তারা আন্দোলনেও হারবে নির্বাচনেও হারবে : কাদের

আন্দোলন ও নির্বাচনে বিএনপিকে পরাজিত করা হবে উল্লেখ করে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেছেন, আওয়ামী লীগ আন্দোলনে খেলবে, নির্বাচনেও খেলবে। সেমিফাইনাল সামনে, তারপর ফাইনাল। ফাইনালে আন্দোলনেও তারা হারবে, নির্বাচনেও তারা হারবে।

গতকাল শনিবার রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশনের সামনে আওয়ামী লীগের বিজয় শোভাযাত্রা-পূর্ব সংক্ষিপ্ত সমাবেশে এসব কথা বলেন ওবায়দুল কাদের।

শোভাযাত্রাটি সমন্বয় করে ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ আওয়ামী লীগ। দুপুরের আগ থেকে পায়ে হেঁটে, ট্রাকে, পিকআপে করে মিছিল নিয়ে ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ আওয়ামী লীগ, যুবলীগ,স্বেচ্ছাসেবক লীগ, মহিলা আওয়ামী লীগ, যুব মহিলা লীগ, ছাত্রলীগসহ বিভিন্ন সংগঠনের নেতাকর্মীরা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশনের সামনে জড়ো হতে থাকে। এক পর্যায়ে তাদের অবস্থান শাহবাগ, কাঁটাবন মোড়, মৎস্য ভবন, হাইকোর্ট, প্রেস ক্লাব এলাকা পর্যন্ত ছাড়িয়ে যায়।

নেতাকর্মীদের অনেকেই লাল-সবুজসহ বিভিন্ন রঙের পোশাক পরে ব্যান্ড পার্টি, জাতীয় পতাকা, দলীয় পতাকাসহ আনন্দ-উৎসব করে শোভাযাত্রায় যোগ দিতে আসেন। এ কারণে দুপুর আড়াইটার দিকে মৎস্য ভবন থেকে কাঁটাবন পর্যন্ত সড়কে যান চলাচল বন্ধ করে দেওয়া হয়। বেলা গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে প্রেস ক্লাব থেকে মৎস্য ভবন সড়কের যান চলাচল বন্ধ করে দেওয়া হয়। 

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের শোভাযাত্রা-পূর্ব সমাবেশে বলেন, ‘আমি এখানে এসেছি মোটরসাইকেলে করে। ঢাকায় শুধু সেøাগান, আর সেøাগান। বুড়িগঙ্গা, ধলেশ্বরী, শীতলক্ষ্যার সব ঢেউ ঢাকা মহানগরীতে।’

জনগণ বিএনপিকে ১০ তারিখে লালকার্ড দেখিয়েছে উল্লেখ করে ওবায়দুল কাদের বলেন, পেয়েছে অশ্বডিম্ব। ৩০ তারিখেও ঘোড়ার ডিম পাবে, যদি তারা সফল হয় সেদিন ঘোড়া ডিম পাড়বে।

২৪ তারিখের গণমিছিল ৩০ তারিখে নেওয়ায় বিএনপিকে ধন্যবাদ জানান কাদের। তিনি বলেন, ২৪ তারিখে আওয়ামী লীগের জাতীয় সম্মেলন। তাদের শুভবুদ্ধির উদয় হয়েছে, গণমিছিল ৩০ তারিখে নিয়ে গেছে।

নির্বাচন ছাড়া কোনো ষড়যন্ত্র বা সন্ত্রাস করে আওয়ামী লীগকে ক্ষমতাচ্যুত করা যাবে না উল্লেখ করে দলের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য আবদুর রাজ্জাক বলেন, ‘মানুষ শেখ হাসিনাকে দেশ পরিচালনা করার জন্য দায়িত্ব দিয়েছে। আগামী নির্বাচন পর্যন্ত তিনি ক্ষমতায় থাকবেন। পৃথিবীর কোনো শক্তি ষড়যন্ত্র করে আওয়ামী লীগকে ক্ষমতাচ্যুত করতে পারবে না। নির্বাচনে জনগণ ভোট না দিলে আমরা সালাম করে চলে যাব।’

জনগণের হৃদয়ের মাঝে আওয়ামী লীগের শেকড় প্রোথিত দাবি করে সভাপতিম-লীর আরেক সদস্য শাজাহান খান বলেন, ‘এই শেকড় অনেক শক্তিশালী। আওয়ামী লীগকে ধ্বংস করার জন্য বিএনপি-জামায়াত ভেংচি মারে। আমরা কোনো বানরের ভেংচিতে ভয় পাই না। তার জবাব জনগণকে সঙ্গে নিয়েই আওয়ামী লীগ  দেবে।’

দেশের উন্নয়ন, অগ্রগতি, শান্তি-শৃঙ্খলা বিঘিœত করে বিএনপি অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টির ষড়যন্ত্র করছে দাবি করে আওয়ামী লীগের সভাপতিম-লীর আরেক সদস্য জাহাঙ্গীর কবির নানক বলেন, এই ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে।

সভাপতিম-লীর সদস্য আবদুর রহমান বলেন, ‘বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে বাংলাদেশ স্বাধীন হয়েছে। তার কন্যা শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আমরা দেশকে রাজাকার, সন্ত্রাস, জঙ্গিবাদ, ক্ষুধা ও দারিদ্র্যমুক্ত করব।’

বাংলাদেশে স্বাধীনতাবিরোধী রাজনৈতিক শক্তির কোনো অধিকার থাকতে পারে না দাবি করে আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুবউল আলম হানিফ বলেন, ‘তাদের রাজনৈতিকভাবে নিশ্চিহ্ন করতে হবে। যতদিন এসব শক্তি রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় থেকে সক্রিয় থাকবে ততদিন এই দেশের সমস্যার সৃষ্টি হবে, ষড়যন্ত্র হবে।

ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগের সভাপতি আবু আহমেদ মন্নাফীর সভাপতিত্বে আরও উপস্থিত ছিলেন আওয়ামী লীগের সভাপতিম-লীর সদস্য মতিয়া চৌধুরী, মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া, কামরুল ইসলাম, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক দীপু মনি, আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, সাংগঠনিক সম্পাদক আবু সাঈদ আল মাহমুদ স্বপন, মির্জা আজম, নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী, প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক আবদুস সোবহান গোলাপ প্রমুখ।

পরে আওয়ামী লীগের ওবায়দুল কাদেরের নেতৃত্বে দলটির নেতাকর্মীরা শোভাযাত্রা শুরু করে। শোভাযাত্রাটি শাহবাগ, সায়েন্স ল্যাব, কলাবাগান হয়ে ধানমন্ডির ৩২ নম্বরে গিয়ে শেষ হয়।