টিকিট মেশিন বিকলে বিড়ম্বনায় যাত্রীরা

মেট্রোরেল ভ্রমণের প্রথম দিন গতকাল বৃহস্পতিবার বিড়ম্বনায় পড়তে হয় যাত্রীদের। উত্তরা ও আগারগাঁওয়ে স্টেশনে মূল স্থানে স্থাপন করা অটোমেশিনগুলো প্রায় ছিল অকেজো। কয়েকটি সচল থাকলেও টিকিট কাটা হয়েছে ধীরগতিতে। পাশাপাশি সার্ভারও ছিল নষ্ট। প্রতিটি টিকিট কাউন্টারেই যাত্রীদের ভিড় ছিল। এই নিয়ে যাত্রীরা ছিলেন বেশ বিরক্ত। তবে স্টেশনে দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তা-কর্মচারীরা মেশিন মেরামত করতে প্রাণপণ চেষ্টা চালিয়েছেন। কাউন্টারের ভিড় বেড়ে যাওয়ায় স্টেশনের মূল গেইটের বাইরেও বহুদূর যায় অপেক্ষমাণ যাত্রীদের লাইন। 

উত্তরা ও আগারগাঁও স্টেশনে মেট্রোরেল প্রকল্পের এক কর্মকর্তা বলছেন, বড় নোট দিয়ে  মেশিনে টিকিট কাটার সময় বাকি টাকা ফেরত দিতে পারছে না মেশিন, কারণ ভেতরে পর্যাপ্ত টাকা রাখা হয়নি। সমস্যা হচ্ছে মূলত সে কারণেই। ক্ষুব্ধ হয়ে ডিএমটিসিএল’র  জেনারেল ম্যানেজার (অপারেশন) ইফতেখার হোসেন এক কর্মকর্তাকে উচ্চকণ্ঠে বকাঝকাও করছিলেন। ওই কর্মকর্তাকে তিনি বলছিলেন, আমরা এক মাস ধরে বলছি অপারেশনে যাব, কিন্তু আপনারা কী করলেন, এখন প্রেশার চারদিকে। মেশিনগুলো অচল হয়েছে কেন? কী করেন? জবাবে ওই কর্মকর্তাকে বলতে শোনা যায়, লোড পর্যাপ্ত নেই, বেশ কয়েকবার বলা হয়েছে, কিন্তু কোনো কাজ হয়নি। আমরা কী করব? এক পর্যায়ে তিনি ফোনের লাইন কেটে দিয়ে সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করেন।

প্রকল্পের আরেক কর্মকর্তা বলেন, যাত্রীরা নির্দিষ্ট পরিমাণের টাকা না এসে ৫শ, ২, ও ১শ টাকার নোট দিচ্ছেন মেশিনে। কিন্তু ভাড়ার নির্ধারিত টাকা নেওয়ার পর বাকি টাকা ফেরত দেওয়ার মতো পর্যাপ্ত টাকা মেশিনের ভেতরে নেই তা আমাদের জানা ছিল না। তিনি আরও বলেন, আমাদের প্রকৌশলীরা কাজ করছেন, ২-১ দিনের মধ্যে সব ঠিক হয়ে যাবে। তাছাড়া বাংলাদেশে তো প্রথম। এজন্য কিছুটা সমস্যা হচ্ছে। আশা করি সামনের দিনগুলোতে এসব সমস্যা থাকবে না।

সরেজমিনে দেখা গেছে, আগারগাঁওয়ের স্টেশনের দক্ষিণ পাশে তিনটি এবং উত্তর পাশে তিনটি অটোমেটেড টিকিট মেশিন রয়েছে। এগুলোর পাশেই রয়েছে একটি করে কাউন্টার। সেখানে লাইনে দাঁড়িয়ে হাতে হাতে টিকিট কেনা যায়। মেশিন কাজ না করায় ভিড় লেগে যায় ওই কাউন্টারে। স্টেশনের ভেতরে থাকা শামীম উর রশীদ নামে এক যাত্রী জানান, ৪০ মিনিট ধরে আমি কাউন্টারে দাঁড়িয়ে আছি। কিন্তু উনারা টিকিট দিতে পারছেন না। মেশিনগুলো নষ্ট বলে জানানো হয়েছে। পরে এনালগ থেকে টিকিটের কার্ড এনে বাকি টাকা ফেরত দিয়েছেন। এত কষ্টের পরও মনে কোনো আক্ষেপ নেই। ট্রেনে চড়তে পেরে নিজেকে ভাগ্যবান মনে হচ্ছে।

