সরবরাহ, মজুদ ও মূল্য বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সরকার একটি কো-অর্ডিনেশন সেল গঠন করে সার্বিক সহায়তা প্রদান করবে। চলমান বিশ^পরিস্থিতি মোকাবিলা করতে সরকারের পাশাপাশি ব্যবসায়ী ও সংশ্লিষ্টদের দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। দেশের মানুষ যেন কষ্ট না পায়, সে জন্য যা কিছু করা প্রয়োজন সরকার সবকিছুই করবে।

বাংলাদেশ ব্যাংকেও একটা ক্রাইসিস সেল খোলার কথা বলা হয়েছে বলে জানান টিপু মুনশি। তিনি বলেন, ‘এই সেল দেখবে, কোথায় কী সমস্যা হচ্ছে। কেননা, আমরা লক্ষ করছি, যতটা না সমস্যা, তার চেয়ে বেশি অপপ্রচার হচ্ছে।’

বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, দেশের রপ্তানি বাণিজ্য এগিয়ে যাচ্ছে। পণ্য ও সেবা খাত মিলে চলতি বছরে ৬৭ বিলিয়ন ডলার রপ্তানির লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। গত নভেম্বর মাসে রেকর্ড পরিমাণ তৈরি পোশাক রপ্তানি হয়েছে। রপ্তানির চলমান ধারা অব্যাহত থাকলে আশা করা যায় আমাদের রপ্তানি লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে যাবে। এ ছাড়া রেমিট্যান্স প্রবাহ বৃদ্ধি পাচ্ছে। সব দিক বিবেচনায় বাংলাদেশের ব্যবসা-বাণিজ্য এবং অর্থনীতি সঠিক পথেই এগিয়ে যাচ্ছে।

সভাশেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, চিনির সরবরাহ ও দাম স্বাভাবিক রাখতে সরকার সব ধরনের পদক্ষেপ নিয়েছে। গ্যাসের সরবরাহ স্বাভাবিক হলেই চিনির উৎপাদন বাড়বে। এ ছাড়া চিনি আমদানিতে শুল্ক কমিয়ে দাম কমানো এবং সরবরাহ স্বাভাবিক রাখার চেষ্টা করা হচ্ছে। আসন্ন রমজান মাসে চিনিসহ সব ধরনের নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের ন্যায়সংগত মূল্য নিশ্চিত করা হবে। এ জন্য ভোক্তা অধিকার বিভিন্ন জায়গায় হানা দিচ্ছে, জরিমানা করছে। এর বাইরে প্রয়োজন হলে অসাধু ব্যবসায়ীদের কারাগারে পাঠানোর ব্যবস্থা করা হবে।

সভা পরিচালনা করেন বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব তপন কান্তি ঘোষ। বাণিজ্য সহায়ক পরামর্শক কমিটির সভায় বাণিজ্য মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য মোহাম্মদ হাসান ইমাম খান এমপি, ওনার্স গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শফিউল ইসলাম মহিউদ্দিন এমপি, এফবিসিসিআইর সভাপতি মো. জসিম উদ্দিন, বিজিএমইর প্রেসিডেন্ট ফারুক হাসান, বাংলাদেশ চেম্বার অব ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি আনোয়ার উল আলম চৌধুরী, ইন্টারন্যাশনাল চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি মাহবুবুর রহমান, ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি রিজওয়ান রহমান, বিটিএমএর সভাপতি মোহাম্মদ আলী খোকনসহ বিভিন্ন খাতের ব্যবসায়ীরা বক্তব্য দেন। এ সময় বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র কর্মকর্তা, এনবিআর, বাংলাদেশ ব্যাংকসহ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও দপ্তরের প্রতিনিধিরাও বক্তব্য দেন।