তালিকাভুক্ত বেশকিছু কোম্পানি থেকে প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের ধারণ করা শেয়ার উল্লেখযোগ্য পরিমাণে কমেছে। ধারণা করা হয়, ফ্লোর প্রাইসের ফাঁদে পড়ে থাকার থেকে এসব শেয়ার ছেড়ে দেওয়াতেই তারা বেশি মনোযোগী ছিলেন। যথারীতি সেসব শেয়ার গেছে ব্যক্তিশ্রেণির বিনিয়োগকারীদের অ্যাকাউন্টে। গত নভেম্বর শেষে বিনিয়োগকারী ভেদে প্রকাশিত শেয়ার ধারণের হার পর্যালোচনায় এমন তথ্য মিলেছে।
পর্যালোচনায় দেখা গেছে, তালিকাভুক্ত ৩৫৩ কোম্পানির শেয়ারের মধ্যে ১৬৭ কোম্পানি থেকে প্রাতিষ্ঠানিক শেয়ার কমেছে। সংশ্লিষ্ট কোম্পানির মোট শেয়ার বিবেচনায় প্রায় ১ শতাংশ থেকে সর্বোচ্চ ১৭ শতাংশ কমেছে ৬২ কোম্পানি থেকে। বিপরীতে ১০৭ কোম্পানিতে কম-বেশি প্রাতিষ্ঠানিক শেয়ার বেড়েছে। তবে মোট শেয়ার বিবেচনায় প্রায় ১ শতাংশ থেকে প্রায় ১০ শতাংশ শেয়ার বেড়েছে ১৮ কোম্পানিতে।
যেমন গত নভেম্বরে কোনো কোম্পানির মোট শেয়ার বিবেচনায় সিনোবাংলা ইন্ডাস্ট্রিজ কোম্পানির প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগ কমেছে সবচেয়ে বেশি। গত অক্টোবরেও এ কোম্পানির ২২ দশমিক ৪৪ শতাংশ শেয়ার ছিল প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের। কিন্তু নভেম্বর শেষে তা মাত্র ৫ দশমিক ২ শতাংশে নেমে এসেছে। গত সেপ্টেম্বর শেষে তা ৭ দশমিক ২০ শতাংশ এবং অক্টোবর শেষে তা ২২ দশমিক ৪৪ শতাংশে উন্নীত হয়। এরপর নভেম্বরেই এখান থেকে বিপুল অঙ্কের বিনিয়োগ প্রত্যাহার করেন প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীরা।
ডিএসইতে সিনোবাংলার শেয়ারের দর পর্যালোচনায় দেখা গেছে, গত ২৪ অক্টোবরও এ শেয়ারটি ৫৮ টাকা দরে কেনাবেচা হয়েছে। হঠাৎ দর বেড়ে তা ১৮ নভেম্বর ৯৩ টাকা ৮০ পয়সাতে উন্নীত হয়েছিল। গত বৃহস্পতিবার শেয়ারটি ফের ৫৮ টাকার নিচে নেমেছে।
একই চিত্র দেখা গেছে ইস্টার্ন কেবলসের ক্ষেত্রে। গত অক্টোবর শেষেও এ কোম্পানির মোট শেয়ারের ২৫ শতাংশের বেশি ছিল প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের। কিন্তু নভেম্বর শেষে তা ১২ শতাংশে নেমেছে। এছাড়া ইনফরমেশন সার্ভিসেস কোম্পানিতে গত সেপ্টেম্বর শেষে প্রাতিষ্ঠানিক শেয়ার ছিল ১০ দশমিক ৫ শতাংশ। অক্টোবর শেষে তা ২২ দশমিক ৮৭ শতাংশে উন্নীত হয়। এক মাসের ব্যবধানে গত নভেম্বর শেষে ফের তা ১১ দশমিক ৩৯ শতাংশে নেমেছে। প্রায় একই রকম চিত্র ছিল নাভানা ফার্মা, ইন্ট্রাকো সিএনজি রিফুয়েলিং, আমরা টেকনোলজিস, সেনা কল্যাণ ইন্স্যুরেন্স, জেমিনি সি ফুডস, আইটি কনসালটেন্টস, দেশ জেনারেল ইন্স্যুরেন্স, ইন্দোবাংলা ফার্মা, হাক্কানি পাল্প এন্ড পেপার কোম্পানির ক্ষেত্রে। এই সবগুলো কোম্পানির ক্ষেত্রে প্রাতিষ্ঠানিক শেয়ার কমেছে মোট শেয়ার বিবেচনায় ৫ থেকে ১৩ শতাংশ। তাছাড়া খান ব্রাদার্স পিপি ওভেন ব্যাগ, বিডি কম, ঢাকা ডাইং, আনোয়ার গ্যালভানাইজিং, ফারইস্ট লাইফ, জেনেক্স ইনফোসিস, বিবিএস, ল্যুবরেফ, এইচআর টেক্সটাইল, সানলাইফ, প্রগতি লাইফ, আমান ফিড, জেএমআই হসপিটাল রিক্যুইজিট, কেয়া কসমেটিক্স, আল-হাজ্ব টেক্সটাইল, পেপার প্রসেসিং, ওরিয়ন ফার্মা, গ্লোবাল ইসলামি ব্যাংক, ইসলামী ব্যাংক, লাভেলো, বসুন্ধরা পেপারের ক্ষেত্রে কমেছে ২ থেকে প্রায় ৫ শতাংশ।