করোনা মহামারীর প্রভাব কাটিয়ে ওঠার আগেই রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ শুরু হওয়ায় বিশ্বব্যাপী অর্থনৈতিক সংকট দেখা দিয়েছে। এতে বিশ্ববাজারে বেড়েছে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম। আর বৈশি্বক সংস্থাগুলো থেকে উন্নয়নশীল দেশে খাদ্য সংকট তৈরির সতর্কতা দেওয়া হচ্ছে। তাই দেশে খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে চাল ও গম আমদানিতে এলসির (ঋণপত্র) নগদ মার্জিন হার ন্যূনতম রাখতে ব্যাংকগুলোকে নির্দেশ দিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। গতকাল বুধবার বাংলাদেশ ব্যাংকের ব্যাংকিং প্রবিধি ও নীতি বিভাগ থেকে এ সংক্রান্ত একটি প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়।
এতে বলা হয়, সাম্প্রতিক সময়ে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের নেতিবাচক প্রভাবে আন্তর্জাতিক বাজারে সরবরাহ ব্যবস্থা বিঘ্ন হওয়ায় খাদ্যশস্যের মূল্য বাড়ার বিষয়টি পরিলক্ষিত হচ্ছে। আন্তর্জাতিক পণ্য পরিবহন ব্যয়ও বৃদ্ধি পাওয়ায় খাদ্যশস্যের মূল্যের ওপর এর নেতিবাচক প্রভাব দেখা দিচ্ছে। ভবিষ্যৎ খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণের জন্য দেশের প্রধান খাদ্যশস্য চাল ও গমের মূল্য সহনীয় পর্যায়ে রাখাসহ নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ অব্যাহত রাখা আবশ্যক। এ প্রেক্ষাপটে অভ্যন্তরীণ বাজারে চাল ও গমের মূল্য সহনীয় পর্যায়ে রাখা এবং সরবরাহ ব্যবস্থা নিরবচ্ছিন্ন রাখতে আমদানির ঋণপত্র স্থাপনে নগদ মার্জিনের হার ব্যাংকার-গ্রাহক সম্পর্কের ভিত্তিতে ন্যূনতম পর্যায়ে রাখার জন্য নির্দেশনা প্রদান করা হলো।
ব্যাংক কোম্পানি আইন, ১৯৯১-এর ৪৫ ধারায় প্রদত্ত ক্ষমতাবলে জারি করা নির্দেশনা অবিলম্বে কার্যকর করে পরবর্তী নির্দেশনা না দেওয়া পর্যন্ত তা বলবত রাখতে ব্যাংকগুলোর ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তাদের জানানো হয়েছে।
এর আগে গত রবিবার আসন্ন পবিত্র রমজান মাসে নিত্যপ্রয়োজনীয় ভোজ্যতেল, ছোলা, ডাল, মটর, পেঁয়াজ, মসলা, চিনি এবং খেজুরসহ ৮টি পণ্য আমদানিতে ন্যূনতম মার্জিনে এলসি খুলতে ব্যাংকগুলোকে নির্দেশনা দিয়েছিল কেন্দ্রীয় ব্যাংক। গত মঙ্গলবারের আরেক নির্দেশনায় এসব পণ্য বাকিতে আমদানির সুযোগও দেওয়া হয়।