আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ‘জনগণ স্বতঃস্ফূর্তভাবে ভোট দিয়ে আওয়ামী লীগকে ক্ষমতায় বসিয়েছে। বিএনপির এটা জানা দরকার জনগণের ভোট চুরি করলে, তারা ছেড়ে দেয় না। জনগণ জানে কীভাবে সেই সরকার উৎখাত করতে হয়। আমাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা অপবাদ দেওয়া হয়। আমরা ভোট চুরি করতে যাব কেন? জনগণ স্বতঃস্ফূর্তভাবে আমাদের ভোট দেয়।’ গতকাল মঙ্গলবার সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে ছাত্রলীগের ৩০তম জাতীয় সম্মেলনে এসব কথা বলেন শেখ হাসিনা।
বেলা ১১টা ২০ মিনিটের পরে তিনি সম্মেলনস্থলে উপস্থিত হন। এরপর জাতীয় পতাকা, দলীয় পতাকা উত্তোলন ও জাতীয় সংগীতের মাধ্যমে সম্মেলনের উদ্বোধন করেন আওয়ামী লীগ সভাপতি। এবার রেওয়াজ পাল্টে সংগঠনের সম্মেলন এক দিনেই করা হয়। তবে গতকাল দুপুরের পরে ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশনে দ্বিতীয় অধিবেশন হয়। সেখানেও ছাত্রলীগের নেতৃত্বে নতুন কাউকে দায়িত্ব দেওয়া হয়নি। আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের জানান, ২৪ ডিসেম্বর আওয়ামী লীগের জাতীয় ত্রিবার্ষিক সম্মেলনের আগে ছাত্রলীগের নতুন নেতৃত্ব ঘোষণা করা হবে। এ প্রসঙ্গে অন্য একটি সূত্র দেশ রূপান্তরকে বলেন, ৯ বা ১০ ডিসেম্বর ছাত্রলীগের শীর্ষ পদের নেতাদের নাম ঘোষণা আসবে। ওবায়দুল কাদের তা জানিয়ে দেবেন।
ছাত্রলীগের সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বিএনপির কাজই হচ্ছে শিক্ষার পরিবেশ নষ্ট করা। এখনকার ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা তো নতুন, পুরনো যে নেতাকর্মী রয়েছে, নিশ্চয়ই তাদের মনে আছে। খালেদা জিয়া হুমকি দিয়েছিল আওয়ামী লীগকে শিক্ষা দিতে তার ছাত্রদলই যথেষ্ট। তাই ছাত্রদের হাতে অস্ত্র তুলে দিয়েছিল। আমি এর প্রতিবাদে ছাত্রদের হাতে বই, খাতা, কলম তুলে দিয়েছিলাম। আমাদের শক্তি জনগণ। আমাদের পেটোয়া বাহিনী লাগে না। কিন্তু ছাত্ররা শিক্ষাগ্রহণ করে উপযুক্ত নাগরিক হবে। ভবিষ্যতে দেশের দায়িত্বভার নেবে। দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাবে।’
বিএনপির জন্ম সামরিক শাসক জিয়াউর রহমানের পকেট থেকে উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী। গণতন্ত্র উদ্ধার নিয়ে তাদের আন্দোলনের বিষয়ে প্রশ্ন তুলে তিনি বলেন, ‘সেনানিবাসে বসে গোয়েন্দাদের সহায়তায় এ দল গঠন। সেই দল কিছু রাজনীতি শিখেছে আমাদের সঙ্গে যৌথ আন্দোলন করে। এরশাদবিরোধী আন্দোলনের মাধ্যমে কিছু শিখেছে। তা ছাড়া তাদের রাজনীতি কী ছিল?’
