ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউরোসায়েন্সেস হাসপাতালের চাপ প্রতিনিয়তই বাড়ছে। সে চিন্তা মাথায় রেখেই হাসপাতালের সক্ষমতা বাড়ানোর একটি প্রকল্প হাতে নেয় সরকার। চিকিৎসাসেবায় আধুনিক যন্ত্রণপাতি কেনা এ প্রকল্পটির অন্যতম খাত। কিন্তু প্রকল্পটির কাজ ২০২৩ সালের জুনে শেষ হওয়ার কথা থাকলেও বিশ^ পরিস্থিতি ও ডলারের দাম বেড়ে যাওয়ায় যন্ত্রপাতিগুলো প্রাক্কলিত ব্যয়ে কেনা সম্ভব হচ্ছে না। তাই প্রকল্পটি বাস্তবায়নে আরও এক বছর সময় বাড়ানোর আবেদন করেছে স্বাস্থ্যসেবা বিভাগ। স্টিয়ারিং কমিটির সভায় যন্ত্রপাতি নির্দিষ্ট মেয়াদে কেনা সম্ভব না হলে আরেক প্রকল্পের মাধ্যমে এটি কেনার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
প্রকল্পটি ২০১৮ সাল থেকে শুরু হয়েছে। শেষ হওয়ার কথা ২০২৩ সালের জুনে। সম্প্রতি ‘এক্সপানশন অব ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউরোসায়েন্সেস অ্যান্ড হসপিটাল (প্রথম সংশোধিত), শীর্ষক প্রকল্পটির প্রজেক্ট স্টিয়ারিং কমিটির সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় প্রকল্পটির সময় বাড়ানোর যৌক্তিকতা শোনার পর এক বছর সময় বাড়িয়েছে কমিটি। এতে সভাপতিত্ব করেন স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের স্টিয়ারিং কমিটির সভাপতি ড. মুহাম্মদ আনোয়ার হোসেন হাওলাদার।
স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের অতিরিক্ত সচিব (পরিকল্পনা) মো. জাহাঙ্গীর হোসেন জানান, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের বাস্তবায়নাধীন স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের অধীনে ‘এক্সপানশন অব ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউরোসায়েন্সেস অ্যান্ড হসপিটাল (প্রথম সংশোধিত), শীর্ষক প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে। প্রকল্পটি উন্নয়ন বাজেটের আওতায় সম্পূর্ণ জিওবির অর্থায়নে প্রথম সংশোধনীতে ৯ দশমিক ২৬ শতাংশ ব্যয় বৃদ্ধিসহ মোট ৪৫৯ কোটি ২৯ লাখ টাকা প্রাক্কলিত ব্যয়ে বাস্তবায়িত হচ্ছে।
তিনি জানান, এ প্রকল্পে প্রধানত ১৫ তলা ফাউন্ডেশন (৩ তলা বেইজমেন্ট + ১২ তলা ভবন) বিশিষ্ট ১২ তলা হাসপাতাল ভবন নির্মাণ, ৬ তলা ফাউন্ডেশন বিশিষ্ট একটি ৬ তলা মাল্টিপারপাস ভবন নির্মাণ, দেশি বা বৈদেশিক যন্ত্রপাতি ও আসবাবপত্র সংগ্রহ এবং সরবরাহ ও সেবা রয়েছে।
এ সময় প্রকল্প পরিচালক ডা. মো. বদরুল আলম জানান, মূল প্রকল্প প্রস্তাবে (ডিপিপি) প্রণয়নকালে নিউরো রেডিওলজি অ্যান্ড ইমেজিং বিভাগের থ্রি টেসলা ৭০ সে.মি. বোর সাইলেন্ট ৬৪ চ্যানেল এমআরআই মেশিন উইথ অ্যাকসেসরিজ কেনার জন্য সাড়ে ১৮ কোটি ১ দশমিক ৫ টেসলা ৭০ সে.