চলতি বছর সারা বিশ্বে পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে ৬৬ সাংবাদিক ও সংবাদকর্মী নিহত হয়েছেন। এ সংখ্যা গত বছরের চেয়ে বেশি। বিশ^ দেখল পেশাগত দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে সাংবাদিকদের নিরাপত্তার ভয়াবহ অবনতি। ইন্টারন্যাশনাল প্রেস ইনস্টিটিউটের (আইপিআই) প্রতিবেদনে এমনটাই বলা হয়েছে। বাংলাদেশেও একজন নিহত হয়েছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
গত বৃহস্পতিবার আইপিআই গ্লোবাল নেটওয়ার্ক প্রতিবেদনটি প্রকাশ করে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পেশাগত কারণে এবং দায়িত্ব পালনের সময় বিশ^জুড়ে ৬৬ সাংবাদিক নিহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে ৮ জন নারী ও ৫৮ জন পুরুষ। আগের বছর নিহত হয়েছিলেন ৪৫ জন।
আইপিআই ৫ ক্যাটাগরিতে এ তালিকা করেছে। এর মধ্যে নিশানা করে হত্যা করা হয়েছে ৩৯ জনকে। এটা প্রমাণ করে যে, সাংবাদিকরা দায়িত্ব পালন করার কারণে খুন হচ্ছেন। সশস্ত্র সংঘাতের খবর সংগ্রহ করতে গিয়ে নিহত হয়েছেন ৭ জন। আগের বছর এ সংখ্যা ছিল ৩। নাগরিক সংঘাতের খবর সংগ্রহ করতে গিয়ে মারা গেছেন ২ জন। অ্যাসাইনমেন্ট করতে গিয়ে নিহত হয়েছেন ২ জন। বাকি ১৬ জনের মৃত্যুর প্রেক্ষাপট ও পেছনের কারণ নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তবে কর্মসূত্রে যে তাদের মৃত্যু হয়েছে এ অনুমান বাতিল করা যায় না।
আইপিআই ১৯৯৭ সাল থেকে সাংবাদিক, সম্পাদক, ফটোসাংবাদিক এবং সংবাদকর্মী যারা সরাসরি সংবাদের সঙ্গে জড়িত, যেমন ক্যামেরাপারসন, তাদের খুন হওয়া নিয়ে প্রতিবেদন তৈরি করে আসছে।
চলতি বছর সবচেয়ে বেশি সাংবাদিক নিহত হয়েছেন মেক্সিকোয়, ১৪ জন। ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধের খবর সংগ্রহ করতে গিয়ে নিহত হয়েছেন ৮ সাংবাদিক। তাদের মধ্যে ইউক্রেনীয় ও অন্য দেশের সাংবাদিক রয়েছেন।
এ ছাড়া হাইতিতে ৮, ফিলিপাইনে ৫, কলম্বিয়ায় ৪, ইকুয়েডর ও হন্ডুরাসে ৩ জন করে এবং ব্রাজিল, ভারত, মিয়ানমার, সিরিয়া ও ইয়েমেনে ২ জন করে নিহত হয়েছেন। বাংলাদেশ, শাদ, চিলি, গুয়াতেমালা, কেনিয়া, কাজাখস্তান, ফিলিস্তিন, প্যারাগুয়ে, সোমালিয়া, তুরস্ক ও যুক্তরাষ্ট্রে একজন করে সাংবাদিক নিহত হয়েছেন।
আইপিআই বলছে, চলতি বছর সাংবাদিকদের ওপর লোমহর্ষক সব হামলা দেখেছে বিশ^। গত মে মাসে পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি অভিযানের খবর সংগ্রহ করার সময় ইসরায়েলি বাহিনীর গুলিতে নিহত হন আলজাজিরার সাংবাদিক শিরিন আবু আকলেহ। এ ঘটনা বিশ^জুড়ে আলোড়ন সৃষ্টি করে।
সাংবাদিকদের ওপর হামলার বিচার নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে রাষ্ট্রগুলোর ব্যর্থতা সংবাদমাধ্যমের বিরুদ্ধে সহিংসতার উপযুক্ত ক্ষেত্র তৈরি করে চলছে বলে মন্তব্য করেছে আইপিআই। বিশ্বব্যাপী এই অপরাধের জন্য দায়মুক্তির অবসান ও সাংবাদিকদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে কর্তৃপক্ষের প্রতি আইপিআই আহ্বান জানিয়েছে।