দুর্নীতির মামলায় সু চির আরও সাত বছরের সাজা

সামরিক জান্তা শাসিত মিয়ানমারে দেশটির ক্ষমতাচ্যুত নেত্রী অং সান সু চিকে আরও ৭ বছর কারাদ- দিয়েছে আদালত। পাঁচটি দুর্নীতির অভিযোগে গতকাল শুক্রবার তাকে রুদ্ধদ্বার আদালতে এই দ- দিয়ে রায় ঘোষণা করা হয়। এ নিয়ে বিভিন্ন অভিযোগে গত ১৮ মাসে কয়েক দফা বিচারে সু চির ৩৩ বছরের কারদান্ড হলো। এএফপি।

মামলায় সংশ্লিষ্ট একটি আইনি সূত্র জানায়, সু চির (৭৭) বিরুদ্ধে ক্ষমতায় থাকাকালে একটি মন্ত্রণালয়ের জন্য হেলিকপ্টার ভাড়া নেওয়া ও রক্ষণাবেক্ষণে দুর্নীতির অভিযোগ আনা হয়েছে। নোবেল বিজয়ী এই নেত্রী গত বছর ক্ষমতাচ্যুত হন। এরপর থেকে তিনি কারাবন্দি।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ওই সূত্র জানিয়েছে, সু চির বিরুদ্ধে আর কোনো অভিযোগ নেই। গতকাল বিচার চলাকালে আদালতে সাংবাদিকদের ঢুকতে দেওয়া হয়নি। রাজধানীর নেপিদোর যে এলাকায় সু চিকে বন্দি করে রাখা হয়েছে সেখানে আদালতমুখী রাস্তায় আগে থেকেই যান চলাচল বন্ধ রাখা হয়।

সংশ্লিষ্ট আইনি সূত্রটি জানায়, সু চির সঙ্গে একই অভিযোগে গতকাল মিয়ানমারের সাবেক প্রেসিডেন্ট উইন মিন্টকেও একই মেয়াদে কারাদন্ড দেওয়া হয়েছে। তারা দুজনই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করবেন।

অন্য একটি সংবাদমাধ্যম জানায়, গত বছর ক্ষমতা দখলের পর এ পর্যন্ত মিয়ানমারের জান্তা যে ১৬ হাজার ৬০০ জনের বেশি লোককে আটক করেছে তার মধ্যে সু চি ও তার দলের অনেক সদস্যই আছে। অ্যাসিস্ট্যান্স অ্যাসোসিয়েশন ফর পলিটিক্যাল প্রিজনারস বলছে, আটকদের ১৩ হাজার এখনো কারাগারে।

গত সপ্তাহে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদ মিয়ানমারে সহিংসতা বন্ধ ও সব রাজনৈতিক বন্দিকে মুক্তির আহ্বান জানিয়েছিল। এই আহ্বানের পক্ষে রাশিয়া, চীন ভোট না দিলেও প্রস্তাবটির খসড়ায় কোনো সংশোধনী আনতে নিজেদের ভেটোক্ষমতাও ব্যবহার করেনি তারা।

অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল এর আগে বলেছিল, সু চির ওপর লাগাতার আইনি অত্যাচারই করে যাচ্ছে মিয়ানমারের সামরিক জান্তা। তারা রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে বা বিরোধীদের বিরুদ্ধে প্রহসনমূলক অভিযোগ আনতে আদালতকে কাজে লাগাচ্ছে।

মিয়ানমারের জান্তার বিরুদ্ধে বিচারবহির্ভূত হত্যা এবং বেসামরিক নাগরিকদের গ্রামে বিমান হামলা চালানোরও অভিযোগ আছে। গত বছর অভ্যুত্থানের পর ভিন্নমতাবলম্বীদের ওপর সামরিক বাহিনীর দমনপীড়নে এখন পর্যন্ত আড়াই হাজারের বেশি লোকের মৃত্যু হয়েছে বলে অনেকে অনুমান করছে।