গাইবান্ধা-৫ (ফুলছড়ি-সাঘাটা) আসনের উপনির্বাচনে আওয়ামী লীগ প্রার্থী মাহমুদ হাসান রিপন বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। মোট ১৪৫টি কেন্দ্রের মধ্যে রাত সাড়ে ১১টা পর্যন্ত ১৪০টির পাওয়া ফলাফলে তিনি ভোট পেয়েছেন ৭৬ হাজার ১৫ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জাতীয় পার্টির গোলাম শহীদ রঞ্জু পেয়েছেন ৪৩ হাজার ৯৫৯ ভোট।
গতকাল বুধবার সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ভোট অনুষ্ঠিত হয়েছে। ভোটে কোনো ধরনের অনিয়ম বা অপ্রীতিকর ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি। তবে সকালে কনকনে শীতের দাপটে ভোটারদের উপস্থিতি ছিল একেবারেই শীতে কাবু ভোটে আওয়ামী লীগ প্রার্থী নির্বাচিত কম। সকাল থেকে ভোটকেন্দ্রগুলোতে পুরুষ ভোটারদের দেখা গেলেও নারী ভোটারদের উপস্থিতি ছিল হাতেগোনা। কিন্তু বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে এ চিত্র পাল্টে যেতে থাকে। কেন্দ্রগুলোতে বুথের সামনে নারী ভোটারদের দীর্ঘ লাইন দেখা যায়।
এদিকে গাইবান্ধা-৫ আসনে দ্বিতীয়বারের উপনির্বাচন নিয়ে সন্তুষ্ট সিইসি কাজী হাবিবুল আউয়াল। ভোট শেষে তিনি বলেছেন, গাইবান্ধা-৫ উপনির্বাচনের শুরুটাও সুন্দর ছিল, শেষটাও চমৎকার ছিল। কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি। সেদিক থেকে নির্বাচনটা সফল হয়েছে। গড়ে ৩৫ শতাংশের মতো ভোট পড়েছে।
ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিনে (ইভিএম) ভোটগ্রহণে কোনো ধীরগতি ছিল না দাবি করে সিইসি বলেন, সেরকম কোনো অভিযোগও ছিল না। ভোটে সিসি ক্যামেরা নতুন সংযোজন জানিয়ে তিনি বলেন, এটি অনেক তীক্ষè, সূক্ষ্ম ও কার্যকর হচ্ছে। প্রার্থীরাও গুরুত্ব দিচ্ছেন।
সিইসি বলেন, যে অভিজ্ঞতা অর্জন করছি তাতে আমাদের সক্ষমতা বাড়ছে। জাতীয় নির্বাচনে সেটা আরও সমৃদ্ধ করবে বলে আশা করি।
নির্বাচন কমিশন সূত্র জানায়, সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত ছয় উপজেলায় ২৫-৩০ শতাংশ ভোট পড়ে। দুপুরের পর থেকে ভোট প্রদানের হার কিছুটা বাড়ে। তবে শেষ পর্যন্ত গড়ে ৩৫ শতাংশের মতো ভোট পড়েছে। এ বিষয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে হাবিবুল আউয়াল বলেন, অসন্তুষ্ট হতাম যদি কেউ বলত ভোট দিতে যেতে বাধা দিচ্ছে। প্রচণ্ড শীতের কারণে ভোটার কম হয়েছে বলে মনে হয়েছে।
এদিকে এবার ভোটে বড় দুই দল আওয়ামী লীগ ও জাতীয় পার্টি অংশগ্রহণ করলেও তাদের বেশিরভাগ নেতাকর্মী ও সমর্থকদের মধ্যে ছিল না কোনো উত্তেজনা বা উত্তাপ। তাদের নিষ্ক্রিয় দেখা গেছে ভোটের মাঠে। আগের ভোটে তারা বাড়ি গিয়ে ডেকে ডেকে ভোটার আনলেও এবার তা লক্ষ করা যায়নি। ভোটকেন্দ্রের সামনে ছিল না কোনো সেøাগান। প্রার্থীরা ভোটকেন্দ্রে এলেও ছিল না মুহুর্মুহু করতালি।
