বিপরীত প্রান্তে দাঁড়িয়েও দু’দলেরই সেরা সুযোগ

আইসিসি টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে একদম বিপরীত দুই অবস্থানে দাঁড়িয়ে দুই দল বাংলাদেশ ও ভারত।  চলমান চক্রে বাংলাদেশের শেষ দুটো টেস্ট, দেশের মাটিতে ভারতের বিপক্ষে। এখন পর্যন্ত টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের ৮ ম্যাচে ১ জয় ও ১ ড্র বাংলাদেশের, বাকি ৬ ম্যাচেই হার। দেশের মাটিতে ভারতের বিপক্ষে সিরিজটা জিতলেও টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের তলানি থেকে উঠে দাঁড়াবার সুযোগ নেই। অন্যদিকে ভারত যদি বাংলাদেশের বিপক্ষে পয়েন্ট হারায়, তাহলে আগামী বছর দেশের মাটিতে অস্ট্রেলিয়ার সঙ্গে চার টেস্টের সিরিজে সবগুলো ম্যাচ জিতলেও তাদের টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালে খেলার কোনো সম্ভাবনা থাকবে না।

ভারতের টেস্ট দলের নিয়মিত অধিনায়ক রোহিত শর্মাসহ ইনজুরির কারণে বেশ কয়েকজন ক্রিকেটারই নেই, তাই বাংলাদেশের জন্য ভারতের বিপক্ষে টেস্টে ভালো করার এটাই সেরা সুযোগ। অন্যদিকে টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালে খেলার সম্ভাবনা জিইয়ে রাখতে বাংলাদেশের চাইতে সহজ কোনো প্রতিপক্ষ পাবে না ভারতও। এমন বিপরীতমুখী অবস্থানে থেকেই আজ চট্টগ্রামের জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে মাঠে নামছে দুই দল।

বাংলাদেশের কোচ রাসেল ডমিঙ্গো সংবাদ সম্মেলনে এসে জানিয়ে দিয়েছেন, অভিষেক হতে যাচ্ছে ব্যাটসম্যান জাকির হাসানের। কিছুদিন আগেই বাংলাদেশ সফরে আসা ভারত ‘এ’ দলের বিপক্ষে কক্সবাজারে ১৭৩ রানের ইনিংস খেলে দলের হার বাঁচিয়েছিলেন জাকির। তামিম ইকবালের চোটজনিত অনুপস্থিতিতে জাকিরকে সুযোগ দিতে চাইছে টিম ম্যানেজমেন্ট। ‘জাকিরকে নিয়ে আমি বেশ রোমাঞ্চিত। তার মধ্যে বেশ ভালো একটা উদ্দীপনা দেখতে পাচ্ছি। আমি জানি সে ঘরোয়া ক্রিকেটে ভালো করেছে। সে বাংলাদেশের হয়ে একটা টি-২০ ম্যাচ খেলেছে। সে ব্যাট করার সময় যেভাবে রান করে সেটা দেখতে ভালো লাগে, অনেকটাই তামিমের মতো ব্যাট করে সে। সুন্দর ও ইতিবাচক ব্যাটিং। আশা করছি সে কাল (আজ) সকালে সুন্দর একটা শুরু এনে দেবে আমাদের’ সংবাদ সম্মেলনে বলেছেন কোচ ডমিঙ্গো।

টেস্ট দলের খেলোয়াড়দের অনেকেই ভারতের তামিলনাড়– একাদশের বিপক্ষেও খেলে এসেছেন। তারপর খেলেছেন ভারত ‘এ’ দলের বিপক্ষে। জাকিরের সঙ্গে আরেক ওপেনার হিসেবে মাহমুদুল হাসান জয়কেই এগিয়ে রাখছেন কোচ, ‘মুমিনুল আর জয় আন্তর্জাতিক ক্রিকেট খেলেছে ছয় মাস আগে। কেউ যখন শুধু একটা ফরম্যাটেই খেলে তখন এটাই চ্যালেঞ্জ (মানিয়ে নেওয়া)। সাকিব (আল হাসান) ও লিটন (দাস) প্রতি সপ্তাহেই আন্তর্জাতিক ক্রিকেট খেলছে, তাদের জন্য মানিয়ে নেওয়াটা বড় কোনো সমস্যা নয়। আমি জানি মূল্যায়নটা হবে রানের হিসাবে। তবে টেকনিক্যালি দুজনেই যেভাবে খেলছে তাতে বেশ আশাবাদী হওয়া যায়। জয় বেশ কতগুলো ম্যাচে শুরুটা ভালো করেছে, এখন ওর জন্য চ্যালেঞ্জ হচ্ছে সঠিক ছন্দটা ধরতে পারা আর রানটা বড় করা।’

