‘এজলাসে অশালীন আচরণ’

ব্রাহ্মণবাড়িয়া বারের শীর্ষ দুই নেতাকে হাইকোর্টে তলব

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় বিচারকের সঙ্গে অশালীন আচরণ, গালিগালাজ, হুমকি ও এজলাসে হট্টগোলের অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে জেলা আইনজীবী সমিতির (বার) সভাপতি, সম্পাদকসহ তিন আইনজীবীকে তলব করেছে উচ্চ আদালত। গতকাল বৃহস্পতিবার বিচারপতি জে বি এম হাসান ও বিচারপতি রাজিক আল জলিলের হাইকোর্ট বেঞ্চ স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে রুলসহ তলবের এ আদেশ দেয়।

আগামী ১৭ জানুয়ারি জেলা বারের সভাপতি মো. তানভীর ভূঞা, সম্পাদক (প্রশাসন) মো.  আক্কাস আলী ও আইনজীবী জুবায়ের ইসলামকে হাইকোর্টে হাজির হয়ে ব্যাখ্যা দিতে হবে। রুলে এ তিন আইনজীবীর বিরুদ্ধে কেন আদালত অবমাননার কার্যক্রম গ্রহণ করা হবে না তা জানতে চেয়েছে হাইকোর্ট।

গত ২ জানুয়ারি জেলার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-১ এর এজলাসে হট্টগোলের এ ঘটনা ঘটে। এ সময় বিচারক মোহাম্মদ ফারুক ও আদালতের কর্মচারীদের সঙ্গে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করা হয় বলে অভিযোগ করেছেন বিচারক। জেলা বারের সভাপতি ও অন্য আইনজীবীদের বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার ব্যবস্থা নিতে সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেল বরাবর চিঠি দিয়েছেন তিনি।

বিচারক ওই চিঠিতে উল্লেখ করেন, গত ১ জানুয়ারি এজলাসে বিচারকাজ শেষে নেমে যাওয়ার পরে বারের সেক্রেটারির নেতৃত্বে কয়েকজন আইনজীবী এসে আদালতের কর্মচারীদের হুমকি দেন। এর আগে গত ১ ডিসেম্বর সিআর মামলার ফাইলিং সমাপ্ত করার পর বিকেলে পুনরায় ২/৩ জন আইনজীবী আবার সিআর মামলার ফাইলিংয়ের জন্য চাপ সৃষ্টি করে আদালতে হট্টগোল করেন। এছাড়া  বারের সভাপতি ও সম্পাদক বিনা অনুমতিতে বিচারকের খাস কামরায় প্রবেশ করে বিচারককে এজলাসে উঠতে নির্দেশ দেন।

চিঠিতে আরও বলা হয়, গত ২ জানুয়ারি এজলাসে বিচারকাজ চলাকালে জেলা বারের সভাপতি, সম্পাদকসহ ১০/১৫ জন আইনজীবী অশালীন ও অসৌজন্যমূলকভাবে তাকে (বিচারক) এজলাস থেকে নেমে যেতে বলেন। বারের সভাপতি উচ্চস্বরে অশ্রাব্য ভাষায় গালিগালাজ করে এজলাসে উঠে আসার হুমকি দেন।

চিঠি পাওয়ার পর প্রধান বিচারপতি বিষয়টি নিষ্পত্তি করতে বিচারপতি জে বি এম হাসানের নেতৃত্বে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চকে দায়িত্ব দেয়।

গতকাল হাইকোর্টে রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল তুষার কান্তি রায়। দেশ রূপান্তরকে তিনি বলেন, ‘ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিচারক তার প্রতি অসৌজন্যমূলক আচরণ ও গালিগালাজের অভিযোগ এনে প্রতিকার চেয়ে সুপ্রিম কোর্টে চিঠি দিয়েছিলেন। হাইকোর্ট আজ (গতকাল) জেলা বারের সভাপতিসহ তিনজনকে তলব করে আদালত অবমাননার রুল দিয়েছে।’

প্রসঙ্গত, এজলাসের ওই ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। ঘটনার পর আদালতের কর্মচারী ও আইনজীবী সমিতির পাল্টাপাল্টি কর্মসূচিতে ব্রাহ্মণবাড়িয়া আদালতের কার্যক্রমে এক প্রকার অচলাবস্থা তৈরি হয়েছে।

তিনদিনের কর্মবিরতি : জেলা ও দায়রা জজ এবং নারী ও শিশু নির্যাতন ট্রাইব্যুনালের বিচারকের অপসারণসহ বিভিন্ন দাবিতে জেলা বার আরও তিনদিন আদালত বর্জনের কর্মসূচি শুরু করেছে বলে জানিয়েছেন আমাদের ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি। কর্মবিরতি চলবে ৯ জানুয়ারি পর্যন্ত। গতকাল বৃহস্পতিবার থেকে এ কর্মসূচি শুরু করেছেন আইনজীবীরা। সকাল থেকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া আদালতের এজলাসে কোনো আইনজীবী যাননি। ফলে দুর্ভোগে পড়েছেন বিচারপ্রার্থীরা।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক মফিজুর রহমান বাবুল বলেন, ‘আমরা যখন জেলা আইনজীবী সমিতি নিয়ে নারী ও শিশু নির্যাতন ট্রাইব্যুনালের বিচারকের অশালীন মন্তব্যের প্রতিবাদ করেছি তখন ব্রাহ্মণবাড়িয়ার জেলা ও দায়রা জজ সংকট উত্তরণের বদলে উসকে দিয়েছেন। তাই সব দল-মতের আইনজীবীদের আলোচনার মাধ্যমে তিন দফা দাবিতে বৃহস্পতিবার থেকে ৯ জানুয়ারি পর্যন্ত আদালত বর্জনের ঘোষণা দিয়েছি। দাবিগুলো হলো ব্রাহ্মণবাড়িয়ার জেলা ও দায়রা জজ শারমিন নিগারের অপসারণ, নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-১ এর বিচারক মোহাম্মদ ফারুককে অনতিবিলম্বে অপসারণ এবং জেলা জজকোর্টের দুর্নীতিবাজ দুর্বৃত্ত চাঁদাবাজ প্রধান নাজির মমিনুল ইসলামকে অপসারণ। এসব দাবি ৯ জানুয়ারির মধ্যে না মেনে নিলে আইনজীবীরা আরও কঠোর কর্মসূচি দিতে বাধ্য হবেন বলেও জানিয়েছেন তিনি।