মালিবাগ পল্টন মতিঝিলে পুলিশ জামায়াত সংঘর্ষ

রাজধানীর মালিবাগ-মৌচাক এলাকায় জামায়াতে ইসলামীর নেতাকর্মীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষে ১০ পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন। তাদের হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। পল্টন ও মতিঝিল এলাকায়ও সংঘর্ষের খবর পাওয়া গেছে।

পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, সংঘর্ষের সময় গ্রেপ্তার হয়েছেন জামায়াতের ১১ জন। তাদের মধ্যে আহত দুজনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। 

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, দুপুর ২টার দিকে মগবাজার থেকে জামায়াতের একটি মিছিল বের হয়। মিছিলটি মৌচাক মোড়ে পৌঁছলে পুলিশের বাধায় কিছুটা পিছু হটে। পরে তারা মালিবাগের দিকে এগিয়ে গেলে পুলিশ তাদের ছত্রভঙ্গ করতে টিয়ার শেল ছোড়ে। এ সময় পুলিশের সঙ্গে জামায়াত কর্মীদের ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। এই ঘটনায় কয়েকজনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য রমনা থানায় নিয়ে যাওয়া হয়। পরে গ্রেপ্তার দেখানো হয় ১১ জনকে।

ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) গণমাধ্যম শাখা থেকে এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, শুক্রবার জামাত-শিবিরের ব্যানারে হঠাৎ মালিবাগ টাওয়ারের সামনে পুলিশের ওপর ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে হামলা চালায় জামায়াত-শিবিরের নেতাকর্মীরা। জুমার নামাজের পর অনুমতি ছাড়াই মিছিল শুরু করে জামায়াত। তারা মৌচাকে ধ্বংসাত্মক কর্মকাণ্ড শুরু করে। এতে বাধা দেওয়ায় পুলিশের ওপর হামলা শুরু করে। জামায়াতের ধ্বংসাত্মক কর্মকাণ্ডে বাধা দেওয়ায় পুলিশের ওপর অতর্কিত হামলায় ১০ জন পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন। তারা বর্তমানে পুলিশ হাসপাতালে ভর্তি হয়ে চিকিৎসা গ্রহণ করছেন। ঘটনাস্থল থেকে কয়েকজন জামায়াত-শিবির কর্মীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

ডিএমপির তথ্য অনুযায়ী, মৌচাকে জামায়াতের সঙ্গে সংঘর্ষে আহত পুলিশ সদস্যরা হলেন, নিউমার্কেট জোনের সহকারী পুলিশ কমিশনার শরীফ মোহাম্মদ ফারুকুজ্জামান, রমনা জোনের সহকারী পুলিশ কমিশনার মো. বায়েজীদুর রহমান, রমনা থানার উপরিদর্শক (এসআই) শহীদুল ওসমান মাসুম, এসআই সুবীর কুমার কর্মকার, এসআই হাবিবুর রহমান, এসআই মোহাইমিনুল হাসান, সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) কবির হোসেন, এএসআই মো. ফিরোজ মিয়া এবং পুলিশ অর্ডার ম্যানেজমেন্ট (পিওএম) পূর্ব বিভাগের কনস্টেবল সৌরভ নাথ ও কনস্টেবল সাদী মোহাম্মদ।

পুলিশের রমনা বিভাগের উপকমিশনার মো. শহীদুল্লাহ বলেন, ‘হামলাকারীদের হাতে জামায়াতের ব্যানার ছিল। তারা পুলিশের ওপর আক্রমণ করেছে। পুলিশ তাদের ছত্রভঙ্গ করে দিয়েছে। পরিস্থিতি এখন পুলিশের নিয়ন্ত্রণে আছে। কয়েকজনকে আটক করা হয়েছে।’

সংঘর্ষে আহত দুই জামায়াত কর্মীকে আটক করে ঢাকা মেডিকেলে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। তারা হলেন আল আমিন (২৫) ও আব্দুর সোবহান (৬২)। তাদের হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া রমনা থানার উপপরিদর্শক (এসআই) শফিকুল ইসলাম শফিক জানান, মৌচাক-মালিবাগ এলাকায় মিছিল করার সময় তারা আহত হন।

আহত আল আমিন তেজগাঁও ইউনিট (২৫ মেট্রো) জামায়াতের বাইতুল মাল সম্পাদক। বাসা নাবিস্কো এলাকায়। আর আব্দুর সোবহান জামায়াতকর্মী বলে জানা গেছে। আল আমিনের মাথায় আঘাত রয়েছে। আর অপরজনের হাতে আঘাত।

এদিকে জুমার নামাজের পর জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমের উত্তর ফটক থেকে মতিঝিলের শাপলা চত্বর পর্যন্ত এলাকায় পুলিশের সঙ্গে জামায়াতের কর্মীদের পাল্টাপাল্টি ধাওয়া ও সংঘর্ষ হয়। বিএনপির ঘোষিত ‘যুগপৎ কর্মসূচি’র গণমিছিলের সঙ্গে একাত্ম হয়ে শুক্রবার জামায়াতও ঢাকায় একই কর্মসূচি পালনের সিদ্ধান্ত নেয়।

ডিএমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) এ কে এম হাফিজ আক্তার গতকাল দুপুরে পল্টন মোড়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে বলেছেন, ‘বিএনপির গণমিছিলকে কেন্দ্র করে আমরা নিরাপত্তা বলয় রেখেছি যাতে জনগণের ভোগান্তি না হয়। ঢাকা শহরে যেহেতু জামায়াতে ইসলামীকে গণমিছিলের অনুমতি দেওয়া হয়নি তারা কোথায় করবে আমরা তা জানি না।’

তিনি আরও বলেন, জনদুর্ভোগ যাতে না হয়, সে লক্ষ্যে আমরা ঢাকা শহরে পুলিশ মোতায়েন করেছি। আগামীকাল থার্টি ফার্স্ট নাইট আর আজ রাজনৈতিক বিভিন্ন দলের কর্মসূচি রয়েছে।