রেশনের চাল কম দেওয়ার প্রতিবাদ

মেম্বারকে হাতুড়িপেটা চেয়ারম্যানপুত্রের

ফরিদপুরের বোয়ালমারীতে ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) চেয়ারম্যানের ছেলের বিরুদ্ধে ইউপি সদস্যকে (মেম্বার) পিটিয়ে আহত করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। শিশু কার্ডের টাকা ও রেশন কার্ডে চাল কম দেওয়ার বিরোধিতা করায় মেম্বার সৈয়দ বালা মিয়াকে পেটানো হয় বলে অভিযোগ করেছেন তার বাবা। গত রবিবার পরমেশ^রদী ইউনিয়ন পরিষদ ভবনে এ ঘটনা ঘটে।

আহত বালা মিয়া বোয়ালমারী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তাকে পেটানোর ঘটনায় তার বাবা মজিবর রহমান থানায় লিখিত অভিযোগ জমা দিয়েছেন।

থানায় দেওয়া লিখিত অভিযোগে বলা হয়, গত রবিবার সন্ধ্যায় পরমেশ্বরদী ইউনিয়ন পরিষদ ভবনে ইউপি সদস্যদের সঙ্গে চেয়ারম্যান আ. মান্নান মাতুব্বর জরুরি বৈঠকে বসেন। সভায় ইউপি চেয়ারম্যানের ভাই সিদ্দিক মাতুব্বর, ভাতিজা শাহিন মাতুব্বর ও শিমুল মাতুব্বর এবং ছেলে মাসুদ মাতুব্বর উপস্থিত ছিলেন। বৈঠকের একপর্যায়ে তারা প্রতিটি ভিডব্লিউবি (শিশু, দুই বছর মেয়াদি ৩০ কেজি করে চাল পাবে সুবিধাভোগীরা) কার্ডের জন্য কার্ডধারীদের কাছ থেকে ২ হাজার টাকা করে নেওয়ার এবং রেশন কার্ডধারীদের ৩০ কেজির পরিবর্তে ২৭ কেজি করে চাল দেওয়ার প্রস্তাব করেন। কিন্তু এই প্রস্তাবের বিরোধিতা করায় ৪ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য সৈয়দ বালা মিয়ার সঙ্গে বাগ্বিতণ্ডায় জড়ান সিদ্দিক মাতুব্বর, শাহিন মাতুব্বর, শিমুল মাতুব্বর ও মাসুদ মাতুব্বর। একপর্যায়ে তারা লোহার রড ও হাতুড়ি দিয়ে পিটিয়ে বালা মিয়াকে গুরুতর আহত করেন। পরে তাকে উদ্ধার করে বোয়ালমারী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়।

তবে মারধরের অভিযোগ অস্বীকার করে চেয়ারম্যানের ভাই সিদ্দিক মাতুব্বর বলেন, ‘আগামী ১০ ডিসেম্বর ঢাকায় বিএনপির মিটিংয়ে লোক পাঠানোর ব্যাপারে ইউপি সদস্য বালা মিয়া ইউনিয়ন পরিষদের ভবনের সামনে দাঁড়িয়ে কথা বলছিল। এ সময় তিনি মাননীয় প্রধানমন্ত্রী সম্পর্কে আজেবাজে কথা বলায় তাকে আওয়ামী লীগের কর্মীরা আক্রমণ করেন। আমি তাকে বরং মারপিট থেকে বাঁচানোর চেষ্টা করেছি।’

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে চেয়ারম্যান মো. মান্নান মাতুব্বর বলেন, ‘আমি উপকারভোগীদের কখনো চাল ওজনে কম দিই না কিংবা কার্ড দিয়ে অর্থ দাবি করি না। মেম্বাররা ও সচিবই এগুলো বণ্টন করেন।’ তবে ইউপি সদস্যকে মারপিটের বিষয়টি তিনি এড়িয়ে যান।

বোয়ালমারী থানার দায়িত্বে থাকা এসআই আক্কাস আলী শেখ জানান, ইউপি সদস্যকে মারধরের বিষয়ে একটি লিখিত অভিযোগে পেয়েছেন। তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।