আওয়ামী লীগ সব সময় গণতন্ত্রে বিশ্বাস করে বলে দাবি করেন তিনি। বলেন, ‘যতবার ক্ষমতায় এসেছে, জনগণের ভোট নিয়ে সরকারে এসেছে। কখনো ভিন্ন পথে সরকারে আসে নাই। আসবেও না।’
আওয়ামী লীগের অপরাধ কী? জানতে চান প্রধানমন্ত্রী। সরকার গঠনের পরে মানুষের জন্য কাজ করার কথা জানান তিনি। বলেন, ‘বাংলাদেশের ইতিহাসে ২০০১ সালেই শান্তিপূর্ণ ক্ষমতা হস্তান্তর হয়েছিল। এ ছাড়া আর কোনো দিন কি দেশে শান্তিপূর্ণ ক্ষমতা হস্তান্তর হয়েছে? কখনো হয়নি। আওয়ামী লীগ গণতন্ত্রে বিশ্বাস করে, জনগণের শক্তিতে বিশ্বাস করে।’
২০১৮ সালের নির্বাচনে বিএনপি আসনভিত্তিক মনোনয়ন-বাণিজ্য করেছিল বলে দাবি করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, সেখানে হলো টাকার খেলা। শেষে সরে দাঁড়িয়ে বলল, ‘আমাদের নির্বাচন করতে দিল না।’
শেখ হাসিনা বলেন, ‘বিএনপির দুজন নেতা আমার কাছে এসে নালিশ করে গেছে। সিলেটের ইনাম আহমেদ চৌধুরী এসে বললেন, “দেখো আমার কাছে টাকা চেয়েছে তারেক জিয়া, আমি দিতে পারি নাই। আমার মনোনয়ন বাতিল করে যার কাছ থেকে টাকা পেয়েছে, তাকে দিয়েছে।” ‘মোর্শেদ খান নিজে এসে বলেছেন তার কাছে মোটা অঙ্কের টাকা চেয়েছে। সে জন্য তিনি বলেছেন, “আমি এই টাকা দিতে পারব না। তাই তার মনোনয়ন বাতিল করা হলো।” এই হলো ২০১৮ সালের তাদের নির্বাচন।’
খালেদা জিয়া এতিমের টাকা আত্মসাৎ মামলায় সাজাপ্রাপ্ত জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমার প্রশ্ন অনেক জ্ঞানী-গুণী বিএনপির সঙ্গে হাত মেলায়। অনেক তত্ত্ব কথা শোনায়। গণতন্ত্রের সবক দেয়। গণতন্ত্র উদ্ধার করতে চায়। এরা নিজেদের বুদ্ধিজীবী বলে। আমি বলি, বুদ্ধি প্রতিবন্ধীজীবী। তারা সাজাপ্রাপ্ত আসামিকে নেতা মেনে তাদের সঙ্গে জড়ো হয় সরকার উৎখাতের জন্য।’
ব্যাংকে টাকা নেই এ ধরনের গুজবে কান না দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, ‘ব্যাংকে টাকার কোনো সমস্যা নেই, দেশের প্রতিটি ব্যাংকে টাকা আছে। এটা আমি আগেও বলেছি, এখনো বলি। এদের কি চোরের সঙ্গে কোনো সমঝোতা আছে কি না যে ব্যাংক থেকে টাকা নিয়ে ঘরে রাখলে চোরের পোয়া বারো, চোর চুরি করে খেতে পাবে।’
এসডিজি সচিব, অর্থ সচিব এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরের সঙ্গে কথা বলা হয়েছে জানিয়ে সরকারপ্রধান বলেন, ‘অর্থমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা করেছি। আমাদের কোনো সমস্যা নাই, প্রতি ব্যাংকেই টাকা আছে। কাজেই আমি বলব, গুজবে কেউ কান দেবেন না।’
সম্মেলনে ছাত্রলীগের বিদায়ী সভাপতি আল নাহিয়ান খান জয় সভাপতিত্ব ও সাধারণ সম্পাদক লেখক ভট্টাচার্য সঞ্চালনা করেন। বক্তব্য দেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের।