দ্বিতীয় দিনে ক্রেতা-দর্শনার্থীদের পদচারণায় মুখর

আবাসনের স্বপ্ন পূরণে সাধ ও সাধ্যের মধ্যে প্লট ও ফ্ল্যাট খুঁজে নিতে ক্রেতাদের জন্য রাজধানীতে শুরু হয়েছে পাঁচ দিনের রিহ্যাব ফেয়ার। বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে দেশের সবচেয়ে বড় এ আবাসন মেলার আয়োজন করেছে রিয়েল এস্টেট অ্যান্ড হাউজিং অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (রিহ্যাব)। মেলার দ্বিতীয় দিন গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে সমাগম কম

থাকলেও বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ক্রেতা-দর্শনার্থীদের পদচারণায় মুখর হয়ে ওঠে। পাশাপাশি কোম্পানিগুলোর নানা অফার ও মূল্যছাড় মেলায় এনেছে ভিন্ন মাত্রা।

সরেজমিনে মেলা প্রাঙ্গণ ঘুরে দেখা গেছে, ক্রেতার চাহিদা অনুযায়ী বিভিন্ন দামের অ্যাপার্টমেন্ট ও প্লট নিয়ে এসেছে আবাসন প্রতিষ্ঠানগুলো। কেউ বুকিং দিচ্ছেন, কেউ আবার ঘুরেফিরে দেখছেন। মেলায় রয়েছে মান ও আয়তন যাচাই-বাছাই করে বুকিং দেওয়ার সুবিধা।

আবাসনসংশ্লিষ্ট কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, এবারের মেলায় ফ্ল্যাট কিংবা প্লট বুকিং দিলে বিশেষ মূল্যছাড় রয়েছে। বিশেষ করে রাজধানীর উত্তরা, বসুন্ধরা, মালিবাগ এলাকায় মধ্যবিত্তদের জন্য ৫০ লাখ থেকে শুরু করে আড়াই কোটি টাকার মধ্যে ডুপ্লেক্স বাড়ি কেনায় থাকছে বিশেষ সুবিধা।

গ্রাহকরা বলছেন, প্লট ও ফ্ল্যাট নিয়ে প্রতিষ্ঠানগুলোর নানা সুযোগ-সুবিধা থাকলেও মধ্যবিত্তের জন্য তা একটু কষ্টসাধ্য। তবে আবাসন প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতিনিধিরা বলছেন, চলতি সময়ে আবাসনের সব উপকরণের দাম বৃদ্ধি পেয়েছে। সে অনুযায়ী খুব একটা দাম বাড়েনি। তবে আগামী বছরগুলোতে ৩০-৪০ শতাংশ বাড়বে।

রূপায়ণ গ্রুপের মিডিয়া কো-অর্ডিনেটর মেহেদী হাসান দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘রূপায়ণ গ্রুপ সব ধরনের ক্রেতাদের কথা বিবেচনা করেই ফ্ল্যাট তৈরি করছে। তা ছাড়া মেলায় নানা ধরনের সুযোগ-সুবিধা দেওয়া হচ্ছে। যেটা অন্য সময় থাকে না। আর এটাই হচ্ছে রিহ্যাবের শেষ মেলা যেখানে ফ্ল্যাটের মূল্য স্বাভাবিক রয়েছে। কারণ আগামী বছরগুলোতে ৪০ শতাংশ পর্যন্ত দাম বৃদ্ধি পেতে পারে।’

তিনি আরও বলেন, ‘আবাসন তৈরিতে যেসব উপকরণ প্রয়োজন তার দাম দেড়গুণ থেকে দুইগুণ পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়েছে। যারা এখন ফ্ল্যাট কেনার পরিকল্পনা করছেন তাদের জন্য এটা সুবর্ণ সুযোগ।’

