ভ্যাট ফাঁকির ৩ কোটি টাকা জমা দিল বাংলা ট্র্যাক

বিক্রি কম দেখিয়ে ভ্যাট ফাঁকি দিয়েছে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বাংলা ট্র্যাক লিমিটেড। প্রতিষ্ঠানটি ২০১৭ সালের জুলাই থেকে ২০১৯ সালের জুন পর্যন্ত পণ্য বিক্রি ও অন্যান্য খাতে ব্যয় কম দেখায়, যা জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের মূসক নিরীক্ষা, গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরের (ভ্যাট গোয়েন্দা) তদন্তে ধরা পড়ে। এরপর ভ্যাট ফাঁকির প্রায় ৩ কোটি টাকা পরিশোধ করেছে প্রতিষ্ঠানটি। বাংলা ট্র্যাক জ্বালানি, বিদ্যুৎ, অবকাঠামো নির্মাণ ও ভাড়া এবং টেলিযোগাযোগ, খাদ্যপণ্য ও তথ্যপ্রযুক্তি খাতের ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠান। 

মূসক নিরীক্ষা, গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরের (ভ্যাট গোয়েন্দা)  তৈরি প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা যায়।

প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, বাংলা ট্র্যাক লিমিটেডের কাছে ২০১৭ সালের জুলাই থেকে ২০১৯ সালের জুন পর্যন্ত ২ কোটি ২৩ লাখ ৮ হাজার ৩৬৬ টাকা ও ২০১৯ সালের জুলাই থেকে ২০২১ সালের জুন পর্যন্ত ৭৯ লাখ ৮ হাজার ৫৬৮ টাকার ভ্যাট পাওনা হয়।

ভ্যাট গোয়েন্দা প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, ২০১৭-১৮ ও ২০১৮-১৯ অর্থবছরে বাংলা ট্র্র্যাক লিমিটেড বিক্রি কম দেখিয়েছে ৯ কোটি ৮৩ লাখ ৬২ হাজার ৯০০ টাকা। যেখানে সুদসহ প্রযোজ্য মূসক ৬০ লাখ ৩৯ হাজার ২৫৭ টাকা।

প্রতিষ্ঠানটির বার্ষিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০১৭-১৮ অর্থবছর প্রতিষ্ঠানটি  স্পেয়ার পার্টস ও অয়েল, জেনারেটর ও মেশিনের যন্ত্রাংশ, ওয়ার্কশপ, ইঞ্জিনিয়ার ভাতা, রেন্টাল অপারেটরের মজুরিসহ প্রায় শতাধিক খাতে ৩৫৭ কোটি ১৯ লাখ টাকা ব্যয় করেছে। যার ওপর প্রযোজ্য উৎসে মূসক প্রায় ১৮ কোটি ৬ লাখ টাকা। এর মধ্যে প্রতিষ্ঠানটি প্রায় ৫৩ লাখ ৫৮ হাজার টাকা পরিশোধ করেনি, যা সুদসহ দাঁড়িয়েছে প্রায় ৮০ লাখ ৩৮ হাজার টাকা। ২০১৮-১৯ অর্থবছর প্রতিষ্ঠানটি কেনাকাটা বা ব্যয় করেছে প্রায় ৩৬৭ কোটি ৬১ লাখ টাকা। এর মধ্যে প্রায় ৪৩ লাখ ১৩ হাজার টাকা পরিশোধ করেনি, যা সুদসহ ৫৪ লাখ ৩৪ হাজার টাকা। অর্থাৎ দুই অর্থবছরে প্রতিষ্ঠানটির কাছে পাওনা ছিল ১ কোটি ৩৪ লাখ ৭৩ হাজার টাকার ভ্যাট। বাংলা ট্র্যাক লিমিটেডের কাছে এ দুই অর্থবছর স্থাপনা ও জায়গা ভাড়ার ওপর সুদসহ প্রায় ২৭ লাখ ৯৫ হাজার টাকা ভ্যাট পাওনা হয়। দুই অর্থবছর বাংলা ট্র্যাক লিমিটেড বিক্রি, প্রতিষ্ঠানের ব্যয় বা কেনাকাটা ও স্থাপনা ভাড়ার বিপরীতে সুদসহ ২ কোটি ২৩ লাখ ৮ হাজার ৩৬৬ টাকার ভ্যাট পাওনা হয় প্রতিষ্ঠানটির কাছে।