কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে এরই মধ্যে দেশজুড়ে নয়টি বিভাগীয় গণসমাবেশ কর্মসূচি পালন করেছে বিরোধী দল বিএনপি। যার ধারাবাহিকতায় ১০ ডিসেম্বর রাজধানীতে ঢাকা বিভাগীয় গণসমাবেশ করার কথা রয়েছে দলটির। এর আগে হওয়া প্রায় সব বিভাগীয় গণসমাবেশ ঘিরে ‘পরিবহন ধর্মঘটের’ ডাক দিয়েছিলেন বাস মালিক-শ্রমিক নেতারা। যদিও বিএনপি নেতাদের অভিযোগ, তাদের সমাবেশকে বাধাগ্রস্ত করতে সরকারের ইন্ধনে এসব ধর্মঘট ডাকা হয়। এবার ঢাকার সমাবেশকে কেন্দ্র করে একইভাবে নাশকতার অজুহাতে গণপরিবহন আগের দিন থেকেই বন্ধ হয়ে যেতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্ট অনেকেই। তবে মালিক সমিতি থেকে এখনো বাস চলাচল বন্ধ করার বিষয়ে কোনো নির্দেশনা দেওয়া হয়নি।
জানা গেছে, আগামী বৃহস্পতিবার বাস মালিক সমিতির নেতাদের সঙ্গে বাস মালিকদের একটি বৈঠক হবে। যেখানে বাস চলাচল স্বাভাবিক রাখার জন্য মালিক সমিতির পক্ষ থেকে আশ্বস্ত করা হবে। এ বৈঠক থেকেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসবে।
এ ব্যাপারে জানতে চাইলে নূর-এ মক্কা পরিবহনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক জামাল উদ্দীন দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘১০ তারিখে কী হয় সেটা এখনই বলতে পারছি না। সবাই যদি বাস চালায় তাহলে আমিও চালাব। আর যদি সবাই বাস বন্ধ রাখে তাহলে আমিও বন্ধ রাখব। তবে একটা তো ভয় কাজ করে, কারণ যদি কোনোরকমের সমস্যা হয় আর বাসের ক্ষতি হয়, তাহলে সমস্যায় পড়ে যাব।’
প্রায় একই ধরনের শঙ্কার কথা জানিয়ে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক বাস মালিক দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘সমাবেশ কোথায় হবে সেসব বিষয় এখনো বোঝা যাচ্ছে না। বাস যদি ভাঙচুর করে তাহলে এর দায় তখন কে নেবে? এখন নাশকতার জন্য বাস বন্ধও থাকতে পারে। তবে বিষয়গুলো এক-দুদিনের মধ্যে বোঝা যাবে, ঢাকার সঙ্গে যোগাযোগ ১০ তারিখে বন্ধ থাকবে কি না।’
বিএনপির সমাবেশ সামনে রেখে গণপরিবহন বন্ধ রাখতে বাস মালিক সমিতির পক্ষ থেকে এখনো কোনো নির্দেশনা দেওয়া হয়নি বলে জানিয়েছেন সমিতির সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট মাহবুবুর রহমান। তিনি দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘আমাদের সমিতি থেকে এখনো বাস বন্ধের কোনো নির্দেশনা দেওয়া হয়নি। তাছাড়া ১০ ডিসেম্বর বিএনপির সমাবেশ ঘিরে বাস বন্ধের বিষয়ে এখনো কোনো নির্দেশনা সরকারের পক্ষ থেকেও দেওয়া হয়নি। তবে বাসমালিকরা কোনো ধরনের ক্ষতির আশঙ্কায় পড়ে বাস বন্ধ করলে তখন তো আর আমাদের কোনো কিছু করার থাকে না। এ ছাড়া অনেক বাসমালিক আমাদের কাছে তাদের শঙ্কার কথা বলছেন। তারা অনেকেই চিন্তার মধ্যে আছেন সেদিন বাস চলাচল নিয়ে।’ তিনি আরও বলেন, ‘এখন বাসের মালিক যারা আছেন তাদের নিয়ে আমরা খুব শিগগিরই বসব। তাদের বাস চলাচলের জন্য আশ্বস্ত করব।’
এদিকে বিএনপির আগের বিভাগীয় সমাবেশগুলোর মতো ঢাকার সমাবেশ সামনে রেখে গণপরিবহন বন্ধ করে দেওয়া এবং তাতে দুর্ভোগের শিকার হওয়ার আশঙ্কা করছেন সাধারণ যাত্রীদের অনেকেই। তেমনই একজন একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মী আবির হাসান। তাকে অফিসের কাজে দেশের নানা প্রান্তে ছুটে যেতে হয়। আবির হাসান দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘গত কয়েক মাস ধরে দেখা যাচ্ছে কোনো সমাবেশ হলে সেখানে যোগাযোগব্যবস্থা অচল হয়ে যায়। ঢাকা থেকে বাসে করে সে সময় যাওয়া যায় না গন্তব্যস্থলে। যার ফলে বড় রকমের সমস্যায় পড়তে হয়। এখন ১০ তারিখ নিয়েও চিন্তাই আছি, সেদিন বাস চলাচল করবে তো?’
এ প্রসঙ্গে যাত্রী কল্যাণ সমিতির মহাসচিব মোজাম্মেল হক চৌধুরী দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘রাজধানীতে যানবাহন চলাচল বন্ধ হলে সারা দেশ অচল হতে পারে। বিগত সময় দেখা গেছে সমাবেশ হলে বাস বন্ধ করার ফলে অনেক সমস্যায় পড়তে হয় যাত্রীদের। এসব হটকারী সিদ্ধান্ত কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। সরকারের উচিত দেশের যোগাযোগব্যবস্থা সচল রাখতে কোনোভাবেই যেন বাস বন্ধ না হয় সে বিষয়ে ভালোভাবে মনিটারিং করা। তাছাড়া সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী নিজেও বলেছেন যানবাহন চলাচল যেন বন্ধ না হয়।’