কুয়াকাটা সৈকত থেকে অবাধে বালু তুলে ব্যবহার করা হচ্ছে একই ব্যক্তিগত মালিকানার মার্কেটের উন্নয়নকাজে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিষয়টি ভাইরাল হলে প্রতিবাদ জানিয়েছেন গণমাধ্যমকর্মীসহ পর্যটকেরা। ক্ষোভ আর হাতশা প্রকাশ করেছেন এলাকাবাসী এবং পর্যটন ব্যবসায়ীরা।
সরেজমিনে সোমবার (২ জানুয়ারি) সকালে কুয়াকাটা সি বিচে গিয়ে দেখা যায়, সৈকত লাগোয়া কুয়াকাটা টুরিস্ট পুলিশ বক্স থেকে সামান্য পশ্চিম দিকে সারিবদ্ধ ছাতার পেছনে তৈরি হয়ে আছে বিশাল গর্ত।
স্থানীয়রা জানান, শনিবার রাতে পাশেই অবস্থিত সরদার মার্কেটের উন্নয়নকাজের জন্য বালু তুলে নিয়েছে নুর মোহাম্মদ নামে এক ব্যক্তি। জমির মালিকানার দাবি তুলে এবং আদালতের রায়ের অজুহাতে সরদার মার্কেটের মালিক হিরু, সহযোগী সানরাইজ হোটেলের মালিক শাহজালাল ও কেয়ারটেকার নিজেদের প্রয়োজনে সৈকত থেকে বালু তুলে নিচ্ছেন। বিষয়টি কুয়াকাটা পৌর প্রশাসন, টুরিস্ট পুলিশ, থানা পুলিশ জানলেও অদ্যাবধি কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে সরদার মার্কেটর মালিক সাজেদুল ইসলাম হীরু দেশ রূপান্তরকে বলেন, নুর মোহাম্মদ নামে স্থানীয় এক মাটিকাটা ঠিকাদারের সঙ্গে লোকালয় থেকে মাটি এনে ভরাট করে দেওয়ার চুক্তি হয়েছে। কিন্তু নুর মোহাম্মদ তা না করে রাতে বিচ থেকে বালু তুলে আমাদের ভূমি উন্নয়নের জন্য ফেলেছে। এমন অপরাধমূলক কাজে আমাদের নির্দেশনা না থাকলেও নুর মোহাম্মদের এমন কর্মকাণ্ডে আমরা সামাজিকভাবে বেশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছি।
তিনি আরো বলেন, রবিবার জানার পরই নুর মোহাম্মদকে উক্ত জায়গা ভরাট করে দিতে বলা হলেও তিনি এখনো গড়িমসি করছেন।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে মাটিকাটা ঠিকাদার নুর মোহাম্মদ দেশ রূপান্তরকে বলেন, প্রতি হাজার মাটি ৪ হাজার টাকা চুক্তিতে সৈকতের জায়গা থেকে কেটে দিতে হিরু মিয়ার সঙ্গে মৌখিক চুক্তি হয়। সৈকত থেকে মাটি কাটার বিষয়ে অপারগতা প্রকাশ করলে হিরু সাহেবের ব্যবসায়িক পার্টনার শাহজালাল এবং কেয়ার টেকার পনু ওই জায়গা থেকেই কাটতে বলেন। তারা দাবি করেন, দলিল-পরচা অনুযায়ী ওই জমির মালিকানা তাদের।
তিনি আরো জানান, বিষয়টি নিয়ে গণমাধ্যমকর্মীরা ফোন দিলে দ্রুত গর্ত ভরাট করার জন্য বলেন হিরু, শাহজালাল ও পনু। কিন্তু খরচ প্রদানে অস্বীকৃতি জানানোয় তিনি কাজ করেননি।
জানতে চাইলে শাহজালাল বলেন, এ জায়গা ব্যবহারে প্রশাসনকে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে আদালত।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে কলাপড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শংকর চন্দ্র বৈদ্য দেশ রূপান্তরকে জানান, বিষয়টি জেনে স্থানীয় ভূমি সহকারী কর্মকর্তাকে (তহসিলদার) ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়েছে। তারা মালিকানাসহ আদালতের নিষেধাজ্ঞার বিষয়টি অবহিত করেছে। তারপরও ক্ষতিগ্রস্ত সৈকতের গর্ত ভরাটের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। কাগজপত্র পর্যালোচনা করে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেয়া হবে।