ভোটে আগ্রহ ছিল না সাধারণ মানুষের : একই আসনে দুবার ভোটের আয়োজন হওয়ায় আগ্রহ ছিল না ভোটারদের মধ্যে। আগেরবারের তুলনায় এবারের নির্বাচনে ভোটারের উপস্থিতি ছিল একেবারেই কম। গত ১২ অক্টোবর ভোট বন্ধ হয়ে যাওয়ায় অনেকেই এবারের ভোটে আগ্রহ হারিয়ে ফেলেন। ভোটারদের কাছে ভোটারের উপস্থিতি কম কেন জানতে চাইলে একজন বলেন, ‘এক ভোট কয়বার দেমো।’
ইভিএমের প্রভাব : এবার গোপন কক্ষে ভোটার ছাড়া অন্যদের প্রবেশে কড়াকড়ি থাকায় অসুস্থ ও বৃদ্ধদের ভোট দিতে আসতে দেখা যায়নি। কেননা ব্যালটের মাধ্যমে হলে আগের নির্বাচনগুলোতে দেখা গেছে হুইল চেয়ার ও কোলে করে তাদের পরিবারের একজন সদস্য সঙ্গে গিয়ে ভোট দিতে সহযোগিতা করতে। কিন্তু ভোটকেন্দ্রে আসতে দুয়েকজন অসুস্থ ও বৃদ্ধ ব্যক্তি ছাড়া এবার সেই চিত্র চোখে পড়েনি।
নৌকা-লাঙ্গল ছাড়া অন্যদের এজেন্ট নেই : নির্বাচনে চারজন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। বেশিরভাগ কেন্দ্রেই নৌকা ও লাঙ্গল প্রতীকের এজেন্ট ছাড়া অন্য প্রার্থীর এজেন্ট দেখা যায়নি। যারাও দায়িত্বে ছিলেন তারা ছিলেন চুপচাপ। ফলে কোনো ধরনের চাপ ছাড়াই ভোটাররা তাদের পছন্দের প্রার্থীকে সুষ্ঠুভাবে ভোট দিয়েছেন।
আওয়ামী লীগের প্রার্থী মাহমুদ হাসান রিপন বলেছেন, পুনঃঘোষিত উপনির্বাচন অবাধ ও সুষ্ঠু হয়েছে। ভোটাররা উৎসবমুখর পরিবেশে ভোট দিয়েছেন। জাপা মনোনীত গোলাম শহীদ রঞ্জু বলেছেন, গত উপনির্বাচনে ভোট দিতে পারিনি। কিন্তু এবার শান্তিপূর্ণভাবেই ভোট দিয়েছি। বিকল্প ধারা বাংলাদেশের প্রার্থী জাহাঙ্গীর আলম বলেন, শান্তিপূর্ণভাবেই ভোট হয়েছে।
গাইবান্ধার পুলিশ সুপার মো. কামাল হোসেন বলেছেন, প্রশাসনের কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া ও সংশ্লিষ্টদের সহযোগিতার কারণে শান্তিপূর্ণ নির্বাচন সম্ভব হয়েছে। একই বিষয়ে জেলা প্রশাসক মো. অলিউর রহমান বলেন, জেলা প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসন ও নির্বাচন সংশ্লিষ্ট সবার সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করার কারণে শান্তিপূর্ণ নির্বাচন সম্পন্ন করা সম্ভব হয়েছে।
রিটার্নিং কর্মকর্তা ও ঢাকা বিভাগের আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা মো. ফরিদুল ইসলাম জানান, এ আসনে ইভিএমে ১৪৫টি কেন্দ্রের ৯৫২টি বুথে ভোটগ্রহণ করা হয়। এর মধ্যে বিদ্যুৎ সরবরাহ না থাকায় নয়টি কেন্দ্রে জেনারেটরের মাধ্যমে ইভিএম মেশিন চালানো হয়। প্রতি বুথে সিসিটিভি ক্যামেরা ছিল। এখানে মোট ভোটার ৩ লাখ ৩৯ হাজার ৯৮ জন।
এ আসন থেকে চলতি একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নির্বাচিত সংসদ সদস্য ও ডেপুটি স্পিকার ফজলে রাব্বী মিয়া গত বছর ২৩ জুলাই মারা যান। এরপর আসনটি শূন্য হয়। তফসিল ঘোষণার পর উপনির্বাচন হয় গত বছর ১২ অক্টোবর। এদিন অনিয়ম ও জালিয়াতির অভিযোগে দুপুরে ভোটগ্রহণ বন্ধ করে ইসি।