মি. বোর সাইলেন্ট ৬৪ চ্যানেল এমআরআই মেশিন উইথ অ্যাকসেসরিজের জন্য ১১ কোটি এবং ডুয়েল সোর্স ডুয়েল এনার্জি সিটিস্ক্যান মেশিন কেনার জন্য ১২ কোটি টাকা ধরা হয়েছিল। কিন্তু বর্তমানে বৈশ্বিক পরিস্থিতি ও ডলারের মূল্য বেড়ে যাওয়ায় ওই মেশিনগুলোর মূল্য প্রাক্কলিত মূল্যের চেয়ে অনেক বেশি হয়েছে। তা ছাড়া নতুন বিল্ডিংয়ে ৪টি অতিরিক্ত অপারেশন থিয়েটার স্থাপন করার প্রয়োজন হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, স্নায়ু ও স্নায়ুশৈল্য রোগীর সংখ্যাবৃদ্ধি ও গুরুত্ব বিবেচনা করে প্রকল্পটি বি-ক্যাটাগরি থেকে এ-ক্যাটাগরিতে আনয়ন করা প্রয়োজন। মাল্টিপারপাস ভবন নির্মাণসহ কেন্দ্রীয় শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা, লিফট স্থাপন, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, ওয়াশিং প্ল্যান্ট ও অক্সিজেন প্ল্যান্ট স্থাপনের কার্যক্রম যথাযথভাবে বাস্তবায়ন এবং পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে প্রকল্পের আওতায় যন্ত্রপাতি, এমএসআর সামগ্রী, আসবাবপত্র ও অফিস সরঞ্জামাদির কার্যক্রম সম্পন্ন করতে প্রকল্পে সময় আরও এক বছর বাড়ানো প্রয়োজন।
এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে প্রকল্প পরিচালক ডা. মো. বদরুল আলম দেশ রূপান্তরকে জানান, এলসি খোলার পর প্রতিষ্ঠানগুলো মাল সরবরাহ করতে সময় নেয়। মূলত তারা ডেলিভারি অর্ডার পাওয়ার পর যন্ত্রপাতিগুলো তৈরি করে। আর প্রকল্পের কাজ শেষ হওয়ার আগেই সেগুলো হাতে পাব বলে আশা করছি। তিনি বলেন, শুধু একটি কারণ নয়, এ প্রকল্পের মেয়াদ বাড়ছে বেশ কয়েকটি কারণে। আশা করছি প্রস্তাবিত নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যেই প্রকল্পের কাজ শেষ করতে পারব।
প্রকল্পটির অগ্রগতি পর্যালোচনায় দেখা যায়, চলতি ২০২২-২৩ অর্থবছরের এডিপি বরাদ্দ ৩৫৬ কোটি ২৬ লাখ টাকা, যার সম্পূর্ণ অংশ জিওবি বা সরকারি অর্থায়নে। ব্যয় হয়েছে ১৫ কোটি টাকা। চলতি অর্থবছরে আর্থিক অগ্রগতি ৪ দশমিক ২৩ শতাংশ এবং ভৌত অগ্রগতি ১৩ শতাংশ। গত অক্টোবর পর্যন্ত প্রকল্পের ক্রমপুঞ্জীভূত ব্যয় ১৮৬ কোটি ৪ লাখ টাকা । এ পর্যন্ত ক্রমপুঞ্জীভূত আর্থিক অগ্রগতি ৪০ দশমিক ৫১ শতাংশ এবং ভৌত অগ্রগতি ৬৩ শতাংশ।
প্রকল্প পরিচালক বলেন, ২০১৮তে ডিপিপি প্রণয়নকালে সরঞ্জামাদির যে বাজার দর বা মূল্য প্রাক্কলন করা হয়েছিল বর্তমান প্রেক্ষাপটে এ অর্থ দিয়ে তা ক্রয় করা সম্ভব নয়।
ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউরোসায়েন্স অ্যান্ড হসটিটালের পরিচালক বলেন, এক বছর সময়ের প্রয়োজন। ব্রেনের সূক্ষ্ম টিউমার চিকিৎসায় গামা লাইফ ব্যবহার করা হয়, যেটি ভারতে গত ২০ বছর ব্যবহৃত হচ্ছে। আমাদের এ হাসপাতালেও গামা নাইফ স্থাপনের সংস্থান রাখা হয়েছে, কিন্তু ইকুইপমেন্টের সংস্থান নেই। এটির ব্যবস্থা করা গেলে অনেক রোগীর বিদেশে চিকিৎসা গ্রহণের প্রয়োজন হতো না।
সভায় সভাপতি গামা লাইফের মূল্য এবং বিদ্যমান প্রকল্পের সময় বিবেচনায় একটি পৃথক প্রকল্পের মাধ্যমে কেনার পরামর্শ প্রদান দেন।
স্বাস্থ্য বিভাগের কার্যক্রম বিভাগের প্রতিনিধি বলেন, প্রকল্পটির মেয়াদ বৃদ্ধিসহ দ্বিতীয় সংশোধনী বিধায় এটি পরিকল্পনা কমিশন অনুমোদন করবে। তবে ব্যয় বৃদ্ধির বিষয়টি অবশ্যই যৌক্তিক হতে হবে।