ফরিদপুরের বোয়ালমারীতে খুনের ঘটনায় নিহতের পরিবারকে ১০ লাখ টাকা দিয়ে আপোষ মীমাংসার ঘটনা ঘটেছে বলে জানা গেছে।
সোমবার (২ জানুয়ারি) বিকেলে উপজেলা পরিষদ হলরুমে হত্যা মামলার আসামি এবং বাদিপক্ষের লোকেদের উপস্থিতিতে এ আপোষ মীমাংসা হয়।
জানা যায়, উপজেলার পরমেশ্বরদী ইউনিয়নের পরমেশ্বরদী গ্রামের আ. রাজ্জাক শেখের ছেলে মো. শহিদুল শেখ গ্রাম্য দলাদলিকে কেন্দ্র করে গত বছরের ২৩ জুলাই খুন হন। শহিদুল শেখ ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাবেক সহসভাপতি মাসুদ শেখের সমর্থক। ওই খুনের ঘটনায় ২৯ জনকে আসামি করে গত বছরের ২৬ জুলাই মামলা হয়। নিহতের ফুপাতো ভাই আ. মান্নান ওরফে টিন মান্নান বাদি হয়ে পরমেশ্বরদী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মান্নান মাতুব্বরকে প্রধান আসামি করে ওই মামলা করেন।
সোমবার (২ জানুয়ারি) বিকেলে উপজেলা পরিষদ হলরুমে শহিদুল শেখ খুনের ঘটনায় এক সালিশ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সালিশে নিহতের পরিবারকে ১০ লাখ টাকা এবং খুন পরবর্তী সহিংসতায় বাড়িঘর ভাঙচুরের শিকার হওয়া ক্ষতিগ্রস্ত আসামি পক্ষের লোকদের ক্ষতিপূরণ বাবদ ২ লাখ টাকা দেয়ার সিদ্ধান্ত হয়।
এ ব্যাপারে মাসুদ শেখ বলেন, সোমবার এ ব্যাপারে একটি সালিশ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এলাকায় শান্তি শৃঙ্খলা বজায় রাখার স্বার্থে আপোষ মীমাংসা হয়েছে। সালিশে আসামি পক্ষের লোকেরা নিহতের পরিবারকে ১০ লাখ টাকা এবং ওই সময় বাদি পক্ষের লোকজন কর্তৃক আসামি পক্ষের লোকদের বাড়িঘর ভাঙচুর করায় ক্ষতিপূরণ বাবদ ২ লাখ টাকা প্রদান করবে বলে সিদ্ধান্ত হয়েছে।
তবে মামলার বাদী আব্দুল মান্নান ওরফে টিন মান্নান সালিশ বৈঠকে কোন সিদ্ধান্ত হয়নি বলে জানান। দশ লাখ টাকা নিয়ে নিষ্পত্তির কথা তিনি অস্বীকার করেন।
এ বিষয়ে বোয়ালমারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মুহাম্মদ আব্দুল ওহাব বলেন, অর্থের বিনিময়ে সালিশ বৈঠক করে হত্যা মামলার মিমাংসার বিষয়টি জানা নেই। মামলার চার্জশিট দেওয়া হয়েছে। মামলাটি আদালতে চলমান রয়েছে।