গাড়ি ভাঙচুর ও পোড়ানোর অভিযোগে হওয়া পুরনো আলাদা দুই মামলায় বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী এবং ঢাকা মহানগর (দক্ষিণ) বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির প্রথম সদস্য ইশরাক হোসেনকে গ্রেপ্তারে পরোয়ানা জারি করেছে আদালত। এর মধ্যে গাড়ি ভাঙচুরের মামলায় রিজভীর বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন ঢাকার অতিরিক্ত মুখ্য মহানগর হাকিম তোফাজ্জল হোসেন। আর গাড়ি পোড়ানোর মামলায় ইশরাকের বিরুদ্ধে ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট রাজেশ চৌধুরী গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন। গতকাল সোমবার সংশ্লিষ্ট আইনজীবীরা এ তথ্য নিশ্চিত করেন।
জানা গেছে, ঢাকা সিটি করপোরেশনের ময়লার গাড়ি ভাঙচুরের অভিযোগে হওয়া মামলায় রুহুল কবির রিজভীকে গ্রেপ্তারে পরোয়ানা জারি করেছে আদালত। গত বৃহস্পতিবার ঢাকার অতিরিক্ত মুখ্য মহানগর হাকিম তোফাজ্জল হোসেনের দেওয়া আদেশের অনুলিপি গতকাল হাতে পান বলে জানান সংশ্লিষ্ট আইনজীবীরা। বৃহস্পতিবার এই মামলায় অভিযোগ গঠনের শুনানির ধার্য দিনে আসামি বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ দলটির কয়েকজন কেন্দ্রীয় নেতা আদালতে হাজিরা দেন। তবে ওই দিন রিজভীসহ তিনজন হাজির ছিলেন না। তাদের জামিন বাতিল করে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির আদেশ দেন বিচারক।
এ প্রসঙ্গে সংশ্লিষ্ট আদালতের রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ইকবাল হোসেন দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘ওই দিন (বৃহস্পতিবার) গ্রেপ্তারি পরোয়ানার বিষয়ে মৌখিকভাবে আদেশ দিয়েছিলেন আদালত। আজ (গতকাল) লিখিত আদেশের অনুলিপি পাওয়া গেছে।’
২০১২ সালের ১২ সেপ্টেম্বর রাজধানীর কাকরাইলে সিটি করপোরেশনের ময়লার গাড়ি ভাঙচুরের ঘটনায় পল্টন থানায় মামলাটি করে পুলিশ। তদন্ত শেষে ২০১৭ সালের ২৩ অক্টোবর মির্জা ফখরুল ও রিজভীসহ নয়জনকে আসামি করে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেয় পুলিশ।
অন্যদিকে ২০২০ সালের নভেম্বরে রাজধানীর মতিঝিলে গাড়ি পোড়ানোর অভিযোগে হওয়া মামলায় ইশরাক হোসেনকে গ্রেপ্তারে পরোয়ানা জারি করেছে আদালত। এ মামলায় তার জামিন চেয়ে করা আবেদন নাকচ করে গতকাল ঢাকা মহানগর হাকিম রাজেশ চৌধুরী পরোয়ানা জারি করেন। ইশরাকের পক্ষে আবেদন করেন আইনজীবী মহিউদ্দিন চৌধুরী। শুনানিতে এই আইনজীবী আদালতকে বলেন, গত রবিবার জগন্নাথ বিশ^বিদ্যালয়ের সামনে ইশরাকের ওপর হামলার ঘটনা ঘটেছে। তিনি বাসায় চিকিৎসা নিচ্ছেন। এ কারণে আসতে পারেননি। শুনানি শেষে বিচারক জামিনের আবেদন নাকচের আদেশ দেন।
২০২০ সালের ১২ নভেম্বর ঢাকা-১৮ আসনের (উত্তরা) উপনির্বাচনের সময় রাজধানীর কয়েকটি জায়গায় বাসে আগুন দেওয়ার ঘটনা ঘটে। ওই দিন মতিঝিলে অগ্রণী ব্যাংকের কর্মচারীদের বাসও পোড়ানো হয়। এ ঘটনায় ইশরাকসহ ৪২ জনকে আসামি করে মামলা করে মতিঝিল থানা পুলিশ। গত ৬ এপ্রিল এ মামলায় গ্রেপ্তার হন তিনি। কিছুদিন পর জামিনে মুক্তি পান।