গাজীপুর মহানগর গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির মিথ্যা অভিযোগে মামলা দিয়ে পরিবহন শ্রমিকদের হয়রানির অভিযোগ উঠেছে। আর এ অভিযোগ করেছেন খোদ মামলাটির বাদী নিজেই। গতকাল মঙ্গলবার গাজীপুরের সূর্য নারায়ণপুর এলাকায় সংবাদ সম্মেলন করে মামলাটির বাদী ও বিবাদীপক্ষ।
এ সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, মামলার বাদী মো. নাসির উদ্দিন আদালতে হলফনামা দিয়ে বলেছেন তিনি কারও বিরুদ্ধে মামলা করেননি। ডিবি সদস্যরা তাকে গাজীপুর মহানগর ডিবি কার্যালয়ে নিয়ে গিয়ে সাদা কাগজে স্বাক্ষর নিয়ে ছেড়ে দেয়। পরে জানতে পারেন, তার ওই স্বাক্ষর ব্যবহার করে তাকে বাদী দেখিয়ে পরিবহন নেতাদের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে।
ডিবির বিরুদ্ধে সাজানো মামলার অভিযোগ করে সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে পরিবহন শ্রমিক নেতা মামুন খন্দকার বলেন, পরিবহন শ্রমিকরা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে স্ত্রী-সন্তানসহ পরিবারের জন্য দিনরাত পরিশ্রম করে মাথার ঘাম পায়ে ফেলে রোজগার করে কোনোরকমে খেয়েপরে বেঁচে থাকে। তাদের এ কষ্টকর জীবনযাত্রায় সম্প্রতি নতুন করে যোগ হয়েছে গাজীপুর মহানগর ডিবি পুলিশের হয়রানি। যার অংশ হিসেবে গত ২০ জুলাই দুপুরে পরিবহন শ্রমিক আল-আমিনকে (২২) নগরীর ভোগড়াবাজার এলাকার ভাড়া বাসা থেকে এবং নগরীর ইটাহাটা (কলাবাগান) এলাকার বাসিন্দা আজগর আলীকে (৪৫) নিজের বাড়ি থেকে আটক করে ডিবি অফিসে নিয়ে যাওয়া হয়। পরে স্বজনরা খোঁজ নিয়ে জানতে পারেন, নগরীর চান্দনা চৌরাস্তার সিটি কলেজ এলাকার সেলিমের বাড়ির ভাড়াটে চান্দনা চৌরাস্তা-চন্দ্রা রুটের সিএনজিচালিত অটোরিকশার চালক নাসির উদ্দিন ডিবির হাতে গ্রেপ্তার ওই দুজনের নামে থানায় মামলা করেছেন। মামলায় সিএনজিচালিত অটোরিকশা থেকে চাঁদাবাজির অভিযোগ আনা হয়।
গ্রেপ্তার দুজনকে মহানগর ডিবি কার্যালয়ে নিয়ে নির্যাতন করে চাঁদাবাজির সঙ্গে শ্রমিক নেতাদের নাম জড়িয়ে আদালতে মিথ্যা স্বীকারোক্তি দিতে বাধ্য করা হয় অভিযোগ করে মামুন খন্দকার আরও বলেন, ‘আটকদের গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে চালান দেওয়া হয়। অথচ এ মামলা সম্পর্কে কিছুই জানে না বাদী নাসির উদ্দিন। এ বিষয়ে নাসির উদ্দিন আদালতে উপস্থিত হয়ে হলফনামা দিয়ে বলেন, ডিবি পুলিশ তাকে চান্দনা চৌরাস্তা থেকে তুলে নিয়ে আটকে রেখে সিএনজিচালিত অটোরিকশা চুরি-ডাকাতি, চাঁদাবাজি ও ক্রসফায়ারের হুমকি দেয়। দীর্ঘক্ষণ আটকে রাখার পর সাদা কাগজে স্বাক্ষর নিয়ে ছেড়ে দেয়। পরে জানতে পারেন তিনি মামলার বাদী। আসামিরা জামিন পেলে তার কোনো আপত্তি নেই জানালে তারা জামিন লাভ করেন।’
একইভাবে একইরকম অভিযোগে চাঁদাবাজির মিথ্যা অভিযোগে নগরীর বাসন থানায় আরও দুটি মামলা হয় দাবি করে এ পরিবহন শ্রমিক নেতা বলেন, ‘মামলা দুটির একটির বাদী শরীফ মিয়া। এ মামলাতেও নাইম ও খোকন নামে দুজনকে আসামি করে পরিবহন শ্রমিক নেতাদের বিরুদ্ধে স্বীকারোক্তি নেওয়া হয়। বাদী মামলা সম্পর্কে আদালতে হলফনামা দিলে তারা জামিনে মুক্তি পান। অন্য মামলায় এখনো তিন শ্রমিক কারাগারে বন্দি রয়েছেন। এভাবে মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানির কারণে পরিবহন শ্রমিকরা আতঙ্কিত।’
সংবাদ সম্মেলনে গাজীপুর মহানগর ডিবির হয়রানি থেকে বাঁচতে পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এবং প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করেন ভুক্তভোগীরা। সংবাদ সম্মেলনে কারাগারে আটক পরিবহন শ্রমিকদের স্ত্রী ও স্বজনরা এবং মামলার বাদী ও বিবাদী এবং তাদের স্বজনরা উপস্থিত ছিলেন।
এদিকে সাজানো মামলায় হয়রানির অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে গাজীপুর মহানগর ডিবির উপকমিশনার (ডিসি) হুমায়ূন কবীর বলেন, ‘মামলার বাদীকে ভয়ভীতি দেখিয়ে বা কোনো কিছুর বিনিময়ে হলফনামা আদায় করা হয়েছে। আসামি আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়েছে। পুলিশ কাউকে ভয়ভীতি দেখিয়ে মামলার কাগজে স্বাক্ষর নেয়নি।’