আমিন মোহাম্মদ গ্রুপের ল্যান্ড ডেভেলপমেন্টের মার্কেটিং ম্যানেজার মোস্তাফিজুর রহমান দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘এবারের মেলায় আমাদের টার্গেট থেকেও ভালো কিছু করতে পারব। কেননা করোনার আতঙ্ক কাটিয়ে অর্থনৈতিকভাবে মানুষের মনোযোগ বেড়েছে। দেশের মানুষ বিনিয়োগের দিকে ঝুঁকছে। মেলা উপলক্ষে সাভার, উত্তরা, মতিঝিলসহ ৬টি ল্যান্ড প্রজেক্ট রয়েছে আমাদের। এর মধ্যে মধ্যবিত্ত ও উচ্চবিত্ত দুই শ্রেণির জন্যই আমাদের কাছে ভূমি রয়েছে।’

মেলায় আসা বিভিন্ন ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান গৃহঋণের অফার দিচ্ছে ক্রেতাদের। কে কত কম সুদে ও কত সহজ শর্তে ঋণ দিতে পারবে, তা-ও জানা যাচ্ছে মেলায়। মেলা উপলক্ষে অধিকাংশ প্রতিষ্ঠান সর্বনিম্ন ৮ দশমিক ৫ শতাংশ সুদে ঋণ দিচ্ছে সর্বোচ্চ দুই কোটি টাকা পর্যন্ত। আবার কোনো কোনো প্রতিষ্ঠান শর্তসাপেক্ষে ৫ কোটি টাকার ঋণ নিয়ে গ্রাহকের অপেক্ষায় রয়েছে।

ডাচ-বাংলা ব্যাংকের রিলেশন অফিসার মো. গোলাম কবির দেশ রূপান্তরকে বলেন, মেলার আজ (গতকাল) দ্বিতীয় দিন। আজ পর্যন্ত মোট ৫০ জন গ্রাহক পেয়েছি, যারা আমাদের সঙ্গে কথা বলেছেন। তবে এখনো কেউ লোন নেননি। তবে তৃতীয় দিন থেকে এ সংখ্যা আরও বাড়বে। এবার আমরা ৮ দশমিক ৫ শতাংশ হারে আবাসন নির্মাণের জন্য সর্বোচ্চ দুই কোটি টাকা পর্যন্ত লোন দিচ্ছি। এই টাকা দিয়ে গ্রাহক ফ্ল্যাট প্রস্তুত কিংবা প্লট তৈরি করতে পারবেন।

রিহ্যাবসংশ্লিষ্টরা জানান, রিহ্যাব ফেয়ার-২০২২-এ রয়েছে ১৮০টি স্টল। এর মধ্যে তিনটি ডায়মন্ড প্যাভিলিয়ন, সাতটি গোল্ড স্পন্সর, ২২টি কো-স্পন্সর, ১৩টি বিল্ডিং ম্যাটেরিয়ালস ও ১০টি অর্থলগ্নিকারী প্রতিষ্ঠান। প্রতিবছরের মতো এ বছরও মেলায় দুই ধরনের টিকিট থাকছে। একটি সিঙ্গেল এন্ট্রি, অপরটি মাল্টিপল এন্ট্রি। সিঙ্গেল টিকিটের প্রবেশ মূল্য ৫০ টাকা। আর মাল্টিপল এন্ট্রি টিকিটের প্রবেশ মূল্য ১০০ টাকা। মাল্টিপল এন্ট্রি টিকিট দিয়ে একজন দর্শনার্থী মেলায় পাঁচবার প্রবেশ করতে পারবেন। এন্ট্রি টিকিটে পাওয়া অর্থ দুস্থদের সাহায্যার্থে ব্যয় করা হবে। এন্ট্রি টিকিটের রাফেল ড্র-তে থাকছে আকর্ষণীয় মূল্যবান পুরস্কার। প্রতিদিন মেলা শেষে রাত ৯টায় রাফেল ড্র অনুষ্ঠিত হবে।