মোশাররফ বললেন

সরকার ক্ষমতায় টিকে থাকতে যা ইচ্ছা তা-ই করছে

‘দেশের বদনাম করতে বিএনপি বিদেশে ভাড়াটে নিয়োগ করেছে।’ জাতির উদ্দেশে দেওয়া প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভাষণের জবাবে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ বলেন, ‘বিএনপি কাদের ভাড়া করেছে, তাদের নাম ও ঠিকানা প্রকাশ করুন।’ তিনি বলেন, ‘ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের নানা অপকর্মের কারণে দেশের গ-ি পেরিয়ে বিদেশেও সমালোচিত হচ্ছে। ঢাকায় বিএনপির একটি বিভাগীয় গণসমাবেশকে সামনে রেখে নয়াপল্টনে আমাদের দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে যে তান্ডাব চালিয়েছে, একটা স্বাধীন দেশে কেউ কল্পনা করতে পারে না। সরকার তার অবৈধ ক্ষমতায় টিকে থাকার জন্য যা ইচ্ছা, তা-ই করছে।’

বিজয় দিবস উপলক্ষে গতকাল শনিবার দুপুরে জাতীয় প্রেস ক্লাবে বিএনপি সমর্থক পেশাজীবীদের সংগঠন বাংলাদেশ সম্মিলিত পেশাজীবী পরিষদ কর্তৃক আয়োজিত সভায় ‘মহান বিজয় দিবস ও বর্তমান প্রেক্ষাপট’ শীর্ষক এক আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

খন্দকার মোশাররফ বলেন, ‘র‌্যাবকে দিয়ে অনৈতিক, নিয়মবহির্ভূত কাজ করানোয় নিষেধাজ্ঞা এসেছে। এই নিষেধাজ্ঞায় আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দেশের যে বদনাম হয়েছে, তা আওয়ামী লীগ এনেছে। সারা বিশ্ব বাংলাদেশকে এখন আর গণতান্ত্রিক দেশ বলে না। আমেরিকায় গণতান্ত্রিক সম্মেলনে বাংলাদেশকে আমন্ত্রণ জানানো হয়নি। এটা কি বাংলাদেশের জন্য সুনাম? যদি বদনাম হয়ে থাকে, তাহলে এর জন্য দায়ী আওয়ামী লীগ।’

সাবেক এই মন্ত্রী বলেন, ‘প্রমাণ রয়েছে জনগণ এরশাদের স্বৈরতন্ত্র গণ-অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে বিদায় করেছে। এরশাদের বিরুদ্ধে আমরা করতে পেরেছি, তাহলে এখন কেন আমরা করতে পারব না। দেশের সংকট মোকাবিলা জনগণ করবে। অতীতেও করেছে এবং ভবিষ্যতেও করবে। দেশের সংকট রাস্তায় মোকাবিলা করে তারা সমাধান করবে এবং জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠা করবে।

খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত গুম হওয়া একটি পরিবারের খোঁজখবর নেওয়ার জন্য ঢাকায় একটি বাসায় গেছেন।  সেখানে গিয়ে তাদের (ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের)  লেলিয়ে  দেওয়া পেটুয়া বাহিনী রাষ্ট্রদূতকে অপমান করেছে। এগুলো আওয়ামী লীগ কীভাবে লুকিয়ে রাখবে?’

সংগঠনটির আহ্বায়ক ও বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেনের সভাপতিত্বে এবং সংগঠনের সদস্য সচিব ও সাংবাদিক নেতা কাদের গনি চৌধুরীর পরিচালনায় অনুষ্ঠিত সভায় বক্তব্য দেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক প্রো-ভিসি অধ্যাপক ড. আ ফ ম ইউসুফ হায়দার, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষক অধ্যাপক ড. তাজমেরী এস এ ইসলাম, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সাদা দলের আহ্বায়ক অধ্যাপক লুৎফর রহমান প্রমুখ।