চাঁপাইনবাবগঞ্জে সাবেক এমপি ও মেয়র গ্রুপে সংঘর্ষ

মঞ্চে বসাকে কেন্দ্র করে চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা কৃষক লীগের সম্মেলনে দুই গ্রুপের সংঘর্ষ হয়েছে। এ সময় কয়েকটি ককটেল বিস্ফোরিত হয়। গতকাল সোমবার দুপুরে চাঁপাইনবাবগঞ্জ পৌরসভা পার্কের এই সংঘর্ষে কমপক্ষে ১০ জন আহত হয়েছেন।

চাঁপাইনবাবগঞ্জ পৌরসভার মেয়র মোখলেসুর রহমান এবং জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সাবেক সংসদ সদস্য আব্দুল ওয়াদুদ সমর্থকদের মধ্যে ওই সংঘর্ষ হয়।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, গতকাল বেলা ১১টার পর পৌরসভা পার্কে চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা কৃষকলীগের সম্মেলনের আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়। কৃষকলীগের কেন্দ্রীয় সভাপতি সমীর চন্দ এবং সাধারণ সম্পাদক অ্যাড. উম্মে কুলসুম স্মৃতিসহ চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের নেতারা জাতীয় পতাকা ও দলীয় পতাকা উত্তোলনের পর সম্মেলনের মূল মঞ্চে আসেন। এর পরপরই মঞ্চে নেতাদের বসাকে কেন্দ্র করে জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক সংসদ সদস্য আব্দুল ওদুদ এবং চাঁপাইনবাবগঞ্জ পৌর মেয়র মোখলেসুর রহমান সমর্থকরা সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। শুরু হয় সম্মেলনস্থলের চেয়ার ভাঙচুর। উভয়পক্ষ ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার সময় ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে। এ সময় সম্মেলনস্থলের পাশে ৫টি ককটেল বিস্ফোরণ এবং কয়েকটি অটোরিকশা ভাঙচুর করা হয়। সম্মেলনস্থল ও আশপাশের এলাকায় উভয়পক্ষের মধ্যে প্রায় ঘণ্টাখানেক ধরে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া চলে। সম্মেলনস্থলে বিপুলসংখ্যক পুলিশ মোতায়েন থাকলেও তাদের উপস্থিতিতেই ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। এ সময় কেন্দ্রীয় নেতারা মঞ্চে বসে ছিলেন। পরে পুলিশ পাহারায় সম্মেলনস্থল ত্যাগ করেন তারা।

সংঘর্ষে দুই পক্ষের কমপক্ষে ১০ নেতাকর্মী আহত হন। তাদের মধ্যে তিনজনকে চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর মডেল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মাহফুজ চৌধুরী বলেন, ‘কৃষকলীগের সমাবেশস্থলে বিশৃঙ্খলা ও ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। পুলিশ দ্রুত সমাবেশস্থলের পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।’

এদিকে কৃষকলীগের কেন্দ্রীয় নেতারা সমাবেশস্থল থেকে সার্কিট হাউজে ফিরে আসার পর বিকেলে আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ও রাজশাহী সিটি করপোরেশনের মেয়র এ এইচ এম খায়রুজ্জামান লিটনসহ স্থানীয় নেতারা বৈঠকে বসেন। বৈঠক শেষে অ্যাড. আব্দুস সামাদ বকুলকে সভাপতি ও আল কামাল ইব্রাহিম রতনকে সাধারণ সম্পাদক করে চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা কৃষক লীগের নতুন কমিটি ঘোষণা করা হয়।