রমজানে নিত্যপণ্যের এলসি খুলতে শর্ত শিথিলের নির্দেশ

পবিত্র রমজান মাস এলেই নিত্যপণ্যের দাম বেড়ে যাওয়া এদেশের বেশ পুরনো বিষয়। স্বাভাবিকভাবেই রমজানে কিছু পণ্যের চাহিদা বেড়ে যায়। এ-সময় ভোজ্য তেল, ডাল, চিনি, ছোলা এবং মসলার চাহিদা বেশি থাকে। তাই আসন্ন রমজানে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের সরবরাহ ঠিক রাখতে আমদানি ঋণপত্র (এলসি) ন্যূনতম মার্জিনে খুলতে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোকে নির্দেশ দিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

গতকাল রবিবার বাংলাদেশ ব্যাংকের ব্যাংকিং প্রবিধি ও নীতি বিভাগ এ সংক্রান্ত নির্দেশনা দিয়ে একটি সার্কুলার জারি করা হয়। রমজানে নিত্যপ্রয়োজনীয় ভোগ্যপণ্যের মূল্য নিয়ন্ত্রণ ও সরবরাহ নিশ্চিত করতে এ নির্দেশনা দিয়েছে আর্থিক খাতের নিয়ন্ত্রণ সংস্থা।

সার্কুলারে বলা হয়, আসন্ন পবিত্র রমজান মাসে ভোজ্য তেল, ছোলা, ডাল, মটর, পেঁয়াজ, মসলা, চিনি এবং খেজুরের মূল্য সহনীয় পর্যায়ে রাখাসহ পর্যাপ্ত সরবরাহ নিশ্চিত করতে পণ্যগুলোর আমদানি ঋণপত্র (এলসি) স্থাপনের ক্ষেত্রে সংরক্ষিতব্য নগদ মার্জিনের হার ব্যাংকার-গ্রাহক সম্পর্কের ভিত্তিতে ন্যূনতম পর্যায়ে রাখতে হবে।

ব্যাংক কোম্পানি আইন, ১৯৯১ এর ৪৫ ধারায় দেওয়া ক্ষমতাবলে জারি করা এ নির্দেশনা অবিলম্বে কার্যকর হবে এবং পরবর্তী নির্দেশনা না দেওয়া পর্যন্ত বলবৎ থাকবে।

প্রতি বছর চাহিদাকে পুঁজি করে অসাধু চক্র রমজানে সিন্ডিকেট তৈরি করে বাড়িয়ে দেয় পণ্যের দাম। যার প্রভাবে নিম্ন-মধ্যবিত্ত ও দরিদ্র মানুষের ওপর মড়ার উপর খাঁড়ার ঘা হয়ে দাঁড়ায়। খেটে খাওয়া, দিনমজুর ও যাদের দৈনিক বা মাসিক আয় নিদিষ্ট, পণ্যের দাম হঠাৎ বেড়ে গেলে তাদের সংসার চালাতে হিমশিম খেতে হয়। তবে সরকার ও বাংলাদেশ ব্যাংকের বিশেষ নির্দেশনায় কয়েক বছর যাবৎ রমজানে পণ্যের দাম তেমন বাড়ছে না। আর আসন্ন রমজানেও যাতে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দামে প্রভাব তৈরি না হয় সেজন্যই বাংলাদেশ ব্যাংক এমন নির্দেশনা দিয়েছে বলে মনে করছেন খাত সংশ্লিষ্টরা।