অনলাইনে জুয়া

বিজ্ঞাপন প্রচার বন্ধের ব্যর্থতা নিয়ে রুল

ইন্টারনেটভিত্তিক বিভিন্ন অনলাইন প্ল্যাটফর্ম ও টিভি স্ক্রিনে জুয়ার বিজ্ঞাপন প্রচার বন্ধ ও তা অপসারণে কর্তৃপক্ষের ব্যর্থতা কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল দিয়েছে উচ্চ আদালত। এ সংক্রান্ত রিট আবেদনের ওপর শুনানি নিয়ে গতকাল রবিবার বিচারপতি কে এম কামরুল কাদের ও বিচারপতি মোহাম্মদ আলীর হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রুল দেয়। চার সপ্তাহের মধ্যে ডাক ও টেলিযোগাযোগ সচিব, তথ্য ও সম্প্রচার সচিব, যুব ও ক্রীড়াসচিব, বিটিআরসির (বাংলাদেশ টেলিকমিউনিকেশন রেগুলেটরি কমিশন) চেয়ারম্যান, বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ও বাংলাদেশ প্রেস কাউন্সিলের চেয়ারম্যানকে চার সপ্তাহের মধ্যে রুলের জবাব দিতে বলেছে আদালত। অনলাইনে জুয়ার বিজ্ঞাপন প্রচার বন্ধে সংশ্লিষ্ট কর্র্তৃপক্ষের ব্যর্থতা চ্যালেঞ্জ করে গত ১১ ডিসেম্বর সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মোহাম্মদ মিফতাউল আলম ও সুমিত কুমার সরকার এ রিট আবেদনটি করেন। আবেদনের পক্ষে শুনানিতে ছিলেন আইনজীবী কামাল হোসেন মিয়াজী। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল এবিএম আবদুল্লাহ আল মাহমুদ বাশার।

অ্যাডভোকেট কামাল হোসেন মিয়াজী দেশ রূপান্তরকে বলেন, সংবিধানের ১৮ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী গণিকাবৃত্তি ও জুয়াখেলা নিরোধে রাষ্ট্রকে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করতে বলা হয়েছে। এ ছাড়া পাবলিক গ্যাম্বলিং অ্যাক্ট-১৮৬৭ অনুযায়ী জুয়া একটি শাস্তিযোগ্য অপরাধ। অন্যদিকে পাবলিক গ্যাম্বলিক অ্যাক্টে কী কী বিষয় জুয়ার অন্তর্ভুক্ত হবে সে বিষয়ে বিস্তারিত উল্লেখ নেই। হাইকোর্টের একটি রায়ে সংবিধানের ১৮ অনুচ্ছেদ ও পাবলিক গ্যাম্বলিক অ্যাক্ট মিলিয়ে বলা হয়েছে, যেসব অর্থপ্রাপ্তির সফলতা দক্ষতার ওপর নয় ভাগ্যের ওপর নির্ভর করে তাই জুয়া। তিনি বলেন, ‘সাম্প্রতিককালে অনলাইন ও বিভিন্ন টিভি স্ক্রিনে জুয়ার বিজ্ঞাপনের ব্যাপকতা মারাত্মকভাবে বেড়েছে। বিশ^কাপ ফুটবলকে কেন্দ্র করে এর ব্যাপকতা বেড়েছে। নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে সমাজ ও মানুষের পারিবারিক জীবনে। আদালত জুয়া নিরোধে সংশ্লিষ্টদের ব্যর্থতা নিয়ে রুল দিয়েছেন।’