সাংবাদিক হেনস্তা করা সেই পুলিশ সদস্য প্রত্যাহার

জাতীয় সংসদ ভবনের সামনে মানিক মিয়া এভিনিউয়ে পেশাগত দায়িত্ব পালনের সময় এক সাংবাদিকের মাইক্রোফোন (বুম) কেড়ে নেওয়া পুলিশ সদস্যকে দায়িত্ব থেকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। তাকে পুলিশ লাইনস সংযুক্ত করা হয়েছে। একইসঙ্গে তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণের বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। গতকাল সোমবার ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স বিভাগের উপকমিশনার (ডিসি) মো. ফারুক হোসেন এসব তথ্য জানান।

তিনি আরও জানান, গত রবিবার বিএনপির সংসদ সদস্যদের পদত্যাগ বিষয়ে লাইভ সম্প্রচারের সময় ডিএমপির প্ররক্ষা বিভাগের কনস্টেবল মো. শাহিনূর রহমান এক সাংবাদিকের বুম কেড়ে নিয়ে দায়িত্ব পালনে বিঘ্ন ঘটান। বিষয়টি ডিএমপি কমিশনারকে অবহিত করা হয়। অপেশাদার আচরণের জন্য কনস্টেবল শাহিনূরের বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়।

ভুক্তভোগী নাগরিক টিভির সিনিয়র রিপোর্টার সাইদ আরমান বলেন, রবিবার জাতীয় সংসদে বিএনপির সংসদ সদস্যরা পূর্বঘোষণা অনুযায়ী পদত্যাগপত্র জমা দিতে যান। বিষয়টি নিয়ে বিভিন্ন টেলিভিশন চ্যানেল সংসদের ভেতরে এবং বাইরে থেকে দফায় দফায় লাইভ করে। তিনিও লাইভ করেন। বিএনপির সংসদ সদস্যরা পদত্যাগপত্র জমা দিয়ে বের হয়ে যাওয়ার পর তিনি সংসদ ভবনের বাইরে দক্ষিণ প্লাজার পাশের রাস্তায় দুপুর ২টার সংবাদে লাইভ দেওয়ার সময় একজন পুলিশ সদস্য অনাকাক্সিক্ষতভাবে তার মাইক্রোফোন কেড়ে নেন। তাকে সেখান থেকে সরিয়ে দেন, যা স্বাধীন সাংবাদিকতার অন্তরায়। এই ঘটনার প্রতিবাদ জানিয়েছে সাংবাদিক সংগঠনগুলো। এক বিবৃতিতে ডিআরইউ’র নেতারা বলেন, সাইদ আরমান তার পেশাগত দায়িত্ব পালন করছিলেন। লাইভ চলাকালে তার কাছ থেকে মাইক্রোফোন কেড়ে নিয়ে তাকে হেনস্তা করা হয়েছে। এটা স্বাধীন ও মুক্ত সাংবাদিকতার অন্তরায়। দায়ী পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে তদন্ত করে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জোর দাবি জানানো হয় ডিআরইউ’র বিবৃতিতে।