টি-টোয়েন্টি, ওয়ানডে, টেস্ট তিন ফরম্যাটেই নাজমুল হোসেন শান্ত যেন ‘অটোমেটিক চয়েস’। শ্রীধরন শ্রীরাম থেকে ডমিঙ্গো, সবাই শান্তর প্রশংসায় পঞ্চমুখ! দক্ষিণ আফ্রিকান কোচ জানালেন, শান্তর ওপর আস্থা আছে বছর দেড়ের আগে করা দুই সেঞ্চুরির ইনিংসের কারণে, ‘সে টেস্টে ভালো করার লক্ষণ দেখিয়েছে, সে বছর দেড়েক আগে দুটো শতরান করেছে যার একটা ছিল শ্রীলঙ্কায় তাদের বিপক্ষে। তরুণ খেলোয়াড়দের জন্য টপ অর্ডারে ব্যাট করাটা কঠিন। ১, ২ ও ৩ এই পজিশনগুলোতে ব্যাট করা আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে কঠিনতম কাজ। আশা করছি তারা আমাদের আস্থার প্রতিদান দেবে আর কোচ ও নির্বাচকদের মুখরক্ষার জন্য কিছু অন্তত করবে।’

খানিকটা চোট সংক্রান্ত উদ্বেগ ছিল সাকিবকে নিয়ে। হাসপাতাল ঘুরে এসে অনেকক্ষণ ব্যাটিং অনুশীলন করেছেন টেস্ট অধিনায়ক, ডমিঙ্গোও জানালেন সাকিব শঙ্কামুক্ত এবং খেলবেন চট্টগ্রাম টেস্টে ‘আমরা এখনো তাকে পর্যবেক্ষণে রাখছি। আমরা বিকেলের পরে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেব। আশা করছি সে ঠিক হয়ে যাবে। সাকিব পাঁজর ও কাঁধের ব্যথায় ভুগছে, আশা করি সে কিছুক্ষণ অনুশীলন করে যেতে পারবে।’

ওয়ানডে সিরিজের দুটো ম্যাচে তাসকিন আহমেদকে চোটের কারণে খেলায়নি বাংলাদেশ, তৃতীয় ওয়ানডেতে খেললেও রান দিয়েছেন ৮৯! তাই চট্টগ্রাম টেস্টে তাসকিনকে আর খেলাচ্ছে না বাংলাদেশ।

উইকেটরক্ষক হিসেবে খেলবেন নুরুল হাসান, যদিও দলে মুশফিকুর রহিম এবং লিটন দাসের মতো অভিজ্ঞ উইকেটরক্ষকরা আছেন। চট্টগ্রামের উইকেটে বোলারদের জন্য সহায়তা থাকেই না বললে চলে। শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে এই মাঠে সবশেষ হয়ে যাওয়া টেস্টে ড্র করেছিল বাংলাদেশ, সেঞ্চুরি ছিল তামিম আর মুশফিকের, সঙ্গে ৮৮ রান ছিল লিটনের। নাঈম হাসান পেয়েছিলেন ৬ উইকেট।

এসব পরিসংখ্যান যেমন আশা জাগাচ্ছে, তেমনি ভয়ও আছে। এখানে অ্যাঞ্জেলো ম্যাথুজ প্রায় ডাবল সেঞ্চুরি (১৯৯) রান করে ফেললে বিরাট কোহলি কী করতে পারেন সেই ভয়টা তো থাকছেই, বিশেষ করে আগের ওয়ানডেতেই অমন নান্দনিক অথচ বিধ্বংসী শতরান করেছেন। ভাবনার নাম রবিচন্দ্রন অশ্বিনও। বাঁহাতি স্পিন এবং খানিকটা ব্যাটিং দক্ষতায় রবীন্দ্র জাদেজার বিকল্প অক্ষর প্যাটেল, তৃতীয় স্পিনার হিসেবে কুলদীপ যাদব আর সৌরভ কুমারের ভেতর হবে একাদশে জায়গা পাওয়ার লড়াই।

ইংল্যান্ডের কল্যাণে টেস্টেও এখন একদিনে ৫০০ রান হচ্ছে, ভারতের ভারপ্রাপ্ত অধিনায়ক লোকেশ রাহুলও বললেন, ‘আমাদের টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালে খেলার একটা ব্যাপার আছে, আমরা অবশ্যই আক্রমণাত্মক থাকব। আমরা জানি আমরা কোথায় আছি এবং ফাইনালে উঠতে গেলে আমাদের কী করতে হবে।’

ওয়ানডে সিরিজে হারের পর টেস্ট সিরিজে পয়েন্ট খোয়ানো এড়াতে ভারত মরিয়া, কারণ টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালে খেলার হিসাব। আর হারানোর কিছুই নেই বাংলাদেশের। ফুটবল বিশ্বকাপের মরক্কোকে অনুপ্রেরণা হিসেবে দেখতে পারে বাংলাদেশ, হিসাবের বাইরে থেকে এসে সেমিফাইনালে খেলার মতো বাংলাদেশ কি পারবে ভারতকে হিসাবের বাইরে পাঠিয়ে দিতে?