কুষ্টিয়ায় স্কুলশিক্ষক রবিউল ইসলামকে কুপিয়ে হত্যার দায়ে ৭ জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডসহ অর্থদণ্ডের আদেশ দিয়েছেন আদালত।
মঙ্গলবার (৩ জানুয়ারি) বিকেল ৪টায় কুষ্টিয়া জেলা ও দায়রা জজ অতিরিক্ত আদালত-১ র বিচারক মো. তাজুল ইসলাম সাজাপ্রাপ্ত সব আসামির অনুপস্থিতিতে এই রায় ঘোষণা করেন।
যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্তরা হলেন: কুষ্টিয়া সদর উপজেলার ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় (ইবি) থানার রঞ্জিতপুর গ্রামের মোকাদ্দেস আলীর দুই ছেলে ফিরোজ ও দেলবার। ফিরোজের ছেলে সবুজ, দেলবারের ছেলে মিজান, একই গ্রামের ইয়ার আলীর ছেলে হোসেন আলী, সদর উপজেলার গজনবীপুর গ্রামের আফি উদ্দিনের ছেলে সাইদুল ইসলাম এবং শৈলকুপা উপজেলার সিরামপুর গ্রামের রফি উদ্দিনের ছেলে হেলাল।
রায় ঘোষণার সময় সাজাপ্রাপ্তরা সবাই পলাতক ছিলেন বলে নিশ্চিত করেছেন রাষ্ট্রপক্ষের কৌসুলি অ্যাড. অনুপ কুমার নন্দী।
আদালত সূত্রে জানা যায়, ২০০৫ সালের ২৯ ডিসেম্বর দুপুরের দিকে স্কুল থেকে বাড়ি ফেরার পথে স্কুল সংলগ্ন এলাকায় পূর্ব শত্রুতার জেরে রনজিতপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের শিক্ষক রবিউল ইসলামকে ধারালো অস্ত্রের আঘাতে কুপিয়ে হত্যা করে। এ ঘটনায় নিহতের শ্বশুর শামছের আলী হত্যাকাণ্ডের পরদিন ইবি থানায় ১০ জনের নামোল্লেখসহ অজ্ঞাতদের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা দায়ের করেন।
মামলাটি তদন্ত শেষে ২০০৬ সালের ৩১ আগস্ট ইবি থানার উপ-পরিদর্শক আব্দুল কুদ্দুস জড়িতদের বিরুদ্ধে অভিযোগ এনে চার্জশিট দেন।
এ ব্যাপারে কুষ্টিয়া জেলা ও দায়রা জজ আদালতের রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী অ্যাড. অনুপ কুমার নন্দী বলেন, ‘প্রায় ১৭ বছর আগের এই শিক্ষক হত্যা মামলার বিবাদীরা উচ্চ আদালতে গিয়ে স্থগিতাদেশ নেওয়ার কারণে মামলা নিষ্পত্তিতে এত বেশি কালক্ষেপন হয়েছে। জড়িতদের বিরুদ্ধে অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণ হওয়ায় ৭ জনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। সেই সাথে সাজাপ্রাপ্তদের প্রত্যেককে পৃথকভাবে ২৫ হাজার টাকা জরিমানা অনাদায়ে আরও ৬ মাসের সাজা খাটার আদেশ দিয়েছেন আদলত।