শিশুর স্কুল প্রতিবন্ধকতা

শিশুর স্কুল শুরুতে মানসিক ও আবেগীয় সমস্যা সমাধানে উন্নত দেশের স্কুলে এডুকেশন সাইকোলজিস্ট থাকে। শুধু সাইকোলজিস্টই যথেষ্ট নয়, মা-বাবাকে সচেতন থাকতে হয়। মা-বাবা শিশুর সমস্যা বুঝতে পারলে সমাধান সহজ হয়। লিখেছেন প্যারেন্টিং গবেষক শ্যামল আতিক

          প্রথমদিকে ভর্তির পর অনেক শিশু স্কুলে যাওয়ার আগে অবিরাম কান্না করতে থাকে। এর আগে শিশুকে আপনি কখনো আলাদা রাখেননি। এই প্রথম সে আপনার কাছ থেকে বিচ্ছিন্ন হচ্ছে। বিচ্ছেদের ভয় থেকেই এই কান্না। এটা নিয়ে আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই। ক্লাসের সহপাঠীদের সঙ্গে মিশতে শুরু করলে, তা ঠিক হয়ে যায়। 

          স্কুলে যাওয়ার আগে শিশু বমি করতে পারে অথবা ‘পেটব্যথা করছে’এ ধরনের কথা বলতে পারে। যখনই বলবেন আজ স্কুলে যেতে হবে না, দেখবেন এই সমস্যাগুলো নেই। এর মানে হচ্ছে স্কুলের প্রতি তার এক ধরনের অনীহা বা ভীতি তৈরি হয়েছে।

          যদি দেখেন শিশু স্কুলে যাওয়ার সময় আস্তে-ধীরে যায়, স্কুলে অথবা যানবাহনে ঘুমিয়ে পড়ে, আগ্রহ ও উদ্দীপনার অভাব দেখা দেয়তাহলে বুঝতে হবে স্কুলের পড়াশোনা শিশুর মধ্যে অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করছে অথবা স্কুলের পরিবেশ শিশুর জন্য আনন্দদায়ক নয়।

          মাঝেমধ্যে শিশু বাসায় এসে বলতে পারে কেউ আমাকে পছন্দ করে না, কেউ আমাকে খেলাধুলায় নিতে চায় না। মাঝেমধ্যে এটা হতেই পারে। কিন্তু যদি প্রায়ই এসব কথা বলে বুঝতে হবে শিশু অন্যদের সঙ্গে মিশতে পারছে না অথবা বুলিংয়ের শিকার হচ্ছে। শিশুর মধ্যে এমন কিছু আচরণগত ত্রুটি রয়েছে, যার ফলে অন্য শিশুরা তাকে এড়িয়ে চলছে।

          যদি দেখেন শিশু কোনো নির্দিষ্ট শিক্ষকের কাছে যেতে চায় না অথবা ভয় পাচ্ছে অথবা তাকে দেখলে কান্না করছেতাহলে বুঝতে হবে এই শিক্ষক দ্বারা শিশু শারীরিক অথবা মানসিক নিপীড়নের শিকার হচ্ছে। যৌন নিপীড়নও হতে পারে। এ ক্ষেত্রে অভিভাবক হিসেবে আপনার করণীয় হচ্ছেওই শিক্ষক সম্পর্কে একটু ভালো করে খোঁজ নেওয়া, প্রয়োজনে স্কুল কর্তৃপক্ষকে এ বিষয়টি অবহিত করা।

পরিশেষ

বেশির ভাগ মা-বাবা স্কুলশিশুদের এই চ্যালেঞ্জগুলো বুঝতে পারেন না। আসলে অনুপযোগী পাঠ্যক্রম, ভুল শিক্ষণ পদ্ধতি, নিপীড়নমূলক শৃঙ্খলা এবং খেলাধুলা ও সহশিক্ষার অভাবের কারণে স্কুলের প্রতি শিশুদের বিতৃষ্ণা জন্ম নেয়, শিশুদের মানসিক স্বাস্থ্য ক্ষতিগ্রস্ত হয়। তাই সমস্যা উত্তরণে শিক্ষার পরিবেশ উন্নতির পাশাপাশি কাউন্সেলিংয়ের ব্যবস্থাও করতে হয়।