অনুষ্ঠানে আইনমন্ত্রী

রাস্তাঘাট বন্ধ করে সমাবেশ কোনো মানবাধিকার নয়

গত কয়েক দিন বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূতদের আচরণে কষ্ট পেয়েছেন বলে জানিয়েছেন আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রী আনিসুল হক। রাস্তাঘাট বন্ধ করে সমাবেশ করা কোনো মানবাধিকার নয় বলেও মন্তব্য করেছেন তিনি।

গতকাল শনিবার এক আলোচনা অনুষ্ঠানে ও অনুষ্ঠান শেষে উপস্থিত সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এ মন্তব্য করেন আইনমন্ত্রী। ‘আন্তর্জাতিক মানবাধিকার দিবস’ উপলক্ষে রাজধানীর একটি পাঁচতারকা হোটেলে এই আলোচনা অনুষ্ঠান হয়।

অনুষ্ঠান শেষে বিদেশি রাষ্ট্রদূতদের বিষয়ে আইনমন্ত্রী বলেন, ‘বাংলাদেশ একটি স্বাধীন সার্বভৌম রাষ্ট্র। আমাদের দেশের পরিস্থিতি বিবেচনা করে, জনগণ যেভাবে চায়, আমরা সেভাবেই দেশ পরিচালনা করি। গত কয়েকদিনে আমি যা দেখেছি, দেশের একজন নাগরিক হিসেবে, তাদের (বিদেশি রাষ্ট্রদূত) আচরণে আমি দুঃখিত হয়েছি। আশা করব, এ সব রাষ্ট্রের সঙ্গে বাংলাদেশের বন্ধুত্বের গভীরতা, বিবেচনা করে সুচিন্তিতভাবে তারা কথা বলবেন। ভিয়েনা কনভেনশনে এটাই লেখা আছে।’

একাধিক মামলায় দ-প্রাপ্ত বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারপারসন তারেক রহমানকে দেশে ফিরিয়ে আনার বিষয়ে তিনি বলেন, ‘আমরা প্রক্রিয়া শুরু করব। আপনারা দেখছেন আমাদের প্রতিবন্ধকতা কোথায়। যে সব দেশে তারা আছেন, তাদের রাষ্টদূতেরা আমাদের মানবাধিকার নিয়ে কথা বলছেন, কিন্তু তাদের দেশে মানবাধিকার লঙ্ঘনকারীদের আশ্রয় দিচ্ছেন, সেখান থেকে আনা কঠিন, তবে, আমরা চেষ্টা করছি।’

এর আগে জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের আলোচনা অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন কমিশনের নব নিযুক্ত চেয়ারম্যান ড. কামাল উদ্দিন আহমেদ। রাস্তাঘাট বন্ধ করে সমাবেশ করা মানবাধিকার নয় এই কথা উল্লেখ করে আইনমন্ত্রী বলেন, ‘বাংলাদেশের সংবিধানের ৩৭ অনুচ্ছেদ ও সর্বজনীন মানবাধিকার ঘোষণাপত্রের ২০ অনুচ্ছেদে শান্তিপূর্ণভাবে সভা-সমাবেশ করার অধিকারের কথা বলা আছে। কিন্তু মানবাধিকার প্রতিষ্ঠার এ দুটি অনন্য দলিলের কোথাও বলা নেই রাস্তাঘাট বন্ধ করে, জনসাধারণের চলাচলের পথ রুদ্ধ করে  সভা-সমাবেশ করা যাবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘মানবাধিকার লঙ্ঘনকারীদের বিষয়ে সরকারের অবস্থান একেবারে পরিষ্কার। বাংলাদেশে যারাই মানবাধিকার লঙ্ঘন করবে, তাদেরই আইনের আওতায় এনে বিচার করা হবে।’

আনিসুল হক অভিযোগ করে বলেন, কেউ কেউ রাজনৈতিকভাবে দেশের মানবাধিকার পরিস্থিতিকে নেতিবাচকভাবে চিত্রিত করছে। মন্ত্রী বলেন, ‘আজকাল মানবাধিকার লঙ্ঘন হয়েছে কি-না তা জানার আগেই অনেকে আমাদের মানবাধিকার সম্পর্কে সবক দিচ্ছেন। কিন্তু  ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট, ৩ নভেম্বর ও ২৬ সেপ্টেম্বর এবং ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট ঘৃণ্যতম মানবাধিকার লঙ্ঘন ঘটলেও তারা মানবাধিকার রক্ষা দুরে থাক, এ বিষয়ে একটি টু শব্দও করেন নাই।’