ফেভারিট ব্রাজিল আর্জেন্টিনাই

বিশ্বকাপ শুরুর দিন আমার কলামে ব্রাজিল ও আর্জেন্টিনাকে এবারের আসরের অন্যতম ফেভারিট বলেছিলাম। এখন পর্যন্ত প্রত্যাশামতোই এগিয়েছে লাতিন আমেরিকার দুই পরাশক্তি। কোয়ার্টার ফাইনালে আজ আলাদা ম্যাচে মাঠে নামবে তারা। দুই দলের সামনেই ইউরোপিয়ান প্রতিপক্ষ। আর্জেন্টিনা খেলবে নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে, আর ব্রাজিল লড়বে ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে। সবদিক বিবেচনা করে এ দুই ম্যাচে আমি ব্রাজিল ও আর্জেন্টিনাকেই এগিয়ে রাখব। অর্থাৎ সেমিফাইনালের মঞ্চে এ দুই দলকেই দেখতে পাচ্ছি।

অবশ্য এ কেবলই অনুমান বা ধারণা মাত্র। নেদারল্যান্ডস ও ক্রোয়েশিয়া কখনই প্রতিপক্ষকে ছেড়ে কথা বলার মতো দল নয়। কখনো শিরোপা জিততে না পারলেও বিশ্বমঞ্চে ঠিকই নিজেদের শক্তি দেখিয়েছে তারা। ক্রোয়াটরা তো গত আসরের রানার্সআপ। আর নেদারল্যান্ডস কেন আজও বিশ্বকাপ পেল না, সে তো সবার কাছেই এক বড় প্রশ্ন! এবার সেই হাহাকার ঘোচাতে চায় তারা।

পাঁচবারের চ্যাম্পিয়ন ব্রাজিলের জন্য শেষ ষোলোর ধাপ মোটামুটি সহজই ছিল বলতে হবে। দক্ষিণ কোরিয়াকে রীতিমতো উড়িয়ে দেয় তারা। ক্রোয়েশিয়ার জন্য অবশ্য অতটা সহজ ছিল না এই ধাপ। জাপানের বিপক্ষে টাইব্রেকারে নিষ্পত্তি হয়েছে ম্যাচ। ব্রাজিলকে অবশ্যই বেগ দেবে ক্রোয়েশিয়া। আমার ধারণা মূল লড়াইটা হবে দুই দলের মিডফিল্ডে। ব্রাজিল যেমন প্রেসিং করতে পছন্দ করে, ক্রোয়েশিয়ার মিডফিল্ডাররাও বেশি স্কিলফুল। লুকা মদ্রিচ, মাতেও কোভাচিচ, মার্সেলো ব্রজোভিচের মতো খেলোয়াড় সেখানে। গোলের সুযোগ তৈরির বিষয়টিও দুই দলের মিডফিল্ডের লড়াইয়ের ওপর নির্ভর করবে। ব্রাজিলের অবশ্য বিশ্বসেরা সব উইঙ্গার রয়েছে। ফরোয়ার্ডে রিচার্লিসনের মতো খেলোয়াড়। ব্রাজিলের তাই এই ম্যাচে বেরিয়ে যাওয়ার চান্স বেশি।

বয়সী খেলোয়াড়দের দিক থেকে এবারের বিশ্বকাপে ক্রোয়েশিয়া খুব সম্ভবত তৃতীয় স্থানে আছে। ব্রাজিল দলে আবার তরুণ খেলোয়াড় অনেক। অনেক বিকল্পও আছে তাদের। ক্রোয়াটদের বিপক্ষে ব্রাজিলের রক্ষণ আগের মতোই থাকবে বলে আমার ধারণা। দানিলো লেফটব্যাকে খেলবে। রাইটব্যাকে খেলবে মিলিতাও। মাঝখানে মার্কিনহোস ও থিয়াগো সিলভা থাকবে। মিডফিল্ডে কাসেমিরো ও পাকেতা থাকবে। তিতে ৪-২-৩-১ ফর্মেশনে খেলাচ্ছে দলকে। সেক্ষেত্রে নাম্বার নাইন পজিশনে থাকবে রিচার্লিসন। উইংয়ে দুই পাশে থাকবে রাফিনিয়া ও ভিনিসিয়ুস, মাঝে নেইমার। ক্রোয়েশিয়ার বোর্না সোসা গত ম্যাচে খেলেনি। ফিট হলে ওকে এ ম্যাচে খেলানো হবে। ফরোয়ার্ড লাইনে ব্রুনো পেতকোভিচ ভালো করেনি। ওর জায়গায় হয়তো মার্কো লিভাইয়া ফিরতে পারেন।

আর্জেন্টিনাকে ফেভারিট বলেছি। তবে লিওনেল স্কালোনির দলকে নিয়ে নেদারল্যান্ডস বেশ সতর্ক। লুই ফন গালের মতো কোচ আছে তাদের। মেসিকে কীভাবে আটকানো যায়, সেই পরিকল্পনাতে ব্যস্ত তারা। গত ম্যাচে যেমন মিডফিল্ডে ট্রায়াঙ্গুলেশন তৈরি করে মাঝখানের পাসগুলো ব্লক করেছিল। সেভাবেই হয়তো আর্জেন্টিনাকে রোখার চেষ্টা করবে।

সাধারণত ৩-৪-১-২ ফর্মেশনে যায় ডাচরা। কিন্তু ট্রায়াঙ্গুলার তৈরি করার জন্য ডিফেন্সে চারজন হয়ে যায়। সেক্ষেত্রে একদিকে ডানে ব্লিন্ট ও আরেক দিকে ডেনজেল ডামফ্রিস থাকে। মাঝখানে আকে এবং ডার্জিল ফন ডাইক থাকে। ইউরিয়েন টিম্বার তখন রক্ষণ থেকে মিডফিল্ডে চলে আসে। ওর সঙ্গে ডি রুন ও ফ্রেংকি ডি ইয়ং মিলে ওই কৌশলটা নেয়। ওপরে তখন আরও তিনজন থাকে।

আর্জেন্টিনার জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হবে মেসি কোন জায়গাটা নেবে সেটা। উইঙ্গার হিসেবে অ্যাঞ্জেল ডি মারিয়ার থাকাটা জরুরি খুব। চোটের কারণে সে আগের ম্যাচে খেলেনি। আর্জেন্টিনার ডিফেন্স এবার অন্য যেকোনো বারের চেয়ে ভালো বলে আমার মনে হচ্ছে। সব মিলিয়েই আর্জেন্টিনা এ ম্যাচে আমার ফেভারিট।