লক্ষ্মীপুর পৌর শহরের মাঝখান দিয়ে প্রবাহিত রহমতখালী খাল এক সময়ে ছিল লক্ষ্মীপুরের ঐতিহ্য। একসময় ভোলা-বরিশালসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে ধান-চাল-গমসহ বিভিন্ন পণ্যসামগ্রী নিয়ে আসা-যাওয়া করতেন ব্যবসায়ীরা। কিন্তু, রহমতখালী খালটি অবৈধ দখল থেকে উদ্ধার ও দূষণমুক্ত সম্ভব হয়নি ১২ বছরেও। এ নিয়ে দুর্ভোগসহ স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ বিরাজ করছে।
সদর উপজেলা ভূমি অফিস সূত্রে জানা গেছে, মজুচৌধুরীর হাটের রহমতখালী খালের উৎসমুখে ১৫০ থেকে ২০০ মিটার প্রশস্ত থাকলেও লক্ষ্মীপুর পৌর শহরের আশপাশ এলাকায় ১৫ থেকে ২০ মিটার, কোথাও ৩০ থেকে ৪০ মিটারে নেমে এসেছে। শত বছর আগে এ খালটির গড় প্রস্থ ছিল ১০০ থেকে ১৫০ ফুট।
স্থানীয়রা জানান, লক্ষ্মীপুরের হোটেল-রেস্তোরাঁ ও বাজারের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের বর্জ্য ড্রেনের পরিবর্তে ফেলা হচ্ছে পৌর শহরের প্রধান খালে। এতে একদিকে যেমন রহমতখালী খালের পানি ব্যবহারের অনুপযোগী হচ্ছে, তেমনি পরিবেশ দূষণ হচ্ছে মারাত্মকভাবে। প্রভাবশালীদের অবৈধ দখলে বিলীন হতে চলছে ঐতিহ্যবাহী রহমতখালী খাল। খালটি এক সময় খরস্রোতা নদীর মতো থাকলেও এখন অবৈধ দখল ও সংস্কারের অভাবে মৃতপ্রায়। শত বছরের রহমতখালী খালটি লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলার জকসিন, মান্দারী, গন্ধব্যপুরসহ নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ উপজেলার বর্ষার পানি নিষ্কাশনের প্রধান মাধ্যম। এই রহমতখালী খালের পানি দিয়ে বিভিন্ন মৌসুমে ইরিগেশনসহ খালপাড়ে সবজির চাষ করে কোটি কোটি টাকা আয় করতেন চাষিরা।
লক্ষ্মীপুর পৌর শহরের ব্যবসায়ী গিয়াস উদ্দিন জানান, এক যুগের বেশি সময় ধরে রহমতখালী খাল প্রভাবশালীদের দখলে আছে। নতুন করেও অনেকে দখল করছে। খালের ৬০ কিলোমিটার এলাকায় রাতে ও দিনে ইট-বালি আর মাটি দিয়ে ভরাট করে সংকুচিত করে ফেলেছে অবৈধ দখলদাররা। গত ১২ বছরে এক দিনের জন্য হলেও প্রশাসন উচ্ছেদ অভিযানে নামেনি।
লক্ষ্মীপুর বণিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক আবুল কালাম আজাদ বলেন, খালটি দখলমুক্ত ও সংস্কার করে পানি ব্যবহার উপযোগী করা গেলে জলাবদ্ধতা যেমন দূর হবে, তেমনি মানুষের দুর্ভোগ অনেকাংশে কমবে।
লক্ষ্মীপুর পৌরসভার মেয়র মোজাম্মেল হায়দার মাসুম ভূঁইয়া বলেন, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম শুরু করে অচিরেই পুলিশ ও জেলা প্রশাসনের মাধ্যমে খালগুলো দখলমুক্তির অভিযান পরিচালনা করা হবে।
লক্ষ্মীপুর পরিবেশ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক হারুনুর রশিদ বলেন, রহমতখালী খালে বিভিন্ন বর্জ্য ফেলে পানিদূষণের যে অভিযোগ তা স্থানীয় প্রশাসন ও পৌর প্রশাসনের মাধ্যমে পরিবেশ রক্ষায় অভিযান পরিচালনা করা হবে। লক্ষ্মীপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী ফারুক আহমেদ বলেন, রহমতখালীর অবৈধ দখল উচ্ছেদের ব্যাপারে পৌর মেয়র ও জেলা প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ করার চেষ্টা করছি।
সদর উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) মকবুল হোসেন জানান, রহমতখালী খালের দুই পাড়ে অবৈধ দখল উচ্ছেদ করা হবে।
জেলা প্রশাসক আনোয়ার হোছাইন আকন্দ জানান, খালের সৌন্দর্য ফিরিয়ে আনার জন্য প্রকল্প প্রস্তাবনা চাওয়া হয়েছে। তা অনুমোদন পেলে রহমতখালী খালের দুই পাড়ে ওয়াকওয়ে নির্মাণের কাজ শুরু করা হবে।