চট্টগ্রাম বন্দর ভবন ও কাস্টমস ভবনের সামনের প্রধান সড়কের চত্বরে বসছে এক নান্দনিক ফোয়ারা। প্রায় ৬ কোটি টাকায় নির্মিত হতে যাওয়া এই ফোয়ারায় গানের সুরের সঙ্গে ৪০০ নজল দিয়ে বের হওয়া পানিও নৃত্য করবে। ওপর ও নিচ উভয় দিকে পানি নামবে এবং বিভিন্ন রঙের আলোয় সাগরের ঢেউয়ের মতো খেলা করবে।
নান্দনিক এই ফোয়ারার ডিজাইন করেছেন স্টাইল লিভিং আর্কিটেক্ট লিমিটেডের প্রধান স্থপতি মোহাম্মদ মিজানুর রহমান। এই ফোয়ারার ডিজাইনের বিশেষত্ব সম্পর্কে তিনি দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘চট্টগ্রাম বন্দর হলো দেশের অর্থনীতির সমৃদ্ধির প্রবেশদ্বার। আমরা একটি ডায়নামিক জাতি। নিজেদের কর্ম-উদ্দীপনাকে কাজে লাগিয়ে যেমন সামনের দিকে অগ্রসর হচ্ছি। এই ঝরনার নকশায়ও ওপরের দিকে উঠে যাওয়ার দৃশ্য আনা হয়েছে।’
তিনি বলেন, যেহেতু সমুদ্রে জাহাজ চলাচল করে। ওখানে ঢেউ আছে। তাই এখানেও নজলের পানিগুলো ঢেউয়ের মতো ওঠানামা করবে। এছাড়া জাতীয় দিবসগুলোতে বিভিন্ন ধরনের থিম গানের সঙ্গে এখানে জলতরঙ্গ খেলা করবে। পুরো বিষয়টি হবে সফটওয়্যারের মাধ্যমে।
মিজানুর রহমান জানান, প্রায় ৬ কোটি টাকার বাজেট রয়েছে এই ফোয়ারা পেছনে। পুরো ফোয়ারাটি নির্মিত হবে চীনে। সেখান থেকে এনে বসানো হবে নির্ধারিত স্থানে।
নান্দনিক এই ফোয়ারা নির্মাণ করছে চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্র্তৃপক্ষ (সিডিএ)। সংস্থাটির এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে প্রকল্পের আওতায় ভাঙ্গা পড়েছিল বন্দর কর্র্তৃপক্ষের পুরনো ফোয়ারাটি। ১৯৮৭ সালে চট্টগ্রাম বন্দরের শতপূর্তি উপলক্ষে ‘সমৃদ্ধির স্বর্ণদ্বার, চট্টগ্রাম বন্দর’ সেøাগানে ফোয়ারাটি নির্মাণ করা হয়েছিল।
সিডিএর নির্বাহী প্রকৌশলী ও এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে প্রকল্পের পরিচালক প্রকৌশলী মাহফুজুর রহমান বলেন, ‘আমাদের প্রকল্পের আওতায় যেহেতু বন্দরের আগের ফোয়ারাটি ভাঙ্গা পড়েছিল, তাই আমরা এটি নতুন করে নির্মাণ করে দিচ্ছি। নতুন এই ডিজাইন বন্দর কর্র্তৃপক্ষ অনুমোদনও দিয়েছে।’
কবে নাগাদ এর নির্মাণকাজ শেষ হবে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমরা এখনো এর নির্মাণকাজ শুরু করতে পারিনি। এটি করতে পাঁচ থেকে ছয় মাস সময় লাগতে পারে। সে হিসেবে চলতি বছরই ফোয়ারার নির্মাণকাজ শেষ হবে তা বলা যায়।’
চট্টগ্রাম বন্দর কর্র্তৃপক্ষের (চবক) মুখপাত্র ও সংস্থাটির সচিব ওমর ফারুক বলেন, যেহেতু সিডিএ তার প্রকল্পের জন্য আমাদের ফোয়ারাটি ভেঙেছিল। সঙ্গতকারণেই তারা নতুন করে আরেকটি ফোয়ারা নির্মাণ করে দিচ্ছে। ফোয়ারাটি সুন্দর হবে সেটাই আমাদের প্রত্যাশা।’
বিমানবন্দর থেকে চট্টগ্রাম শহরে প্রবেশ করতে এই ফোয়ারাটি চোখে পড়বে। বন্দরের ফোয়ারাটি ছিল রাস্তার ওপর চট্টগ্রাম শহরের প্রথম ফোয়ারা। পরবর্তীতে জামালখান মোড়, জিইসি মোড়, টাইগারপাস মোড়সহ বিভিন্ন স্থানে ফোয়ারা নির্মিত হলেও বন্দর ভবনের সামনে ফোয়ারাটি ছিল অনন্য। এই ফোয়ারার পাশে চট্টগ্রাম বন্দর ভবন ছাড়াও কাস্টমস, বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশন ও বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের অফিস ভবন রয়েছে।