ভিজিডি কার্ড প্রতি সাড়ে ৩ হাজার টাকা দাবি

নেত্রকোনার মোহনগঞ্জে অতি দরিদ্রদের ভিজিডি কার্ড করার জন্য টাকা নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে উপজেলার মাঘান-শিয়াধার ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য রনক মিয়ার বিরুদ্ধে। তিনি কার্ড প্রতি সাড়ে তিন হাজার টাকা দাবি করেছেন এমন অভিযোগ এনে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন কয়েজন ভুক্তভোগী।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ছাব্বির আহমেদ আকুঞ্জি সোমবার (১৯ ডিসেম্বর) অভিযোগ পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, বিষয়টি তদন্ত করতে মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তাকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

এর মধ্যেই, টাকা চাওয়ার বিষয়ে ইউপি সদস্য রনক মিয়া এবং তার সহযোগী বাদশা মিয়ার কলরেকর্ড ফাঁস হয়েছে।

ওই কল রেকর্ড থেকে শোনা যায়: ইউপি সদস্য তার সহযোগী বাদশাকে প্রতি ভিজিডি কার্ডে পাঁচ হাজার টাকা করে নেওয়ার জন্য বলে দিচ্ছেন। এত টাকা মানুষ দিতে চায় না, বাদশার এমন জবাবে মেম্বার বলেন- তাহলে সাড়ে তিন হাজারের কম নিস না।

অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, সম্প্রতি মাঘান-শিয়াধার ইউনিয়নের (ইউপি) ৬ নম্বর ওয়ার্ডের মেম্বার রনক মিয়া এলাকার লোকজনের কাছে ভিজিডি কার্ড করে দেওয়ার জন্য পাঁচ হাজার করে টাকা চেয়েছেন। কারো কারো কাছে মেম্বার তার সহযোগী বাদশা মিয়ার মাধ্যমেও টাকা চেয়েছেন। পরে তিনি সবাইকে কার্ড প্রতি সাড়ে তিন হাজার টাকা দিলেই হবে বলে জানিয়েছেন। এ ঘটনায় বিচার চেয়ে সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ডের কুড়েরপার গ্রামের সুজন মিয়া, বিনা আক্তার, হেলেনা আক্তার, পুতুলা আক্তার, রাজিয়াসহ বেশ কয়েকজন ইউএনওর কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, অতি দরিদ্রদের জন্য ভিজিডি কার্ড দেওয়া হচ্ছে। প্রতি কার্ডের বিপরীতে একজন দরিদ্র মানুষ প্রতি মাসে ৩০ কেজি চাল পাবেন বিনামূল্যে। যাচাই-বাছাই করে এ তালিকা করেন সংশ্লিষ্ট ইউপি সদস্য।

অভিযোগকারী মো. সুজন মিয়া জানান, 'আমার এক আত্মীয়ের জন্য ভিজিডি কার্ড বানাতে গিয়েছিলাম মেম্বারের কাছে। মেম্বার বলেছে-পাঁচ হাজার টাকার কমে কার্ড করা যাবে না। এভাবেই অন্য সবার কাছে কারো কাছে পাঁচ হাজার, কারো কাছে সাড়ে তিন হাজার টাকা চেয়েছে। আমার কাছে টাকা চাওয়ার প্রমাণ আছে।'

মেম্বারের সহযোগী সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ডের কুরপাড় গ্রামের বাসিন্দা বাদশা মিয়া বলেন, 'কল রেকর্ডে মেম্বারের সাথে কথোপকথনকারী ব্যক্তি আমিই। মেম্বার আমাকে ভিজিডি কার্ড করে নেওয়ার জন্য মানুষের কাছ থেকে সাড়ে তিন হাজার টাকা করে নিতে বলেছিল। কিন্তু পরে আমি আর এ কাজ করিনি।'

এ ব্যাপারে অভিযুক্ত রনক মিয়া বলেন, 'এ অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা ও বানোয়াট। আমি ভিজিডি কার্জ করতে কারও কাছে কোনো টাকা চাইনি। অভিযোগকারী সুজনের সাথে আমার পুরনো বিরোধ আছে তাই সে এই বিষয়টাকে কাজে লাগিয়ে মিথ্যা অভিযোগ করেছে। তার সাথে যুক্ত হয়েছে নির্বাচনে পরাজিত আমার প্রতিপক্ষের লোকজন। আমার ওয়ার্ডে মাত্র ১০টি ভিজিডি কার্ড দেওয়া হয়েছে।'

কল রেকর্ড সম্পর্কে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, 'এই কণ্ঠ আমার না। ছোট ভাই বাদশা তার সাথে অন্য বিষয়ে কথা হয়েছে। সে আমার প্রতিপক্ষের লোক।'

তদন্তের দায়িত্বে থাকা উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা রুমানা রহমান বলেন, এ বিষয়ে তদন্তের দায়িত্ব পেয়েছি। এখনও কাজ শুরু করিনি। কাল-পরশু দুপক্ষকে ডেকে তাদের কাছে তথ্য প্রমাণ চাওয়া হবে। পরে এ বিষয়ে তদন্ত করে প্রতিবেদন দেব।