পাঁচ দিনে বিক্রি ৩৫১ কোটি টাকা

আশানুরূপ সাড়া নিয়ে শেষ হলো রিয়েল এস্টেট অ্যান্ড হাউজিং অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (রিহ্যাব) আয়োজিত আবাসন মেলা। পাঁচদিনে এই মেলায় এবার ৩৫১ কোটি টাকার ফ্ল্যাট-প্লট এবং বাণিজ্যিক স্পেস বিক্রি ও বুকিং হয়েছে। এর মধ্যে ফ্ল্যাট বিক্রি হয়েছে সবচেয়ে বেশি। যার পরিমাণ ১৬৮ কোটি টাকা। এছাড়া গৃহঋণ সংক্রান্ত ব্যাংক প্রতিশ্রুতি এসেছে প্রায় এক হাজার কোটি টাকা। গতকাল রবিবার রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে পাঁচ দিনব্যাপী মেলা শেষে সংবাদ সম্মেলনে এসব গণমাধ্যমের সামনে তুলে ধরেছেন রিহ্যাব নেতৃবৃন্দ।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, মেলায় প্রায় ৩৫১ কোটি ১৬ লাখ টাকার ফ্ল্যাট, প্লট এবং বাণিজ্যিক স্পেস বিক্রি ও বুকিং হয়েছে। এর মধ্যে ফ্ল্যাট বিক্রি এবং বুকিং হয়েছে ১৬৮ কোটি টাকা, প্লট ৮০ কোটি টাকা এবং বাণিজ্যিক স্পেস ৫৩ কোটি ৭৩ লাখ টাকার বুকিং ও বিক্রি হয়েছে। এছাড়া ব্যাংক কমিটমেন্ট এসেছে প্রায় ১ হাজার কোটি টাকার। মেলায় ক্রেতা-দর্শনার্থী এসেছেন ১৯ হাজার ২৩৭ জন।

মেট্রোরেলের কারণে উত্তরা এবং মিরপুরের দিকে ফ্ল্যাটের চাহিদা বেশি জানিয়ে সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, এ বছর অনেক অংশগ্রহণকারী প্রতিষ্ঠান ডিজিটাল মাধ্যমে তাদের পণ্য তুলে ধরেছেন। বিদেশ থেকেও প্রবাসীরা তাদের পণ্য সম্পর্কে খোঁজখবর নিয়েছেন।

রিয়েল এস্টেট অ্যান্ড হাউজিং অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (রিহ্যাব)-এর সহসভাপতি কামাল মাহমুদ বলেন, মেলা ২৫ ডিসেম্বর রাত ৯টা পর্যন্ত চলার কথা থাকলেও রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ অনুষ্ঠান থাকার কারণে দুপুর ২টার মধ্যেই শেষ করতে হলো। তবে নির্ধারিত সময়ের কয়েক ঘণ্টা আগে মেলা শেষ করা হলেও যে উদ্দেশ্যে মেলার আয়োজন করা হয় সেটা সফল হয়েছে। এই কয়েক দিনে ঢাকাবাসীর ব্যাপক সাড়া আবাসন খাতকে উৎসাহিত করেছে, আশান্বিত করেছে। মেলায় বিক্রির চেয়ে বেশির ভাগ প্রতিষ্ঠান আসে ব্র্যান্ডিংয়ের জন্য। তাদের সে উদ্দেশ্য সফল হয়েছে।

কামাল মাহমুদ বলেন, মেলায় অংশ নেওয়া প্রতিষ্ঠানগুলো মেলায় আসা ক্রেতার কাছে তাদের পণ্যের মান সম্পর্কে তুলে ধরেছেন। তারা ক্রেতা-দর্শনার্থীদের নার্সিং করবেন আর ক্রেতারা যে প্রোডাক্ট দেখে গেলেন, তা যাচাই-বাছাই করবেন এবং পরবর্তী সময়ে ফাইনাল সিদ্ধান্ত নেবেন। এক সঙ্গে অনেকগুলো ক্রেতা পাওয়া একমাত্র রিহ্যাব ফেয়ারেই সম্ভব।

এদিকে মেলার শেষ দিনে দর্শনার্থীদের পদচারণায় মুখর ছিল মেলা প্রাঙ্গণ। আবাসন প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকেও ছিল ছাড়সহ নানা অফারের ছড়াছড়ি। আবার অনেক দর্শনার্থী দুপুরের পর এসে মেলায় ঢুকতে না পেরে ফিরে গেছেন।

রামপুরা থেকে আসা দর্শনার্থী আলমগীর হোসেন বলেন, আমি মনে করেছি বিকেলেও মেলা থাকবে। এখন দেখলাম মেলায় প্রবেশপথ বন্ধ। কর্র্তৃপক্ষ বলছে মেলা শেষ। আগে থেকে জানা থাকলে সকালেই চলে আসতাম।

শেষ মুহূর্তে ছাড় পেয়ে ফ্ল্যাট বুকিং দেওয়া আমিনুল ইসলাম নামের এক ব্যবসায়ী বলেন, গত দুদিন ধরে মেলায় এসেছি। কিন্তু হিসাব কষতে কষতে একটু সময় লেগেছে। আজ লোকেশন ও ছাড়ের সঙ্গে মিলে যাওয়ায় বুকিং দিয়ে দিলাম।

 মেলা শেষ হলেও ডিসেম্বরের শেষদিন পর্যন্ত অফার চলমান থাকবে বলে জানিয়েছেন বিভিন্ন আবাসন প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তারা।

রূপায়ণ গ্রুপের মিডিয়া কো-অর্ডিনেটর মেহেদি হাসান বলেন, এবারের মেলায় আমাদের টার্গেট থেকেও ভালো কিছু করতে পারব। মেলা শেষ হলেও বছরের শেষদিন পর্যন্ত ক্রেতাদের জন্য সুযোগ-সুবিধা থাকবে। যারা ফ্ল্যাট কেনার চিন্তা করছেন। তাদের জন্য এ-বছরই স্বাভাবিক দামে ফ্ল্যাট কেনার শেষ সুযোগ থাকছে। কারণ আগামী বছরগুলোতে ৪০ শতাংশ পর্যন্ত দাম বৃদ্ধি পেতে পারে।

অ্যাসিউর গ্রুপের মার্কেটিং বিভাগের প্রধান আশীষ কুমার সরকার বলেন, শেষ সময়ে আমরা কাক্সিক্ষত গ্রাহক পেয়েছি। ক্রেতারা মেলায় এসে আমাদের সঙ্গে আলাপ আলোচনা করছেন। তারা যে ঠিকানা দিচ্ছেন সেটা ধরেই পরে আমাদের কর্মকর্তারা যোগাযোগ করবেন। ক্রেতারা সাইট ভিজিট করবেন। পছন্দ হলে তারপর বেচাবিক্রি হবে।