গাজীপুরের কাশিমপুর কারাগারে নিহত এক বৃদ্ধ হাজতির লাশ নিয়ে বিক্ষোভ করেছে নিহতের স্বজন ও এলাকাবাসী।
ওই বৃদ্ধের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলা মিথ্যা দাবি করে ক্ষোভে ফেটে পড়েন নিহতের এলাকা কালিয়াকৈর উপজেলার বাকচাপাইর গ্রামের লোকজন। মিথ্যা মামলা দায়েরকারীদের বিচার চেয়ে বৃদ্ধের লাশ নিয়ে ছয় ঘণ্টা বিক্ষোভ করেন তারা।
পরে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও গণ্যমান্য ব্যক্তিদের বিচারের আশ্বাসে গত সোমবার গভীর রাতে লাশ দাফন করা হয়।
নিহত বৃদ্ধ নেহাল উদ্দিন (৬৫) বাগচাপাইর এলাকার মৃত কানু মিয়ার ছেলে। তিনি পেশায় একজন মুদি দোকানদার ছিলেন।
নিহতের পরিবার, গ্রামবাসী, কারা কর্তৃপক্ষ ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গত ৬ নভেম্বর সকালে নিজ গ্রামে এক শিশুকে ধর্ষণের চেষ্টার অভিযোগ তুলে মুদি দোকানদার নেহাল উদ্দিনকে হামলা চালিয়ে মারধর করে রক্তাক্ত জখম করেন প্রতিবেশী মৃত আমির উদ্দিনের ছেলে শিপন মিয়া ও তার পরিবারের লোকজন।
পরে গুরুতর আহত অবস্থায় ওই বৃদ্ধকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে গ্রামবাসী। পরে শিশুকন্যাকে ধর্ষণের চেষ্টার অভিযোগ তুলে মা শিল্পী বেগম কালিয়াকৈর থানায় মামলা করলে ৮ নভেম্বর চিকিৎসাধীন অবস্থায় হাসপাতাল থেকে অসুস্থ নেহালকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পরে গাজীপুর আদালতের মাধ্যমে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়।
কাশিমপুর কারাগার-১-এ বন্দি অবস্থায় গত রবিবার রাতে নেহাল বুকে ব্যথা অনুভব করলে কারা হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়। কিন্তু অবস্থার অবনতি হলে তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দিন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসারত অবস্থায় রাত আড়াইটার দিকে তার মৃত্যু হয়। এরপর হাসপাতাল ও কারাগারের আইনি প্রক্রিয়া শেষে পরদিন সোমবার বিকেল ৫টার দিকে বৃদ্ধের লাশ গ্রামের বাড়ি বাগচাপাইর পৌঁছায়। খবর পেয়ে নিজ গ্রামসহ আশপাশের গ্রামের শত শত লোক নিহতের বাড়িতে ভিড় করে এবং পরিবারের সদস্যরাসহ লাশ নিয়ে বিক্ষোভ করে।
এ বিষয়ে ওই মামলার বাদী শিল্পী বেগমের সঙ্গে যোগাযোগ করা যায়নি।
নিহতের নাতি রাকিব মিয়া বলেন, ‘আমার দাদাকে বিনা দোষে ওরা হামলা চালিয়ে মারধর করে, রক্তাক্ত জখম করে আবার মিথ্যা মামলা দিয়ে জেলে পাঠিয়েছে। মারধরের কারণেই আমার দাদা কারাগারে মারা গেছে। আমরা এর বিচার চাই।’
স্থানীয় ইউপি সদস্য আনোয়ার হোসেন বলেন, ‘মামলার বাদী ও হামলাকারীদের বিচার চেয়ে বৃদ্ধের লাশ নিয়ে বিক্ষোভ করে গ্রামবাসী। পরে গণ্যমান্য ব্যক্তিদের আশ^াসে গভীর রাতে লাশ দাফন হয়।’
কালিয়াকৈর থানার ওসি আকবর আলী খান বলেন, ‘লাশ নিয়ে বিক্ষোভের বিষয়টি জানা নেই। তবে বিষয়টি খোঁজ খবর নিয়ে জানার চেষ্টা করছি।’