হাতে হাতে পুরস্কার হয়ত একেই বলে। ভারত ‘এ’ দলের বিপক্ষে কক্সবাজারে ১০ ঘণ্টার ম্যারাথন ইনিংস খেলেন জাকির হাসান। ৬২৩ মিনিটে ৪০২ বলে ৩ ছক্কা ও ১৬ চারে ১৭৩ রান করেছিলেন। এর আগে বিসিএল লঙ্গার ভার্সনেও করেছেন একটি সেঞ্চুরি। আর সবশেষ জাতীয় লিগে ৬ ম্যাচে একটি ডাবল সেঞ্চুরিসহ করেছেন সর্বোচ্চ ৪৪২ রান। এই পারফরম্যান্সের পুরস্কার হিসেবে প্রথমবারের মতো টেস্ট দলে ডাক পেয়ে গেলেন সিলেটের এই ব্যাটার। ভারতের বিপক্ষে চট্টগ্রামে প্রথম টেস্টের দলে নতুন মুখ ২০১৬ সালে অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপ খেলা জাকির। তার সঙ্গে দলে ফিরেছেন মুশফিকুর রহিম, ইয়াসির আলি ও তাসকিন আহমেদ। হজ করতে যাওয়ায় উইন্ডিজে সবশেষ টেস্ট সিরিজ মিস করেছিলেন মুশফিক আর ইনজুরিতে ছিটকে যান রাব্বি ও তাসকিন। ইনজুরির কারণে প্রথম টেস্টে সুযোগ হয়নি তামিম ইকবালের। গত সিরিজের দল থেকে বাদ পড়েছেন মোস্তাফিজুর রহমান ও মোসাদ্দেক হোসেন।
মূলত তামিম ইকবালের জায়গাতেই বাঁহাতি জাকিরকে নিয়েছেন নির্বাচকরা। তবে চট্টগ্রামেই তার অভিষেক হয়ে যাওয়ার চ্যালেঞ্জ আছে। দলে চার ওপেনার নাজমুল হোসেন শান্ত, মাহমুদুল হাসান জয়, লিটন দাস ও এনামুল হক বিজয় আছেন। এর মধ্যে লিটন খেলবেন ৬ নম্বরে। অভিজ্ঞতায় দুই ওপেনার হিসেবে বাকি তিনজনের মধ্যে জাকিরের সুযোগটা কমই। জাকিরকে নেওয়ার ব্যাপারে প্রধান নির্বাচক মিনহাজুল আবেদিন নান্নু বলেন, ‘গত পাঁচ বছর ধরেই আমরা জাকিরকে নজরে রেখেছি। এ মৌসুমে জাতীয় লিগে সে সেরা স্কোরার হয়েছে। নির্বাচক আবদুর রাজ্জাক ওকে সামনে থেকে দেখেছে। তার মনে হয়েছে যে জাকির বড় পর্যায়ের জন্য তৈরি।’
সবশেষ টেস্ট সিরিজের দলে থাকার ধারাবাহিকতায় টিকে গেছেন মুমিনুল হক, এনামুল হক বিজয়। গত জুনের পর কোনো ফরম্যাটেই যে তাদের ব্যাট হাসেনি। প্রায় একই রকম অবস্থা টেস্ট ওপেনার মাহমুদুল হাসান জয়ের। রান পেলেও ধারাবাহিক হতে পারছেন না। ভারতের বিপক্ষে কঠিন লড়াইয়ে একাদশে সুযোগ পেলে তিনজনকেই চ্যালেঞ্জে পড়তে হবে। ১৪ ডিসেম্বর থেকে চট্টগ্রামে মাঠে গড়াবে প্রথম টেস্ট।;
প্রথম টেস্টের দল
সাকিব আল হাসান (অধিনায়ক), মাহমুদুল হাসান, লিটন দাস, নাজমুল হোসেন শান্ত, মুমিনুল হক, ইয়াসির আলি, মুশফিকুর রহিম, মেহেদী হাসান মিরাজ, তাইজুল ইসলাম, তাসকিন আহমেদ, খালেদ আহমেদ, এবাদত হোসেন, শরিফুল ইসলাম, জাকির হাসান, রেজাউর রহমান রাজা, এনামুল হক বিজয়।