উত্তরা স্টেশনে এক যাত্রী জানালেন, অটোমেটেড মেশিনে ৬০ টাকা দেওয়ার পরও টিকিট আসেনি। ২৫ মিনিট অপেক্ষা করার পর তাকে কাউন্টার থেকে হাতে হাতে টিকিট দেওয়া হয়। তারপরও উঠে পড়ি স্বপ্নের মেট্রোরেলে। আগারগাঁও মেট্রোস্টেশনে ভেন্ডিং মেশিনে টিকিট কাটতে গিয়ে বিকল পান আশরাফুল ইসলাম। তিনি বলেন, ‘আমি ১০ জনের একটি লাইনে ছিলাম। প্রায় আধাঘণ্টা ধরে লাইনে দাঁড়িয়েছিলাম। আমার আগের ৯ জন টিকিট কেটেছেন। কিন্তু আমি টিকিট কাটতে গেলে মেশিন আর কাজ করছিল না। ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি বলেন, কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বললে তারা ম্যানুয়ালি টিকিট কাটতে বলেন। আমাকে আবার ম্যানুয়ালি টিকিট কাটতে হয়েছ কাউন্টার থেকে। ৩০ মিনিট দাঁড়িয়ে থাকার পরে আবার ম্যানুয়ালি টিকিট কাটা বিড়ম্বনা ছাড়া আর কিছু নয়। উত্তরা নর্থ স্টেশনে একই সমস্যায় পড়েন সাইফুল আলম। তিনি বলেন, ‘আমার আগে তিনজন ছিলেন। আমি তাদের পরে টিকিট কাটতে গিয়ে দেখি মেশিন বিকল। পরে আরেকটি মেশিনে গিয়ে টিকিট কেটেছি। প্রথম দিনেই টিকিট সিস্টেমের এই বিষয়টি ভালো লাগল না। এ বিষয়ে কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি দেওয়া উচিত ছিল। তারপরও আমরা খুশি।

 মেশিনের মতো কার্ড মেশিনও কাজ করেনি : টিকিটের কার্ড পেয়েও অনেকে কার্ড মেশিনে পাঞ্চ করতে গিয়ে বিড়ম্বনার শিকার হয়েছেন। উত্তরা উত্তর স্টেশন থেকে আগারগাঁও যাবেন সুমি ইসলাম। তিনি বলেন, টিকিট কেটে কার্ড নিয়ে প্রবেশের সময় মেশিনে দিই। কিন্তু মেশিন কার্ড নেয়নি। কয়েকবার চেষ্টা করেছি। কিন্তু যেতে পারিনি। পরে আবার টিকিট কাউন্টারে গিয়ে কার্ড পরিবর্তন করতে হয়েছে। আবদুল্লাহ আল মামুন নামে অপর এক যাত্রী বলেন, টিকিট কার্ড পাওয়ার পরও কার্ড মেশিন কাজ করেনি। প্রায় দশ মিনিট অপেক্ষা করেও ট্রেনে উঠতে পারিনি। বেলা ১২টা বেজে যাওয়ার পর কর্তৃপক্ষ ট্রেনে ওঠার অনুমতি দেননি। ওই কার্ড দিয়ে আরেকদিন ভ্রমণ করা যাবে বলে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে।

ডিএমটিসিএলের এক কর্মকর্তা বলেন, প্রথম দিন হওয়ায় অনেক চাপ পড়েছে। তাই মেশিন মাঝে মাঝে হ্যাং করছে। তবে ঠিক হয়ে যাবে। আগামী দিন (আজ) যাতে কোনো সমস্যা না হয় সেদিকে বিশেষ নজর দেওয়া হবে।